-পুরনো ছবি

আব্দুস সালাম (দিনাজপুর২৪.কম)  শব্দ দূষণের কবলে পড়েছে দিনাজপুরসহ ১২টি ওয়ার্ড সহ দিনাজপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষ। স্কুল কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রী, পথচারী, স্থানীয় আবাসিক এলাকা, পাড়া মহল্লা গ্রামগঞ্জে অটো বাইক যোগে এবং রিক্সা যোগে প্রতিনিয়ত মাইক বাজিয়ে অস্থির করে তুলেছে, ব্যহত হচ্ছে লেখাপড়া, ঘুম ও কাজকর্ম। মাইক বাজানোর নীতিমালা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।
দিনাজপুর প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে খ্যাত দিনাজপুর পৌরসভা। এক সময় শান্ত নীরিবিলি শহর হিসাবে সারা দেশের মানুষ তা জানতো। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে জনসংখ্যা যেমন দ্বিগুণ হয়েছে সেই সাথে বেড়েছে ব্যবসা, বাণিজ্য, অফিস, হাসপাতাল, ক্লিনিক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি। কিন্তু বাড়েনি রাস্তাঘাট যা আছে সেগুলোর অবস্থাও করুন। ৮০ ভাগ রাস্তা ভাঙ্গা। ড্রেন, নর্দমা, খাগড়া ক্যানেল গুলি নিয়মিত পরিষ্কার হয় না। সেগুলো এখন ময়লা ফেলার ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে। দূর্গন্ধে রাস্তায় চলাচল করতে হয় নাকে রুমাল দিয়ে। এসব সমস্যার মাঝে মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে এসেছে ভয়বহ শব্দ দূষণ। সকাল হতে মধ্যে রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে মাইকিং চলে। বেশির ভাগ বাণিজ্য প্রচার। যেমন ভর্তি বাণিজ্য, ক্লিনিক, ডায়াগনিষ্ট সেন্টার, প্যাথলজি, ওয়াজ মাহফিল ইত্যাদি। একে তো নিত্য যানজোটে যানবাহনের বিকট শব্দ আওয়াজ, ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তার উপর সামনে পিছনে উচ্চ শব্দে মাইক বাজে। পথচারিদের কান ঝালাপালা হয়ে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দিনাজপুর পৌর এলাকায় ১৫ থেকে ২০টি মাইক ও লাউড স্পিকার ভাড়ার দোকান রয়েছে। এগুলো বেশির ভাগে কোন নিয়ম কানুন মেনে চলে না। এ ব্যাপারে পৌর এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার নাগরিকদের সাথে আলাপ করলে তারা বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন। বেশিভাগ মতামত যেমন, মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রতিটি পরিবহনে ১টি করে মাইক ও যে কোন সময় মাইকিং করা যেতে পারে। এছাড়া অন্যান্য বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক প্রচারের সময় পরিবহনে বিকট শব্দে উচ্চ স্বরে বাজানো হয় মাইক। বানিজ্যিক প্রচারের সময় সকাল ৯টা হতে দুপুর ১২টা ও বিকাল ৫টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত নিয়ম থাকলেও মানা হচ্ছে না নিয়ম-কানুন। এই ভয়াবহ শব্দ দূষন হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দিনাজপুরের সকল পৌরবাসী আশা ব্যক্ত করেন।