ভেনেজুয়েলায় বুধবার (২৪ জুন) এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর পর থেকে দেশটিতে ২০টিরও বেশি আফটারশক (পরবর্তী কম্পন) অনুভূত হয়েছে। এটি দেশটির ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প।
শক্তিশালী এ জোড়া ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন এবং বহু ভবন ধসে পড়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।
তবে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে আরও সময় লাগতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদন ও ভিডিওতে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আতঙ্কে অনেক মানুষ রাতটি খোলা আকাশের নিচে রাস্তায় কাটাচ্ছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা
ভূমিকম্পে উত্তর উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ডেলসি রদ্রিগেজ এলাকাটিকে দুর্যোগ কবলিত অঞ্চল ঘোষণা করেছেন।
তিনি বলেন, রাজ্যের পরিস্থিতি একটি ‘প্রকৃত ট্র্যাজেডি’। সেখানে কয়েক ডজন ভবন ধসে পড়েছে। এর মধ্যে ম্যাকুটো শহরের সমুদ্রতীরবর্তী একটি বড় হোটেল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
কাতিয়া লা মার শহর থেকেও বহু ভবন ধসে পড়া এবং উঁচু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ
লা গুয়াইরায় অবস্থিত সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, যা রাজধানী কারাকাসের প্রধান বিমানবন্দর হিসেবে ব্যবহৃত হয়, গুরুতর অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমিকম্পের সময় যাত্রীরা আতঙ্কে দৌড়াচ্ছেন। বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসাবশেষ, ধুলাবালি এবং ক্ষতিগ্রস্ত ছাদের চিত্রও দেখা গেছে।
কারাকাসে ভবন ধস, নিহত ৩
রাজধানী কারাকাসের বারুতা পৌর এলাকায় দুটি ভবন ধসে পড়ে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মেয়র।
ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ছেলে নিকোলাস মাদুরো গেরা জানান, রাজধানীতে অন্তত চারটি ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি সান বেরনার্দিনো এলাকায়, একটি পিন্টো সালিনাসে এবং আরেকটি এল প্যারাইসোতে।
উত্তর কারাকাসের সান বেরনার্দিনো এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের বের করে আনছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে বেরিয়ে আসার বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
চাকাও এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা
পূর্ব কারাকাসের চাকাও এলাকায় বাসিন্দারা তীব্র ও ভয়াবহ কম্পনের কথা জানিয়েছেন। লস পালোস গ্রান্দেস এলাকার এক বাসিন্দা সিএনএনকে বলেন, তার এলাকায় অন্তত দুটি ভবন ধসে পড়েছে এবং আরও অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো জানান, চাকাওর আলতামিরা এলাকাতেও ভবন ধসের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় মেয়রের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকাওতে ৫০০-র বেশি জরুরি সেবা কর্মী উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। অন্তত দুটি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে এবং আরও অনেক ভবনের কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
অন্যান্য এলাকাতেও প্রভাব
ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আরাগুয়া, কারাবোবো এবং ফালকোন রাজ্যও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকার কিছু স্থানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬
ভেনেজুয়েলায় বুধবার (২৪ জুন) এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর পর থেকে দেশটিতে ২০টিরও বেশি আফটারশক (পরবর্তী কম্পন) অনুভূত হয়েছে। এটি দেশটির ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প।
শক্তিশালী এ জোড়া ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন এবং বহু ভবন ধসে পড়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।
তবে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে আরও সময় লাগতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদন ও ভিডিওতে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আতঙ্কে অনেক মানুষ রাতটি খোলা আকাশের নিচে রাস্তায় কাটাচ্ছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা
ভূমিকম্পে উত্তর উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ডেলসি রদ্রিগেজ এলাকাটিকে দুর্যোগ কবলিত অঞ্চল ঘোষণা করেছেন।
তিনি বলেন, রাজ্যের পরিস্থিতি একটি ‘প্রকৃত ট্র্যাজেডি’। সেখানে কয়েক ডজন ভবন ধসে পড়েছে। এর মধ্যে ম্যাকুটো শহরের সমুদ্রতীরবর্তী একটি বড় হোটেল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
কাতিয়া লা মার শহর থেকেও বহু ভবন ধসে পড়া এবং উঁচু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ
লা গুয়াইরায় অবস্থিত সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, যা রাজধানী কারাকাসের প্রধান বিমানবন্দর হিসেবে ব্যবহৃত হয়, গুরুতর অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমিকম্পের সময় যাত্রীরা আতঙ্কে দৌড়াচ্ছেন। বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসাবশেষ, ধুলাবালি এবং ক্ষতিগ্রস্ত ছাদের চিত্রও দেখা গেছে।
কারাকাসে ভবন ধস, নিহত ৩
রাজধানী কারাকাসের বারুতা পৌর এলাকায় দুটি ভবন ধসে পড়ে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মেয়র।
ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ছেলে নিকোলাস মাদুরো গেরা জানান, রাজধানীতে অন্তত চারটি ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি সান বেরনার্দিনো এলাকায়, একটি পিন্টো সালিনাসে এবং আরেকটি এল প্যারাইসোতে।
উত্তর কারাকাসের সান বেরনার্দিনো এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের বের করে আনছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে বেরিয়ে আসার বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
চাকাও এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা
পূর্ব কারাকাসের চাকাও এলাকায় বাসিন্দারা তীব্র ও ভয়াবহ কম্পনের কথা জানিয়েছেন। লস পালোস গ্রান্দেস এলাকার এক বাসিন্দা সিএনএনকে বলেন, তার এলাকায় অন্তত দুটি ভবন ধসে পড়েছে এবং আরও অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো জানান, চাকাওর আলতামিরা এলাকাতেও ভবন ধসের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় মেয়রের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকাওতে ৫০০-র বেশি জরুরি সেবা কর্মী উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। অন্তত দুটি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে এবং আরও অনেক ভবনের কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
অন্যান্য এলাকাতেও প্রভাব
ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আরাগুয়া, কারাবোবো এবং ফালকোন রাজ্যও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকার কিছু স্থানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন

আপনার মতামত লিখুন