(দিনাজপুর২৪.কম) আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা) আসনে আওয়ামীলীগ বিএনপি জামায়াতের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে নতুনরা মাঠ গরমে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। আওয়ামীলীগে কোন্দল থাকায় নতুনরা সুযোগ নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে বিএনপির মধ্যে কোন্দল থাকলেও অনেকটাই নীরবতা পালন করছেন তারা। তৃণমূল নেতাদের সমর্থন পেতে প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নানা তৎপরতা চালাচ্ছেন। অনেকেই কেন্দ্রের সবুজ সংকেতের জন্য সিনিয়র নেতাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় তৃণমুল নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত কুশল বিনিময়, পোস্টার ও লিফলেট দিয়ে জনসাধারণের মাঝে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। এদের মধ্যে আওয়ামীলীগে এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী পুনরায় মনোনয়ন প্রাপ্তির প্রত্যাশা করছেন। তার পক্ষে নেতাকর্মীরা নিয়মিত দলীয় কর্মসূচি ছাড়াও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। অপরদিকে সাবেক হুইপ ও কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ মো. মিজানুর রহমান মানু নির্বাচনী আলোচনায় রয়েছেন। তিনিও নিয়মিত দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। এছাড়া চিরিরবন্দর আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা এবং ঢাকা ল্যাব এইড হাসপাতালে অর্থোপেডিক বিভাগের চীফ কনসালটেন্ট চিরিরবন্দর আমেনা বাকী রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ডা: এম আমজাদ হোসেন নতুন মুখ হিসেবে জনসর্মথন তৈরী করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ মাঠে-ঘাটে গণসংযোগ করে চলছেন। এবার তিনি আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রার্থী হতে পারেন বলেও নির্বাচনী আলোচনায় রয়েছেন। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ১৯৭১ সালে জাতির জননের ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করে দুটি পায়ে গুলিবিদ্ধ হই। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুদ্ধ করেছি। জীবনে নিজের জন্য যতটুকু করেছি এখন দেশের ও এলাকার জনগনের জন্য কাজ করে যেতে চাই। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কোন কিছুই করবো না। এদিকে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ২০০১ সালের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও সংস্কারপন্থী নেতা আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান মিয়া ২০০৬ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রাথী হিসাবে ডাব মার্কা নিয়ে নির্বাচন করে দল থেকে বিছিন্ন হয়ে পড়েন। তবে তিনি আবারও মনোনয়ন প্রাপ্তির আশায় মাঠে ময়দানে নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করছেন। অন্যদিকে ২০০৮ সালের এক সময়ের ধানের শীষ মার্কা ও পরে দেওয়াল ঘড়ি মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী লুসাকা গুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি মো. হাফিজুর রহমান এবার প্রার্থী হতে পারেন বলেও নির্বাচনী আলোচনায় রয়েছেন। বিপরীতে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপার কেন্দ্রীয় নেতা মো. আশরাফ আলী খান জাগপার একক সম্ভাব্য প্রার্থী এবং আগামী সংসদ নির্বাচনের নতুন মুখ হিসেবে জনসর্মথন তৈরী করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া সহ মাঠে-ঘাটে গণসংযোগ করে চলছেন। এছাড়া বর্তমান চিরিরবন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক জামায়াত নেতা মো. আফতাব উদ্দিন মোল্লা নির্বাচনে নামছেন বলে শোনা যাচ্ছে।