দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর

নতুন সরকারের শপথের পরদিনই নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলি গ্রেফতার

রক্তক্ষয়ী গণবিক্ষোভের মুখে ক্ষমতাচ্যুত নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। রাজধানী কাঠমান্ডুর উপকণ্ঠে নিজ নিজ বাসভবন থেকে শনিবার ভোরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বলেন্দ্র শাহের শপথ নেওয়ার পরদিনই অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হলো। নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদন গুরুং জানিয়েছেন, এটি কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নয়, বরং নিহত ও আহতদের জন্য ন্যায়বিচারের সূচনামাত্র।গত বছর নেপালে রক্তক্ষয়ী গণবিক্ষোভ ও সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে কেপি শর্মা ও রমেশ লেখককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালের পুলিশ।২০২৫ সালে নেপালে দুর্নীতিবিরোধী এক ভয়াবহ ছাত্র-যুব বিদ্রোহ শুরু হয়, যা পরবর্তীতে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। ওই সময় বিক্ষোভ দমনে পুলিশের গুলিতে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন।সরকার গঠিত একটি তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন।প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, তারা গুলি চালানো বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করার কোনো চেষ্টা করেননি, বরং তাদের অবহেলার কারণেই এত প্রাণহানি ঘটেছে। এই অপরাধে তাদের ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের সুপারিশ করা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:249]র‍্যাপার থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া বলেন্দ্র শাহ গত ৫ মার্চের নির্বাচনে জয়লাভের পর শুক্রবার (২৭ মার্চ) নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। শপথ নেওয়ার একদিন পরেই এই বড় ধরনের গ্রেফতার অভিযান চালানো হলো।জেন-জিদের বিক্ষোভ-সহিংসতায় গত বছর নেপালে ৭৭ জন নিহত হয়।নেপালের পুলিশ জানায়, শনিবার ভোরে ভক্তপুর এলাকার বাড়ি থেকে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গুন্ডু এলাকা থেকে কেপি শর্মা অলিকে এবং সূর্যবিনায়ক থেকে গ্রেফতার করা হয় রমেশকে।নেপালের পুলিশ জানিয়েছে, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে জেন জি বিক্ষোভে উত্তাল হওয়ার পর বিক্ষোভের প্রথম দিনেই ১৯ জনের মৃত্যু হয়। পরে কাঠমান্ডুসহ আরও একাধিক জায়গায় হিংসা এবং বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় অন্তত ৭৭ জনের মৃত্যু হয়।ওই নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছিল নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই তাদের গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরেই শুরু হওয়া তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।নেপালের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং সামাজিক মাধ্যমে বলেন, ‘কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। আমরা ওই ঘটনার সুবিচার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেই কাজ শুরু হয়েছে। এটা কোনও প্রতিশোধ নয়।’কেপি শর্মা অলি ও রমেশের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কাঠমান্ডু পুলিশের মুখমাত্র ওম অধিকারী।

নতুন সরকারের শপথের পরদিনই নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলি গ্রেফতার