বি. এম. জুলফিকার রায়হান (দিনাজপুর২৪.কম)  দাতা সংস্থা কয়ে-ইতালী’র অর্থায়নে তালায় সমাজের পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের ৬০জন দরিদ্র নারীর মাঝে ৮প্রজাতীর গাছের চারা বিতরন করা হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা দলিত’র আয়োজনে এবং সংস্থার রিডাকশন অফ সোসিও ইকোনোমিক জেন্ডার ইন ইকুলিটিজ এমং দলিত মাইনারিটিজ প্রকল্পের অধিন প্রায় ৫ শ চারা এদিন বিতরন করা হয়।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে তালাস্থ দলিত প্রকল্প কার্যলয়ে গাছের চারা বিতরন অনুষ্ঠানে তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে গাছের চারা রোপন পদ্ধতি, পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে ধারনা প্রদান করেন, দলিত’র প্রকল্প ব্যবস্থাপক তরিকুল ইসলাম। এসময় অন্যান্যের মধ্যে দলিত’র প্রকল্প অফিসার সঞ্চিতা বিশ^াস, মো. ইকবাল জামিল, গোবিন্দ দাস ও আইটি প্রশিক্ষক পবিত্র দাস সহ উপকারভোগী নারীরা উপস্থিত ছিলেন।
দলিত সূত্রে জানাগেছে, উপকারভোগী ৬০জন নারীর প্রত্যেককে এদিন ফলজ, বনজ ও ঔষধি প্রজাতীর ৮টি করে গাছের চারা দেয়া হয়।

/////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////

তালায় সাংবাদিক ও মানবাধিকার নেতা পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে টাউটরা : প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
তালা উপজেলায় হলুদ সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য এখন চরমে। সাংবাদিকতার মতো মহান পেশাকে ব্যবহার করে এক শ্রেণীর অশিক্ষিত, স্বল্পশিক্ষিত কর্মবিমুখ চাটুকারারা নেমেছে অর্থ আয়ের ধান্দায়। এই সকল তথাকথিত সাংবাদিক নামধারীদের দৌরাত্মে অফিসপাড়া থেকে প্রত্যান্ত গ্রামের সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে ।
মাদক ব্যবসায়ী, চোরাইকারবারি, ভাড়াই মটরসাইকেল চালক, হারবাল ওষুদ বিক্রেতা, মাদকসেবি, হকার, মুহুরি, সাউন্ড ব্যাবসায়ী, গ্রাম্য চিকিৎসক, ভুমি অফিসের দালাল, চরমপন্থী ক্যাডার কিংবা চিহ্নিত দাগী অপরাধিরাও এখন রীতিমতো সাংবাদিক বনে গেছেন!
সাংবাদিকতার সাথে এদের পেশাদারীত্ব না থাকলেও এরা রীতিমতো জাঁদরেল সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে।
এদের বেশিরভাগই বিদ্যালয়ের গন্ডিপার না করলেও প্রতারণার দিক থেকে ব্যপক প্রতিভাময়ী। গণমাধ্যমে তাদের কোনো রিপোর্ট প্রকাশ না হলেও এদের পকেটে দেখা যায় মাল্টিকালারের ৮/১০টি করে নামসর্বস্ব অনলাইন এবং ঢাকার আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার পরিচয়পত্র। সংবাদ লেখা বা মূল ধারার গণমাধ্যমে কাজ করা এদের লক্ষ্য না; কোনও পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে পত্রিকাটি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে যেয়ে নানান বয়ান জাহির করে টাকা হাতিয়ে নেয়া এদের অন্যতম কাজ। তবে, ফেসবুকে কয়েকজনেক দু’ একটা নিউজ দেখা গেলেও সেগুলো মূল ধারার সাংবাদিকদের লেখা কপি করা।
একটি রিপোর্ট লেখার নূন্যতম যোগ্যতা নেই এদের। তারপরও এরা কোর্ট-প্যান্ট, টাই পরে বাহারি হোন্ডায় অনলাইন পত্রিকা বা টিভির লোগো সেটে নিয়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এরা ছুটে বেড়াচ্ছে প্রত্যান্ত অঞ্চলের ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান, ব্যক্তি বা সরকারি এবং বেসরকারি ছোট-বড় সব প্রতিষ্ঠানে। উদ্দেশ্য একটাই, সহজ সরল মানুষকে সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে বা পক্ষে সংবাদ সংবাদ ছাপিয়ে দেবার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেয়া।
এসব টাউট, চাঁদাবাজরা ঠিকমতো বাংলা লিখতে বা পড়তে না পারলেও নিজেদের এরা ক্রাইম রির্পোটার হিসেবে পরিচয় দেয়। ইদানিংকালে এরা সাংবাদিকতার সাথে নিজেদের আবার মানবাধিকার নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে সকল অসাধ্য কাজ সাধ্য করে দেবার বয়ান দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা।
এদের মধ্যে কারও কারও আবার প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্তা-ব্যক্তিদের সাথে গভীর সখ্যতা দেখা যায়। আবার গ্রাম পর্যায়ের অনেক ধান্দবাজদের এরা সোর্স হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সাধারন মানুষদের জিম্মি করে পরস্পরে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। যদিও সাংবাদিক পরিচয়দানকারী এই সকল ধান্দাবাজ, টাউটদের কেউ কেউ মাঝে মধ্যে জনরোষের শিকার হয়ে গণপিটুনি খাচ্ছে।
সময় টিভির দক্ষিণাঞ্চল প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে অপকর্ম করার দায়ে ২০১৮ সালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের হাতে গণ ধোলায়ের শিকার হয় তালার কথিত সাংবাদিক সাঈদ ওরফে স্টিকার সাইদ। কিছুদিন পর সে পল্লী টিভির উপজেলা প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষকদের কাছ হতে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়। বিষয়টি জানাজালি হলে গ্রেফতার এড়াতে এই সাইদ ওরফে জাদুকর সাইদ দীর্ঘদিন আত্মগোপনে চলে যায়। সম্প্রতি সে একটি অনলাইন টিভির লোগো ও বুম নিয়ে আবারও প্রকাশ্য এসেছে এবং কথায় কথায় ইউএনও তার কাছে মানুষ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। তালার মনির নামের আর এক টাউট নিজেকে জাতীয় পত্রিকার ক্রাইম রিপোর্টার আর সেই সাথে ভোক্তা অধিকার এর নেতা পরিচয় দিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে সে সবসময় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করে বলে কথায় কথায় মানুষকে ভয় দেখিয়ে প্রতাররনার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে জমি দখল করতে যেয়ে ইতোমধ্যে তালার কয়েকজন কথিত সাংবাদিক গণধোলাই এবং মামলারও শিকার হয়েছে।
সাংবাদিক ও মানবাধিকার নেতা পরিচয়দানকারী এই সকল টাউট-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন সহ অনলাইন টিভি, পত্রিকা ও আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার উপর নজরদারী বৃদ্ধির জন্য সাধারন মানুষ প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

//////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////

তালায় করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে তালায় করোনা ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। জাতপুর করোনা ও দুর্যোগ প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদ্যোগে এবং বে-সরকারী সংস্থা উত্তরণ এর সহযোগিতায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে উক্ত খাদ্য সহায়তা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন, তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন।
পরে জাতপুর সমকাল মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠ চত্বরে ওই এলাকার ১০৫ টি পরিবারের মাঝে উক্ত খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল, ডাল ও ভৈজ্য তেল প্রদান করা হয়। এ সময় উত্তরণ প্রতিনিধি শম্ভূ চরণ চৌধুরী, নিত্য বিশ্বাস, সাংবাদিক গাজী জাহিদুর রহমান, বিএম জুলফিকার রায়হান, জাতপুর করোনা ও দুর্যোগ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি তামজীদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ মুকুল, মো. ইয়াকুব বিশ্বাস, জগলুল বিশ্বাস, বক্কার বিশ্বাস, শাহাদাৎ হোসেন, উত্তরণের সাজ্জাদ হোসেন, মির্জা মনিরুল ইসলাম ও মো. মনিরুল ইসলামসহ উপকারভোগিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় উপকারভোগীদের মাঝে প্রতিটি প্যাকেজে ১০ কেজি চাল, ২ কেজি মসুর ডাল ও ১ কেজি তেল সরবরাহ করা হয়। আপদকালীন সময় উক্ত খাদ্য সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

///////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////

তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর অত্যাচারে তালার এক কৃষি কর্মকর্তা নাজেহাল
তালায় তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ উপজেলা কৃষি অফিসের এক কর্মকর্তা নাজেহার হয়ে পড়েছে। নিরুপায় হয়ে তিনি প্রাক্তন স্ত্রীর রোষানল থেকে রক্ষা পেতে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেছেন।
উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত শেখ আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে তালা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা শেখ আবু জাফর জানান, বিগত ১২/৪/১৯৮৬ ইং তারিখে তালা থানার জালালপুর ইউনিয়নের দোহার গ্রামের মৃত শের আলীর কন্যা শাহানাজ নারগিছ পারভীনের সাথে তার বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকে সে সংসারের টাকা পয়সা চুরি, স্বেচ্ছাসারিতা, স্ত্রীর নামে ক্রয়কৃত বাস্তভিটার জমি গোপনে তার ভাইদের নামে দানপত্র করে দেয়া, পিতার বাড়িতে থাকার দাবীতে ঘন ঘন তালাক চাওয়া, মারপিট, সন্ত্রাসী ভাইদের দ¦ারা জমিজমা জোর দখল করার পায়তারা চালাতে থাকে। একপর্যায়ে স্ত্রীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর ০৩/১০/২০০৬ ইং তারিখে ম্যারেজ রেজিষ্ট্রার ও এফিডেভিটের মাধ্যমে নারগিছ পারভীনকে তালাক প্রদান করেন।
পোস্ট অফিস ও স্থানীয় জালালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাধ্যমে তালাক প্রাপ্তির পর নারগিছ পারভীন তার ভাই বিপ্লব কবীর (পুলিশের সাথে ক্রসফায়ারে নিহত) এবং আরেক ভাই জাহাঙ্গীর আলম ১০/১২ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসি নিয়ে জোরপূর্বক আবু জাফরের বাড়ি দখল করে। একইসাথে নিরীহ আবু জাফরকে মারপিটসহ হত্যার চেষ্টা করলে বাধ্য হয়ে দুই কন্যাসহ পাটকেলঘাটায় যেয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করে।
ভুক্তভোগি আবু জাফর জানান, ২০১৮ সালে নিজ জমিতে ব্যাংক লোনের সহযোগিতায় নতুন করে একটি বাড়ী নির্মাণ করি। কিন্তু চাকরির কারনে বাড়িতে না থাকার সুযোগে সাবেক স্ত্রী নারগিছ পারভীন ও তার ভাই দোহার গ্রামের জাহাঙ্গীর গং গেটের তালা ভেঙ্গে আমার বাড়িটি দখল করে নেয় এবং বাড়িতে রক্ষিত মালামাল তছরুপ করে। এসময় তারা পরিবারের পুর্বপরুƒষদের আমল থেকে বর্তমান পর্যন্ত সকল জমিজমার মূল কাগজপত্রাদি লুট করে নেয়। এরপর থেকে আমি নিজ বাড়ি ছেড়ে দিয়ে পাটকেলঘাটায় ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছি।
আবু জাফর আরও বলেন, ছোট মেয়ের অনুরোধে অফিস থেকে ফেরার সময় মাঝে মধ্যে মেয়ের সাথে দেখা করতে বাড়ির ভিতরে গেলে উক্ত নারগিছ পারভীন তাকে গালিগালাজ করে ও বাড়িতে ঢুকতে দেয়না। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে উক্ত নারগিছ পারভিন ও তার ভাই আবু জাফরকে হত্যার চেষ্টা করে। এঘটনায় তালা থানায় জিডি করা হয় (যার নং ৭২৮, তারিখ- ২১/১/২০২০খ্রিঃ)। এছাড়া, গত ১৮মে ছোট মেয়ের সাথে বাড়িতে গেলে উক্ত নারগিছ এবার বল্লম দিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করে। এছাড়া, গত ফেব্রুয়ারী মাসে নারগিছ বেগম তার সাবেক শাশুড়ি (আবু জাফর’র মা) ছকিনা বেগম (৯০) কে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
বর্তমানে উক্ত নারগিছ পারভীন ও তার ভাই জাহাঙ্গীর আবু জাফরকে হত্যার চেষ্টাসহ মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দিয়ে হয়রানী করার পায়তারা করছে এবং মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে ভুক্তভোগী আব জাফর অভিযোগ করেছেন।