ঢাকা    বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
ঢাকা    বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর

আদালতে ঝুলছে জুলাই আন্দোলনের সহস্রাধিক মামলা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে সারা দেশে দায়ের হওয়া হত্যা ও অন্যান্য মামলার তদন্তে নানা অসঙ্গতি ধরা পড়ছে। কোথাও মৃত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে, কোথাও জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানো হয়েছে। আবার কোনো কোনো মামলায় ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিচ্ছে পুলিশ।নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে দুস্তারা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি বাবুল মিয়া ২০২৪ সালে মারা যান। কিন্তু পরের বছর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ৪ আগস্টের আন্দোলনে অংশ নিয়ে তিনি নিহত হয়েছেন—এমন অভিযোগে তার নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করা হয়।আড়াইহাজার থানায় দায়ের করা ওই মামলায় ১৩১ জনকে আসামি করা হয়। তাদের অনেকেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছিলেন। পুলিশের তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পর মামলাটিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আদালতের একটি সূত্র।তবে এমন মামলার সংখ্যা একটি নয়, শতাধিক বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।জুলাইয়ের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত করতে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা ভুয়া, অসত্য ও মিথ্যা মামলার সন্ধান পাচ্ছেন। একই সঙ্গে দুই বছরের বেশি সময় পার হলেও অনেক হত্যা মামলার তদন্তের গতি ধীর হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন নিহত ব্যক্তিদের স্বজন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।মানবাধিকারকর্মী ও আইনজ্ঞরাও বিভিন্ন সময় জুলাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢালাও মামলা করার সমালোচনা করেছেন। একই ধরনের আসামি ও একই ফরম্যাটে এসব মামলা করা হয়েছে বলেও বিভিন্ন সময়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:630]ভুয়া ও অসত্য মামলার বিষয়টি জাতীয় সংসদেও স্বীকার করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বিপুলসংখ্যক মামলার তদন্ত একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের অপেক্ষা২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় নিহত হন ফ্রিল্যান্স ফটোসাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়। রংপুরে মা সামছি আরা জামানের সঙ্গে দেখা করে ১০ জুলাই ঢাকায় ফেরেন তিনি। এরপর কোটা সংস্কারের আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর সেন্ট্রাল রোডে গুলিবিদ্ধ হন প্রিয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।এ ঘটনায় ঢাকার নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয়। তবে এখনো এসব মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রিয়র মা সামছি আরা জামান।[TECHTARANGA-POST:629]তিনি বলেন, ‘আমরা তো এখনো কোনো অগ্রগতিও পাই নাই, কোনো কিছুই পাচ্ছি না। সন্তান মারা যাওয়ার পর তো অসহায় হয়ে গেছি।’ প্রিয়কে সেদিন পুলিশ গুলি করেছিল বলে অভিযোগ করেন তার মা। তার ভাষ্য, তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বারবার বলা হলেও এখনো তা দেওয়া হয়নি। প্রিয়র মায়ের মতো আরও অনেক নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য বিচারের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।সারা দেশে ১,৮৬৬ মামলাজুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মোট ১ হাজার ৮৬৬টি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।তবে এর মধ্যে কতটি হত্যা মামলা, কতটি অন্যান্য ধারার মামলা এবং কতটি মামলায় তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।এর আগে গত ৩০ এপ্রিল আইনমন্ত্রী জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন, সারা দেশে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে ৭৯৯টি সরাসরি হত্যা মামলা। বাকিগুলো অন্যান্য ধারায় করা হয়েছে।তিনি জানিয়েছিলেন, এর মধ্যে ১৫৮টি মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। ৪০টি হত্যা মামলা ও ১১০টি অন্যান্য ধারার মামলায় তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এসব মামলার বিচার দেশের বিচারিক আদালতে চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।তবে বুধবার পুলিশ সদর দফতর থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত শেষ হওয়া মামলার সংখ্যা বেড়ে ২৬৪ হয়েছে।ঢাকায় ৭৯০ মামলায় অভিযোগপত্র মাত্র ৯টিরঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে জুলাইয়ের ঘটনায় মোট ৭৯০টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮০টি হত্যা মামলা এবং ৩১০টি অন্যান্য ধারার মামলা।এসব মামলার মধ্যে তদন্ত শেষে মাত্র ৯টির অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি হত্যা মামলা এবং ৪টি অন্যান্য ধারার মামলা। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, ৫৯৮টি মামলা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।তদন্তের ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পুলিশ সদর দফতরের মুখপাত্র ও মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের এআইজি এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, এসব মামলার তদন্ত সময়সাপেক্ষ ও অত্যন্ত সংবেদনশীল।তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বহু আসামি, বিপুলসংখ্যক সাক্ষী, ডিজিটাল ও ফরেনসিক আলামত এবং বিভিন্ন স্থান থেকে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের প্রয়োজন হচ্ছে।তার ভাষায়, প্রতিটি মামলার তদন্ত নিরপেক্ষ, তথ্যভিত্তিক ও আইনসম্মতভাবে শেষ করতে সময় লাগছে। শুধু দ্রুততার জন্য নয়, মানসম্মত তদন্ত নিশ্চিত করাই পুলিশের অগ্রাধিকার।কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পর্যায়ক্রমে তদন্ত শেষ করা হবে বলেও জানান তিনি।এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, প্রতিটি মামলার প্রকৃতি ও জটিলতা ভিন্ন হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।সাক্ষ্য-প্রমাণ না পেয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের দিন যাত্রাবাড়ী থানার সামনে একটি গলির মুখে গুলিতে নিহত হন জিহাদ হাসান।এ ঘটনায় কদমতলী থানায় পারভেজ হোসেন নামে এক ব্যক্তি হত্যা মামলা করেন। তবে তাকে নিহত জিহাদের পরিবারের সদস্যরা চেনেন না বলে জানা গেছে।মামলায় ঘটনাস্থল ভুল উল্লেখ করা হয়েছিল। বাদীর ঠিকানাতেও ভুল ছিল। বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও বাদী পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। এসব কারণে কদমতলী থানার পুলিশ মামলাটিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে ঢাকার বিচারিক আদালতের একটি সূত্র জানিয়েছে।চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পর আদালত বাদী পারভেজ হোসেনকে নোটিশ দিলেও তিনি এখনো কোনো জবাব দেননি বলে জানা গেছে।এ ছাড়া জিহাদ হাসান নিহত হওয়ার ঘটনায় যাত্রাবাড়ি থানায় আরেকটি হত্যা মামলা থাকায় ওই প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে।ঢাকা মহানগরে দায়ের হওয়া ৭৯০টি মামলার মধ্যে ২৮টিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে ডিএমপি। এর মধ্যে ২৩টি হত্যা মামলা এবং ৫টি অন্যান্য ধারার মামলা।পিবিআইয়ের তদন্তেও মিলেছে অসঙ্গতিপুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ২৭২টি মামলা তদন্ত করেছে। এর মধ্যে ১৬৫টি মামলার তদন্ত শেষে চলতি বছরের এপ্রিলে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি জানায়, ১১১টি ঘটনায় অপরাধ সংঘটনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।তবে এসব মামলার অর্ধেকের বেশি আসামির বিরুদ্ধে অপরাধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। প্রমাণ পাওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।অন্য ৩১টি মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।পিবিআইয়ের তদন্তে এমন ঘটনাও উঠে এসেছে, যেখানে মামলায় জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানো হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিলেই মামলা শেষ নয়তদন্ত শেষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পেলে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে যে প্রতিবেদন দেন, সেটিই চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা এফআরটি নামে পরিচিত।চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিলেই মামলার কার্যক্রম শেষ হয়ে যায় না।চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত বাদীপক্ষকে নোটিশ দিতে পারেন। বাদী তদন্তে সন্তুষ্ট না হলে নারাজি আবেদন করতে পারেন। এরপর শুনানি করে আদালত মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।আদালত চাইলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করতে পারেন। আবার বাদীর নারাজি আবেদন গ্রহণ করে পুনঃতদন্তের নির্দেশও দিতে পারেন। আদালতের কাছে অপরাধের পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে বলে মনে হলে পুলিশের প্রতিবেদন গ্রহণ না করে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার শুরুর নির্দেশও দিতে পারেন।ভুয়া মামলার সংখ্যা কতকতটি ভুয়া, অসত্য ও মিথ্যা মামলা শনাক্ত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সারা দেশে এ ধরনের ১১০টি মামলা শনাক্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।ভুয়া বা মিথ্যা মামলার সংখ্যা সম্পর্কে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, তদন্ত করতে গিয়ে কর্মকর্তারা নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছেন।তিনি বলেন, এসব প্রতিকূলতার মধ্যে রয়েছে এজাহারের দুর্বলতা, ঘটনার নির্ভুল বর্ণনার অনুপস্থিতি, শত্রুতা ও হয়রানিমূলক মামলা, ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারা।মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অবস্থাকোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরুর পর ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সংবাদ সম্মেলনে কোটা নিয়ে মন্তব্য করেন। তার ওই মন্তব্যের পর আন্দোলন আরও বেগবান হয়। ওই রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন।পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সংশোধন এনে জুলাইয়ের ঘটনাগুলোর বিচার শুরু করা হয়। এ বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও আইন বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন তুলেছেন।জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৫৯০টি অভিযোগ জমা পড়েছিল বলে গত ১৪ জুলাই জাতীয় সংসদে জানান আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।[TECHTARANGA-POST:627]তিনি বলেন, এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে প্রসিকিউশন ১০৯টি মামলা নির্বাচন করেছে। এর মধ্যে ৪৩টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে।ছয়টি মামলার বিচার শেষ করে রায়ও দিয়েছেন পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে আবু সাঈদ হত্যা মামলাও রয়েছে।এই মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি ও রাজসাক্ষী পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণ আমির হোসেনকে গুলি এবং আরও দুজনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই মামলায় এক পুলিশ সদস্যকে যাবজ্জীবন এবং আরেকজনকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।আইনমন্ত্রী জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। এ ছাড়া ৩৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে এবং একজন রাজসাক্ষীকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আরও ২৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।পুরোনো ঘটনাও এসেছে ট্রাইব্যুনালেজুলাইয়ের ঘটনাগুলোর পাশাপাশি আরও কয়েকটি মামলার তদন্ত শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। পরে এসব মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দাখিল করা হয়েছে।২০১৮ সালে কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানে সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক নিহত হওয়ার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।এ ছাড়া ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হামলার ঘটনায় ৬১ জনকে হত্যার অভিযোগ এনে গণহত্যার মামলা করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।এই মামলায় শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে।তবে এই অভিযোগপত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংগঠনটি বলেছে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড সমুন্নত রাখতে কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হচ্ছে।এদিকে সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা 

আদালতে ঝুলছে জুলাই আন্দোলনের সহস্রাধিক মামলা