(দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) জীবনঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে গেলো মে মাসে সারাদেশে ছিল অঘোষিত লকডাউন। সাধারণ ছুটিতে বন্ধ ছিল গণপরিবহন। সারাদেশে গণপবিরহণ বন্ধ থাকলে সড়কে থেমে থাকেনি মৃত্যুর মিছিল।

মে মাসে সারাদেশে ২১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ২৬১ জন। এর মধ্যে ৯৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ৮৯ জন নিহত হয়েছেন।

তথ্য জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, গত মাসে দেশের সাতটি জাতীয় দৈনিক, পাঁচটি অনলাইন নিউজপোর্টাল এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারিত সংবাদের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায়, মে মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ২১৩টি। নিহত ২৯২ জন এবং আহত ২৬১ জন। নিহতের মধ্যে নারী ৩৯, শিশু ২৪। এককভাবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বেশি প্রাণহানি ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় ৫৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ১৯.১৭ শতাংশ। পরিবহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ২১ জন। দুর্ঘটনায় ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষ নিহত হয়েছেন ১৯৬ জন, অর্থাৎ ৬৭.১২ শতাংশ। এই সময়ে নয়টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত ও ১৭ জন নিখোঁজ হয়েছেন।

দুর্ঘটনায় ট্রাকযাত্রী ১৯, পিকআপ যাত্রী ১২, প্রাইভেটকার যাত্রী ৮, সিএনজি যাত্রী ১১, কাভার্ডভ্যান যাত্রী ৪, মাইক্রোবাস যাত্রী ৩, ট্রলিযাত্রী ৫, অটোরিকশা যাত্রী ২১, নসিমন-করিমন-ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র ইত্যাদি স্থানীয় যানবাহনের ৬৪ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন।

বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে রাজশাহী বিভাগে। ৪৬টি দুর্ঘটনায় ৬৮ জন নিহত। সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে। ১৭টি দুর্ঘটনায় নিহত ২৪ জন। একক জেলা হিসেবে ময়মনসিংহে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ১২টি দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত। সবচেয়ে কম কুষ্টিয়ায়। একটি দুর্ঘটনায় মারা গেছে একজন।

সড়ক দুর্ঘটনার জন্য ফিটনেসবিহীন গাড়ি, দ্রুতগতি, অদক্ষ চালক, চালকের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ নয়টি কারণ তুলে ধরেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

দুর্ঘটনার হার কমিয়ে আনতে দক্ষ চালক বাড়ানো, সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, চালকদের কাজের সময় নির্ধারণ ও নির্ধারিত বেতনসহ বেশ কয়েকটি পরামর্শ দেয়া হয়েছে। -ডেস্ক রিপোর্ট