প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬
হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল ভারতে গ্রেফতার
দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম, ডেস্ক রিপোর্ট ||
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ভারতে গ্রেফতার হয়েছেন। সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের আরেক আসামি আলমগীরকেও গ্রেফতার করেছে ভারতীয় পুলিশ।রোববার (৮ মার্চ) ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম এই সময়ও এ সংক্রান্ত খবর দিয়েছে।এই সময়ের খবরে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে ওসমান হাদিকে খুনের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেফতার দুই অভিযুক্ত। ধৃতদের নাম রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন।’ আরও বলা হয়, ‘গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হন হাদি। এর পরেই বাংলাদেশ জুড়ে নতুন অশান্তি শুরু হয়। হাদির স্মৃতির উদ্দেশে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছিল ঢাকা। এমনকি তাকে সরকারি উদ্যোগে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সিঙ্গাপুরেও। এই গ্রেফতারি বড় সাফল্য বলে মনে করছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স।’এর আগে গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে এক ভিডিও বার্তায় ফয়সাল দাবি করেন, তিনি বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। এও দাবি করেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে তিনি ছিলেন না। ফয়সাল আরও দাবি করেন, ওসমান হাদি তাকে মন্ত্রণালয় থেকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অগ্রিম পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছিলেন।গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে হামলার শিকার হন শরীফ ওসমান হাদি। মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি চলন্ত অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। সে সময় গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান।এ হত্যাকাণ্ডের ১৮ দিন পর রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, ধারণা করা হচ্ছে আসামিরা অবৈধ পথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে প্রবেশ করেছেন। হাদির মৃত্যুর পর হওয়া মামলায় পলাতক থাকা ফয়সাল করিমের মা-বাবা ও স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে পুলিশে। তাদের মধ্যে ছয়জন আসামি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং চারজন সাক্ষী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছেন।তবে অধরা ছিলেন হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল। তিনিই হাদিকে গুলি করেছিলেন বলে জানা যায়। অবশেষে পলাতক ফয়সালের গ্রেফতারের খবর এলো ওপার বাংলা থেকে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডট কম