প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
উত্তরের ৪ জেলায় বন্যার পদধ্বনি
দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম, নিজস্ব প্রতিবেদক ||
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। এতে দেশের উত্তরাঞ্চলের চারটি জেলা নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুরে স্বল্পমেয়াদী বন্যার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। শনিবার (২০ জুন) এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন বলেছেন, ‘বৃষ্টিপাতের কারণে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুরে নদ-নদীর পানি বেড়েছে। তাতে স্বল্পমেয়াদী অর্থাৎ কমপক্ষে তিন দিন মেয়াদে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।”এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এক বুলেটিনে জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদ-নদীর পানি সমতল বেড়েছে, যা আগামী তিন দিন বাড়তে পারে।আগামী ৭২ ঘণ্টায় এসব নদ-নদীর পানি নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।আবহাওয়া অধিদফতরের শনিবারের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।কেন্দ্রের তথ্য বলছে, শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, সিলেট ও খুলনা বিভাগে ভারি থেকে অতিভারী এবং উজানে ভারতের অরুণাচল প্রদেশে ভারী বৃষ্টি হয়েছে।আবহাওয়া সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, আগামী পাঁচ দিন রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।বুলেটিনে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে, যা আগামী পাঁচ দিন বাড়তে পারে। তবে তা বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে।গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে, যা আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। এর পরের দুই দিন পানি বাড়তে পারে, যা বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে।বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী তিন দিন বাড়তে পারে। সিলেট ও সুনামগঞ্জে নদী দুটির পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, জিঞ্জিরাম ও কংস নদীর পানি সমতল কমেছে। অন্যদিকে ভুগাই নদীর পানি সমতল বেড়েছে। এসব নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন বাড়তে পারে।এ সময়ে নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলায় নদীগুলোর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। তখন নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ দফতর ডালিয়া ভিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানাচ্ছেন, ধারাবাহিক বৃষ্টি আর উজানের ঢলে হুহু করে বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। অব্যাহতভাবে পানি বাড়ার কারণে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। যা বর্তমানে ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।তিনি আরও জানিয়েছেন, ভারত গজলডোবা ব্যারেজের ২০টি গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তার পানি বিপদ সীমার কাছাকাছি চলে এসেছে। এতে চরের অনেক কৃষকের আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চর এলাকাগুলোতে অবিরাম নদীর পানি ঢুকছে। রংপুর বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও নদীপাড়ে ভাঙন পরিস্থিতি পযর্বেক্ষণ করা হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ধরলা, গঙ্গাধর, জিনজিরাম ও ঘাঘট নদীপাড়ে আপাতত বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলেও তিস্তাপাড়ে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানিয়েছেন, পানি বিপৎসীমার মাত্র ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেকোনো সময় তা অতিক্রম করে তিস্তাপাড়ে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। তিনি আরও জানান, যেহেতু উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসছে, তাই তিস্তার পানি বাড়তেই থাকবে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডট কম