ঢাকা    শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩
ঢাকা    শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩
দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর

তোমাদের পাশে আছি: অকৃতকার্যদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় যারা ভালো ফলাফল করেছেন, তাদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি যেসব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন বা আশানুরূপ ফল করতে পারেননি, এগিয়ে যাওয়ার পথে তাদের পাশে থাকার বার্তা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই বার্তা দিয়েছেন।মন্ত্রী লিখেছেন, ‘আজ যারা পাস করেছো, তোমাদের সবাইকে অভিনন্দন। এই ফলের পেছনে শুধু তোমাদের নিজেদের পরিশ্রম নেই, সঙ্গে আছে তোমাদের শিক্ষকদের যত্ন আর পরিবারের সাপোর্ট।’ অকৃতকার্য এবং আশানুরূপ ফলাফল করতে না পারেদের উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, ‘যারা এবার প্রত্যাশিত ফল পাওনি, তোমাদের বলব, মন খারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে এই সময়ে নিজেকে একা ভেবো না। পরিবারের সঙ্গে, শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলো। একটি পরীক্ষার ফল দিয়ে তোমার সবটুকু যোগ্যতা বোঝা যায় না, ভবিষ্যৎও নির্ধারিত হয়ে যায় না। একটু সময় নাও, নিজের ওপর বিশ্বাস রেখো। এগিয়ে যাওয়ার পথে আমরা তোমাদের পাশে আছি।’এবারের ফলাফল সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার সঙ্গে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘পাসের হার আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে। একইসঙ্গে এই ফল শিক্ষার্থীদের শেখার অর্জন ও ঘাটতি সম্পর্কে একটি বাস্তব চিত্র সামনে এনেছে। এই ঘাটতি কাটিয়ে কীভাবে শিক্ষার মান বাড়ানো যায় এবং শিক্ষার্থীদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করা যায়, সেটিই এখন আমাদের লক্ষ্য।’ তিনি মনে করেন, ‘কম পাসের হার আমাদের অর্জন নয়। আমাদের সাফল্য হবে, যখন শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে শিখে, আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরীক্ষা দিয়ে, নিজের যোগ্যতায় ভালো ফল করবে।’[TECHTARANGA-POST:826]মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর দায় চাপিয়ে আমাদের দায়িত্ব শেষ হতে পারে না। শ্রেণিকক্ষে যথাযথ পাঠদান হচ্ছে কি না, তারা প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছে কি না, প্রশ্নপত্র ও মূল্যায়ন যথাযথ হচ্ছে কি না- সবই গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করতে হবে। পরীক্ষায় সততা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভালোভাবে শেখার সুযোগ নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব।’এবার এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন পরীক্ষার্থীকে এক মাসের মধ্যে কেবল ওই বিষয়গুলোয় আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একটি বা দুটি বিষয়ের জন্য দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষা করার পরিবর্তে তারা যেন প্রস্তুতি নিয়ে দ্রুত আবার চেষ্টা করতে পারে, সেই সুযোগ আমরা তৈরি করছি।’শিক্ষক ও অভিভাবকদের কাছে মন্ত্রীর অনুরোধ, ‘এই সময়ে শিক্ষার্থীদের কোথায় অসুবিধা হচ্ছে, তা বুঝে প্রস্তুতিতে সাহায্য করুন। অভিভাবকদের বলব, সন্তানের কথা শুনুন, অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে তাকে আশ্বস্ত করুন। সে যেন অনুভব করে, ফল যা-ই হোক, পরিবারের কাছে তার ভালোবাসা ও সম্মানের জায়গাটি অটুট আছে।’ সবশেষে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা চাই, প্রতিটি শিক্ষার্থী ভালোভাবে শেখার সুযোগ পাবে, ন্যায্য মূল্যায়ন পাবে এবং পিছিয়ে পড়লে আবার এগিয়ে যাওয়ার সহায়তা পাবে। শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়েই এই দায়িত্ব পালন করতে চাই।’এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী। এ বছর পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।এবার গত বছরের তুলনায় জিপিএ-ফাইভ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। এবার সারাদেশে ৪০ হাজার ৮৪ জন জিপিএ-ফাইভ পেয়েছেন। গত বছর এই সংখ্যাটি ছিল ৬৯ হাজার ৯৭ জন। সে হিসাবে জিপিএ-ফাইভ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।

তোমাদের পাশে আছি: অকৃতকার্যদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী