প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬
‘আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই শেখ হাসিনার, দেশে ফিরলেই গ্রেফতার’
দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম, নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে হলে ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন বলে মনে করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করব, শেখ হাসিনাসহ যেসব আসামি ওখানে রয়েছেন, বাংলাদেশে যাদের বিচার হয়েছে এবং বিচার হওয়া প্রয়োজন; বাংলাদেশ সরকার থেকে আমরা যে বারবার তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি, চিঠি দিচ্ছি; সেগুলো তারা রেসপন্স করবে এবং ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেলে আরও ত্বরান্বিত করে তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।শামা ওবায়েদ বলেন, শেখ হাসিনা ইস্যুতে আমি মনে করি না যে এখানে ভারত আর বাংলাদেশের সম্পর্কের কোনো ব্যাঘাত ঘটবে। সম্পর্ক সম্পর্কের জায়গাতেই থাকবে এবং একটি দেশের সঙ্গে আরেকটি দেশের সম্পর্ক মূলত বহুমাত্রিক হয়।তিনি আরও বলেন, আমাদের এক্সচেঞ্জ থাকবে, ডায়লগ চলমান থাকবে। আপনারা দেখেছেন যে বিমসটেকের একটি মিটিংয়ে আমাদের উপদেষ্টা (ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম) ভিজিট করেছেন। এটা তো একটা চলমান প্রক্রিয়া, সেটা থাকবেই। কিন্তু এটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য, বাংলাদেশের ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই জুলাই মাসে এটা বলতেই হবে, যারা রক্ত দিয়েছে, যারা মারা গেছে, যারা আহত অবস্থায় রয়েছে, তাদের পরিবারের জন্য একটা ক্লোজার দরকার। তারাও দেখতে চায় যে, যারা তাদের ছেলে-মেয়েদের খুন করেছে, আহত করেছে, তাদের বিচার হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশ সরকার আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে এবং আমরা চাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এগুলো ত্বরান্বিত হোক।এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে গেছেন। এই যে জুলাই মাসটা চলছে, যেখানে এখন দাবিটা আরও জোরালো হচ্ছে যে— যাদের সাজা হয়ে গেছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে দেশের মাটিতে বাংলাদেশের মানুষ তাদের শাস্তি কার্যকর হওয়াটা দেখতে চায়।তিনি আরও বলেন, আমরা একাধিকবার আপনাদের বলেছি যে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এবং আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুজনেই এটা উল্লেখ করেছেন এবং ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে আইনি প্রক্রিয়াটা কী। যেহেতু সাজা হয়ে গেছে, সেহেতু একজন আসামির আইনগতভাবে আত্মসমর্পণের আর কোনো সুযোগ নাই। সুতরাং, যখনই তিনি বাংলাদেশে আসবেন, তাকে অ্যারেস্ট করা হবে— এটা আইনগতভাবেই হবে।এখন উনি কীভাবে আসবেন? আমরা এক্সট্রাডিশন ট্রিটি অনুযায়ী আমাদের কমিউনিকেশন ইন্টেরিম (অন্তর্বর্তীকালীন) পর্যায় থেকে শুরু করেছি। যেমন— হাসিনার মতো আসামি, হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামি এরা ভারতে আছে। তারা কীভাবে ফেরত আসবে, সেটা যদি এক্সট্রাডিশন ট্রিটি অনুযায়ী আসে, তাহলে সেটার আইনগত নিয়ম আছে এবং ডিপ্লোম্যাটিক কিছু নর্মস আছে। এসব ফলো করেই হয়তো উনি ফেরত আসবেন এবং আসার সঙ্গে সঙ্গেই অ্যারেস্ট হবেন।শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চাইলে ট্রাভেল ডকুমেন্ট দেওয়া হবে কিনা-জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাসপোর্ট, ভিসা; এই কাজকর্মগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখে। তাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়তো ভালো জবাব দিতে পারবে যে উনার কী ধরনের ট্রাভেল ডকুমেন্টস লাগবে। কিন্তু আমি সাধারণভাবে যেটা বুঝি যে, সেটা অবশ্যই ভারত সরকারের সাহায্যেই হবে। তিনি আরও বলেন, ভারত সরকারের এখানে একটা রোল রয়েছে। সুতরাং, এক্সট্রাডিশন ট্রিটি অনুযায়ী যদি ভারত সরকার এটা দ্রুত গতিতে করে, ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেলটা যদি তারা ত্বরান্বিত করে, তাহলে সেই অনুযায়ী ডকুমেন্টস হবে। একজন ব্যক্তির এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাওয়ার জন্য জাস্ট একটা পিকচারসহ ট্রাভেল ডকুমেন্ট লাগে, যে ‘ওই ব্যক্তিই সেই ব্যক্তি’। সেরকম একটা ডকুমেন্ট হয়তো ভারত সরকারও প্রোভাইড করতে পারে, বাংলাদেশ সরকারও করতে পারে বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডট কম