প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মার্চ ২০২৬
ট্রেনের ছাদ যেন তপ্ত তাওয়া তবুও রুটি-রুজির টানে ঢাকা ফেরা
দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম, আব্দুস সালাম, হেড অব নিউজ ||
ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবসের ছুটি শেষ। প্রিয়জনের মায়া কাটিয়ে আবারও সেই যান্ত্রিক শহরের টানে ফেরা। কিন্তু ফেরার পথটা কি এতটা কঠিন হওয়ার কথা ছিল? দিনাজপুরের রেল স্টেশনে দাঁড়ালে বুকটা ছ্যাৎ করে ওঠে। বৈশাখের কাঠফাটা রোদে ট্রেনের ছাদ যেন এক একটা জ্বলন্ত তপ্ত তাওয়া। আর সেই আগুনের ওপর বসেই শত শত মানুষ ছুটছে ঢাকার পানে।সামনে রোববার, অফিস খুলবে। কর্মস্থলে যোগ দিতেই হবে, নয়তো বিপাকে পড়তে হবে জীবিকার লড়াইয়ে। বাসের টিকিট নেই, ট্রেনের ভেতর তিল ধারণের জায়গা নেই। পেছানোর কোনো পথ নেই বলেই মানুষ আজ আগুনের ওপর বসতে বাধ্য হচ্ছে।শুক্রবার ২৭ মার্চ পঞ্চগড় থেকে আসা যাত্রী আব্দুল্লাহ আর রঞ্জু যখন কথা বলছিলেন, তাদের চোখেমুখে ছিল ক্লান্তির ছাপ। তারা বলছিলেন, ভাই, ছাদটা যে গরম হয়েছে, এখানে অনায়াসেই রুটি ভাজা যাবে। এই উত্তাপ মাথায় নিয়ে আমাদের ১১-১২ ঘণ্টা কাটাতে হবে। শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করে রওনা দিলাম।ভেতরে টিকিট কেটেও অনেকে টিকতে পারছেন না। বগির ভেতরে মানুষের ভিড় আর গুমোট গরমে দম বন্ধ হওয়ার জোগাড়। তাই একটু বাতাসের আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাদে উঠেছেন আব্দুর রহমান তার কথা, টিকিট তো কেটেছি, কিন্তু ভেতরে দাঁড়াব কোথায়? গরমে জান বেরিয়ে যাচ্ছে, তাই ছাদেই একটু স্বস্তি খুঁজছি।দিনাজপুর ভারপ্রাপ্ত সুপারিন্টেন্ডেন্ট এবিএম জিয়াউর রহমান বলেন, এবার ছুটি দীর্ঘ ছিল যেন মানুষ আয়েশ করে ফিরতে পারে। কিন্তু সবাই শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করায় এই উপচে পড়া ভিড়। অতিরিক্ত বগি লাগিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। প্রশাসনের বাধা উপেক্ষা করেই মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাদে উঠছে।দিনশেষে এই মানুষগুলো অফিসের হাজিরা ঠিক রাখতে এমন অমানবিক কষ্ট সহ্য করছেন। ট্রেনের তপ্ত ছাদে ঝুলে থাকা এই মানুষগুলোর নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছানোই এখন সবার কাম্য।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডট কম