ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর

তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের উদ্বেগের জবাব দিল চীন

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বিএনপির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। এ বিষয়ে চীন সফরে গিয়ে দেশটির সঙ্গে চুক্তিও করে এসেছে বাংলাদেশ, যা নিয়ে বেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। এবার নরেন্দ্র মোদিদের সেই উদ্বেগের জবাব দিল চীন।  দেশটির দাবি, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে টার্গেট করে পরিচালিত হয় না এবং এতে বাইরের কোনো দেশের প্রভাব থাকাও উচিত নয়। একই সঙ্গে তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে চীন।[TECHTARANGA-POST:535]বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) ভারতের উদ্বেগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এসব কথা বলেছেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। গুও জিয়াকুন বলেন, ‘আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয় না এবং এটি তৃতীয় পক্ষের প্রভাবমুক্ত হওয়া উচিত।’অন্যদিকে ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি, তিস্তা অববাহিকা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খুব কাছাকাছি হওয়ায় ঢাকা-বেইজিংয়ের এই যৌথ উদ্যোগ নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ রয়েছে। তবে চীন বলেছে, তিস্তা প্রকল্পটি বাংলাদেশের মানুষের জীবনমানের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।গুও জিয়াকুন বলেন, ‘তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার বাংলাদেশের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। এ প্রকল্পে চীন সর্বোচ্চ সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে উন্নয়ন কৌশলের আরও সমন্বয় এবং বাণিজ্য, পানি ব্যবস্থাপনা ও জনকল্যাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও বিনিময় বাড়াতে প্রস্তুত রয়েছে চীন।’এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ‘তিস্তা প্রকল্পের বিষয়ে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা প্রথমবারের মতো কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করবেন। এ বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে, যা আগে হয়নি। চীন জানিয়েছে, সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় প্রকল্পটি যৌক্তিক প্রমাণিত হলে তারা সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেবে।’মূলত তিস্তা নদীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ ও চীন একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে তিস্তা প্রকল্প-সংক্রান্ত যেকোনো ঘোষণার দিকে ভারত নিবিড়ভাবে নজর রাখবে।চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি) এবং চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান পাওয়ারচায়না সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ বাড়ানোর চুক্তি সই করে। এর ফলে তিস্তা প্রকল্পের কাজ আরও এগিয়ে যায়।[TECHTARANGA-POST:533]ভারতের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো, তিস্তা নদী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের খুব কাছাকাছি। এই করিডরটি ‘চিকেনস নেক’ নামেও পরিচিত।প্রতিবেশী দেশটির আশঙ্কা, চীনের উপস্থিতিসহ বাইরের কোনো দেশের প্রভাব এ অঞ্চলে বাড়লে তা তাদের নিরাপত্তা হুমকি বাড়াতে পারে। একইসঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগকারী এ গুরুত্বপূর্ণ করিডরের জন্য নতুন কৌশলগত ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।এদিকে সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবারও জোর দিয়ে বলেছেন, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে যেকোনো মূল্যে তার সরকার তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার গত ২১ থেকে ২৬ জুন মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন তারেক রহমান। এর মধ্যে চীন সফরকালে দেশটি বাংলাদেশকে তিস্তা মহাপরিকল্পনায় সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেয়। সেটিই ভারতের উদ্বেগের কারণ।

তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের উদ্বেগের জবাব দিল চীন