ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ভোট যুদ্ধে ফখরুল-অলি

১৯৯১ সালের পর আবারও সরাসরি ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট)। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিতব্য এ ভোট যুদ্ধে মুখোমুখি হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।দুই প্রার্থীর কেউই নির্ধারিত সময়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় এবার রাষ্ট্রপতি পদে সরাসরি ভোট গ্রহণের প্রয়োজন হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ভোট শেষে সংসদ কক্ষেই ব্যালট গণনা হবে। গণনা শেষে নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ফল ঘোষণা করবেন। পরে নির্বাচন কমিশন থেকে গেজেট প্রকাশ করা হবে। [TECHTARANGA-POST:678]সংসদে কার কত ভোটজাতীয় সংসদের মোট সদস্য সংখ্যা ৩৫০। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৪ আসনে সংসদ সদস্যপদ বাতিল হওয়ায় এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৯ জনে। বিএনপি-২৪৭ জন, জামায়াতে ইসলামী-৭৭ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-৮ জন, স্বতন্ত্র-৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-৩ জন, অন্যান্য ছোট দল মিলিয়ে-৬ জন; সব মিলিয়ে ভোটার ৩৪৯ জন।সংসদে সংখ্যার দিক থেকে বিএনপি অনেক এগিয়ে। দলটির ২৪৭ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। বিপরীতে জামায়াতের ৭৭ জন সংসদ সদস্যের সঙ্গে এনসিপি ও অন্যান্য শরিক দলের সদস্যরা অলি আহমদের পক্ষে রয়েছেন।জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে। ফলে সংসদীয় সংখ্যার হিসাবে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অনেকটাই এগিয়ে। তবে যেহেতু দুই প্রার্থী মাঠে রয়েছেন, তাই আইন অনুযায়ী ভোটগ্রহণ ও ভোট গণনা করেই আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করতে হবে।৩৫ বছর পর কেন আবার রাষ্ট্রপতি পদে ভোট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাধারণত সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জনকারী দলের প্রার্থী নির্বাচিত হন। তবে গত কয়েক দশকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী না থাকায় সংসদে ভোট দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। একজন প্রার্থী থাকায় তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুজন প্রার্থী থাকায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার কেবল জাতীয় সংসদ সদস্যরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সংসদ কক্ষেই ভোট অনুষ্ঠিত হবে।৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সি এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য যেকোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি হতে পারেন। তবে মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হিসেবে থাকতে হয়। ভোটের সময় সংসদ সদস্যরা নির্ধারিত ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নাম লিখে এবং নিজের স্বাক্ষর দিয়ে তা নির্বাচনি কর্মকর্তার কাছে জমা দেন। প্রত্যেক সংসদ সদস্যের একটি করে ভোট থাকে। স্পিকারও এই নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন। ভোট গণনা প্রকাশ্যেই করা হয়। সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আর ভোট সমান হলে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান রয়েছে।ভোট গ্রহণের সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভোট হবে জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে। ভোট শুরুর আগে নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার পদ্ধতি বুঝিয়ে দেবেন। এরপর শুরু হবে ভোটগ্রহণ।বিকেল ৫টা পর্যন্ত ব্যালট গ্রহণ করা হবে। সব ভোট এর আগেই শেষ হয়ে গেলে গণনার প্রক্রিয়া শুরু করার সুযোগ থাকবে। তবে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা থাকবে।ভোটগ্রহণ যেভাবে হবেরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যালটে দুটি অংশ থাকবে। একটি অংশে থাকবে ব্যালটের ক্রমিক নম্বর, সংসদ সদস্যের নাম এবং বিভক্তি নম্বর। সংসদ সদস্য পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করবেন।অন্য অংশে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর নাম থাকবে। প্রার্থীদের নাম বাংলা বর্ণমালার ক্রমানুসারে সাজানো থাকবে। ভোট দেওয়ার নির্ধারিত স্থানে সংসদ সদস্যকে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হবে। এরপর ব্যালট নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে জমা দিতে হবে। ব্যালটের রঙ হবে সাদার ওপর কালো ছাপা।ভোটগ্রহণের জন্য সংসদ কক্ষে তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স রাখার ব্যবস্থা করা হবে। সংসদ সদস্যরা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ভোট দিয়ে ব্যালট বাক্সে ব্যালট জমা দেবেন। ভোট শেষ হওয়ার পর সংসদ কক্ষেই ব্যালট বাক্স খোলা হবে এবং গণনা করা হবে।কে কাকে ভোট দিয়েছেন জানা যাবেরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্য কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন তা জানা যাবে। সাধারণ ভোটে ভোটারদের গোপনীয়তা থাকলোও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটারদের গোপনীয়নতা থাকে না।এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন,ভোটাররা গোপন ব্যালটে নয়, ভোট দেবেন প্রকাশ্যে ‘ওপেন’ ব্যালটে। কে কাকে ভোট দিচ্ছেন তা উপস্থিত সবার কাছে দৃশ্যমান থাকবে।এ নিয়ে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রয়োগ নিয়েও রাজনৈতিক ও আইনগত আলোচনা তৈরি হয়েছে।৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে বিতর্কসংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্যপদ শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট সংসদ ভবনে হলেও এটি সংসদীয় কার্যক্রমের সাধারণ ভোট নয়; এটি একটি পৃথক সাংবিধানিক নির্বাচন। এই কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদের প্রয়োগ কীভাবে হবে, তা নিয়ে আইনগত বিতর্ক দেখা দিয়েছে।এ নিয়ে আদালতে রিটও হয়েছে। তবে ভোটের তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই।সংসদ কক্ষে প্রচারণা করা যাবে নারাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অধিবেশন কক্ষে কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্প্রচারণা, বক্তব্য বা ভাষণ দেওয়া যাবে না উল্লেখ করে সিইসি বলেছেন,ভোটগ্রহণকালে সংসদ অধিবেশনে কক্ষে ভোটের প্রচার-প্রচারণা করা যাবে না। তবে সংসদ ভবনের বাইরে প্রচারণার বিষয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসংক্রান্ত আইনে প্রচার-প্রচারণা নিয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।ফল কখন জানা যাবেভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সংসদ কক্ষেই ব্যালট গণনা করা হবে। গণনার সময় প্রথমে হিসাব করা হবে- কতজন সংসদ সদস্য ভোট দিয়েছেন, কতটি ব্যালট বৈধ, কতটি ব্যালট বাতিল, কতটি ব্যালট অব্যবহৃত, প্রত্যেক প্রার্থী কতটি বৈধ ভোট পেয়েছেন। এরপর যে প্রার্থী সর্বাধিক বৈধ ভোট পাবেন, নির্বাচনী কর্তা তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন। অর্থাৎ ভোটের ফল জানার জন্য পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। ভোট গণনা শেষ হলেই ফল ঘোষণা করা হবে।ভোটের ফল ঘোষণা করার পর নির্বাচন কমিশন থেকে নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে। ফলে ২০ আগস্টই ফল ঘোষণা এবং গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি রয়েছে।শুক্রবার শপথনির্বাচনের পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এ কথা জানান।রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদরাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ নিয়ে সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বৎসরের মেয়াদে রাষ্ট্রপতি তার পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন: তবে শর্ত থাকে যে, রাষ্ট্রপতির পদের মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তার উত্তরাধিকারী-কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকবেন। একাদিক্রমে হোক বা না হোক-দুই মেয়াদের অধিক রাষ্ট্রপতির পদে কোনো ব্যক্তি অধিষ্ঠিত থাকবেন না।তফসিল কবে ঘোষণা হয়েছিলরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় ৬ আগস্ট। তফসিল অনুযায়ী-৩ আগস্ট, মনোনয়নপত্র জমা; ১৬ আগস্ট, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই; ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল। আর ভোটগ্রহণ ২০ আগস্ট দুপুর ২টা–বিকেল ৫টা।মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন। এরপরই রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হলে মির্জা ফখরুলের কী হবেমির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে সংসদ সদস্য। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সংবিধান অনুযায়ী তার সংসদীয় আসনটি শূন্য হবে এবং পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে তার ছেড়ে দেওয়া আসনে উপনির্বাচনের আয়োজন করবে ইসি।রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব কীবাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান। সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার মূল কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা হলেও রাষ্ট্রপতির গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে।রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন, সংসদ আহ্বান ও অধিবেশন সমাপ্তির ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেন, সংসদে পাস হওয়া বিলে সম্মতি দেন এবং সংবিধান ও আইনে নির্ধারিত বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবেও রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক অবস্থান রয়েছে।৯১-এর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে লড়াইয়ের মাঠে আব্দুর রহমান বিশ্বাস ও বদরুল হায়দার চৌধুরী১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি তাদের তৎকালীন স্পিকার আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে প্রার্থী করে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান আইনসভার সদস্য ছিলেন। ১৯৭৯ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জিয়াউর রহমানের সরকারে মন্ত্রী এবং পরে বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।সেসময় আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে রাষ্ট্রপতি করার বিএনপির এ সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তুলেছিল আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি বিরোধী দল। আব্দুর রহমান বিশ্বাসের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভূমিকা প্রশ্ন তোলা হয়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি পদে একজন সক্রিয় দলীয় রাজনীতিকের পরিবর্তে নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে বসানোর দাবি তোলা হয়েছিল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। তবে বিএনপি আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে রাষ্ট্রপতি করার সিদ্ধান্ত থেকে না সরলে  আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করে সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে।বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কার আমলে কে রাষ্ট্রপতি ছিলেন১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপতি হন বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদ। এরপর ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রপতি করে একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে। তবে  সম্পর্কের অবনতি ঘটলে মাত্র আট মাসের মাথায় তাকে পদত্যাগ করতে হয়। পরে রাষ্ট্রপতি হন ইয়াজউদ্দিন আহমদ। ২০০৬ সালের রাজনৈতিক সংকটের সময় ইয়াজউদ্দিন আহমদ নিজেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন। এরপর দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসে।২০০৮ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের নির্বাচনি বিজয়ের পর রাষ্ট্রপতি হন জিল্লুর রহমান। ২০১৩ সালে তার মৃত্যুর পর প্রথমে ভারপ্রাপ্ত এবং পরে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ আবদুল হামিদ। প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। ২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল তার মেয়াদ শেষ হয়। সংবিধান অনুযায়ী একজন ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন না। এরপর ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। পরে তার পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ভোট যুদ্ধে ফখরুল-অলি