ঢাকা    সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
ঢাকা    সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর

স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথও কি রুদ্ধ হচ্ছে আ.লীগের?

প্রায় দুই বছর ধরে দেশের রাজনীতি থেকে অনেকটা উধাও দোর্দণ্ড প্রতাপের সঙ্গে সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ। দলটির সভাপতিসহ বেশির ভাগ নেতা পলাতক। একটি বড় অংশ কারাগারে রয়েছে। লাখ লাখ নেতাকর্মী ছন্নছাড়া অবস্থায় দিন যাপন করছেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় গত ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আওয়ামী লীগ। দরজায় কড়া নাড়ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এবার এই নির্বাচন দলীয়ভাবে হচ্ছে না। ফলে আওয়ামী লীগের অনেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ধীরে ধীরে রাজনীতিতে ফিরে আসার ছক কষছেন।[TECHTARANGA-POST:586]তবে তাদের পথে অনেকটা কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে আওয়ামী লীগের কেউ যেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে সেই ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে। নির্বাচন কমিশন এখনো এ ব্যাপারে কিছু জানায়নি। ক্ষমতাসীন বিএনপিও স্পষ্ট করে কিছু বলেনি। এই অবস্থায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশ নেওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।  [TECHTARANGA-POST:588]সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন কমিশনে লিখিত আবেদন জমা দিয়ে দাবি জানিয়েছে, নিবন্ধন স্থগিত থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া আইন ও বিদ্যমান বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। দলটির মতে, জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে নীতি অনুসরণ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই নীতি বজায় রাখা উচিত।জামায়াতের নেতারা বলছেন, সব রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করাই নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত হয়। ফলে দলটি বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের তালিকায় সক্রিয় অবস্থানে নেই। নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিবন্ধন পুনর্বহাল না হলে দলীয় প্রতীকে কোনো নির্বাচনে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই আইনি প্রশ্ন সামনে আসতে পারে।[TECHTARANGA-POST:587]সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচন কমিশন জামায়াতের আবেদনের আলোকে বিষয়টি পর্যালোচনা করে এবং বিদ্যমান আইনি অবস্থান বহাল রাখলে আওয়ামী লীগের জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পথও কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। যদিও বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, দলীয়ভাবে অংশ নিতে না পারলেও আওয়ামী লীগের সমর্থিত বা সাবেক নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির পক্ষ থেকে সেই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।  এখন সবার নজর নির্বাচন কমিশনের দিকে। কমিশন জামায়াতের আবেদন, বিদ্যমান আইন, আদালতের নির্দেশনা এবং নিবন্ধনসংক্রান্ত অবস্থান বিবেচনা করে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।এদিকে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমাদের প্রস্তাবিত আচরণ বিধিমালার ওপর বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও সংগঠন থেকে বিভিন্ন ধরনের সুপারিশ পেয়েছি। ওইসব সুপারিশ ইসির কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই করছেন। আগামী মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের একটি সভা হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় এসব সুপারিশ উপস্থাপন করা হবে।

স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথও কি রুদ্ধ হচ্ছে আ.লীগের?