ঢাকা    শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
ঢাকা    শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর

৮৫৯ রানের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার অবিশ্বাস্য জয়

দীর্ঘদিন পর ওয়ানডেতে চারশর অধিক রানের তাড়া দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। যেখানে ৪২৯ রান করেও জিততে পারেনি ইংল্যান্ড। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার জয় ২ উইকেটে। রাওয়ালপিন্ডিতে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে ইংল্যান্ডের পাহাড়সম রান এক বল বাকি থাকতেই টপকে যায় লঙ্কানরা।জয়ের জন্য শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কার দরকার আট রান, হাতে উইকেট চারটি। দুই বলে দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা শঙ্কায় পড়ে গেল তারা। তবে পঞ্চম বল লং-অফ দিয়ে ছক্কায় উড়িয়ে দিলেন জানিথ লিয়ানাগে। শ্রীলঙ্কার ড্রেসিং রুম তখন দারুণ উচ্ছ্বসিত। কয়েকজন ক্রিকেটার ডাগআউট থেকে ছুটে গেলেন মাঠে। উইকেটের দুই ব্যাটসম্যানকে ঘিরে চলতে থাকল তাদের আনন্দ-উল্লাস। [TECHTARANGA-POST:795]ওয়ানডে ক্রিকেটের ৫৫ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জয়ের রেকর্ড এটি। সেই ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় জিতে এখনও চূড়ায় আছে দক্ষিণ আফ্রিকা।গোটা ম্যাচে রান হয়েছে মোট ৮৫৯। এই সংস্করণে এক ম্যাচে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এখানেও চূড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার ওই ম্যাচের ৮৭২ রান।ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের রেকর্ড গড়া ডাবল সেঞ্চুরির পর, রান তাড়া শুরুর আগে শ্রীলঙ্কার জয়ের সম্ভাবনা ছিল প্রায় শূন্যের কোঠায়। ২৪ রানে ২ উইকেট হারিয়ে আরও পেছনে চলে যায় তারা। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইংলিশদের রীতিমতো মাটিতে নামিয়ে আনল তারা অভাবনীয় এক জয়ে।শ্রীলঙ্কার হয়ে সেঞ্চুরি করেন একজন, দুই জন আউট হন সেঞ্চুরি থেকে ৩ রান দূরে থাকতে।১১ চার ও দুই ছক্কায় ৮৩ বলে ৯৭ রানের ইনিংসে ভিত গড়ে দেন ওপেনার আভিশকা ফার্নান্দো। চার নম্বরে নেমে ১৫ চার ও তিন ছক্কায় ১০৬ বলে ১৩০ রানের ইনিংসে দলকে টানেন পাভান রাত্নায়াকে।আট ছক্কা ও ছয় চারে ৫০ বলে ৯৭ রান করেন অভিজ্ঞ দাসুন শানাকা। পাঁচ নম্বরে ২৭ বলে অপরাজিত ৬১ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন লিয়ানাগে।বিফলে গেল ব্রুকের ২১ চার ও ১০ ছক্কায় ১১৬ বলে ২০২ রানের চমৎকার ইনিংস। দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন তিনি ১১৪ বলে।এই সংস্করণে ব্রুকই প্রথম ক্রিকেটার, যিনি ডাবল সেঞ্চুরি করেও পরাজয়ের তেতো স্বাদ পেলেন। দলের হারের ম্যাচে আগের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর ছিল চার্লস কভেন্ট্রির অপরাজিত ১৯৪, ২০০৯ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে।শ্রীলঙ্কা আগে কখনও ৩২২ রানের বেশি তাড়া করে জিততে পারেনি। নতুন রেকর্ড গড়ার চ্যালেঞ্জে তাদের শুরুটা হয় জোড়া ধাক্কা দিয়ে। চতুর্থ ওভারে কামিন্দু মেন্ডিস বিদায় নেন ১৮ রান করে, পরের ওভারে অধিনায়ক কুসাল মেন্ডিস রান আউট হন শূন্য রানে।সেই ধাক্কা সামলে ১৩৭ বলে ১৬৬ রানের দারুণ জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন আভিশকা ও রাত্নায়াকে। সেঞ্চুরির দুয়ারে গিয়ে জেমি ওভারটনের বাড়তি বাউন্সে বোলারকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আভিশকা।রাত্নায়াকের ছক্কায় শ্রীলঙ্কা দুইশ স্পর্শ করে ২৯তম ওভারে। শানাকা শুরু থেকেই চালান তাণ্ডব। তাদের জুটির শতরান স্পর্শ করে ৬৪ বলে। রাত্নায়াকে দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৮৭ বলে। তার প্রথম সেঞ্চুরিও ছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে কলম্বোতে।স্যাম কারানের বলে ক্যাচ দিয়ে থামেন রাত্নায়াকে। থামে ৭৯ বল ১৩৩ রানের জুটি। কারানের পরের ওভারে তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে ৯৬ রানে পৌঁছে যান শানাকা। আরেকটি ছক্কার চেষ্টাতেই পরের ওভারে লিয়াম ডসনের বলে লং-অনে ধরা পড়েন তিনি।তখনও শ্রীলঙ্কার দরকার ছিল ৩৬ বলে ৬৭ রান। পরের ওভারেই তিনটি চারে লিয়ানাগে তুলে নেন ১৪ রান। ৪৭তম ওভারে কারানের প্রথম তিন বলে দুটি চার ও একটি ছক্কা মারেন তিনি, পঞ্চম বলে চার মেরে শেষ বলে ফেরেন সাহান আরাচ্চিগে।৪৯তম ওভারে কেবল ৫ রান দিয়ে ইংল্যান্ডকে লড়াইয়ে রাখেন ওভারটন। শেষ ওভারে ৮ রানের প্রয়োজনে জশ টাংয়ের প্রথম বলে এক রান নেন লিয়ানাগে। পরের দুই বলে বোল্ড হন দুনিথ ওয়েলালাগে ও ইশান মালিঙ্গা। জমে ওঠে লড়াই।চতুর্থ বলে আসিথা ফার্নান্দো এক রান নিয়ে স্ট্রাইকে দেন লিয়ানাগেকে। এরপর তার ওই ছক্কায় শ্রীলঙ্কার জয়োল্লাস। ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন রাত্নায়াকে।

৮৫৯ রানের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার অবিশ্বাস্য জয়