দেলোয়ার হোসেন বাদশা (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার অধিকাংশ লিচু বাগানে মৌমাছির বক্স বসিয়ে মধু আহরন করতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন মৌ চাষিরা । উপজেলার কমবেশী লিচু বাগানগুলোতে মৌ চাষিরা মধু সংগ্রহ করে যেমন লাভবান হচ্ছেন অন্যদিকে মৌমাছির মাধ্যমে মুকুলে মুকুলে পরাগায়ন ঘটায় লিচু গাছ মালিকরা বাম্পার ফলনের আশা করছেন। এক কথায় বাগানে মৌমাছি চাষ করে চাষিরাও খুশি লিচু বাগান  মালিকরাও খুশি। উপজেলার আনাচে কানাচে গড়ে উঠেছে প্রায় ১১’শ লিচু বাগান। লিচু বাগানে তেমন খরচ নেই অল্প পরিচর্যাতেই বাগান হতে প্রতি বছর মোটা অঙ্কের অর্থ আয় হয় বলে উপজেলার অনেকেই লিচুর বাগান করেছেন। চলতি বছর চিরিরবন্দর উপজেলায় ৫’শ ১০হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ করা হয়েছে। বর্তমানে লিচুর বাগানগুলো মুকুলে ছেয়ে গেছে। উপজেলার পুনট্টি ও ভিয়াইল ইউনিয়নের সড়কের পার্শ্ববর্তী লিচু বাগানগুলোতে ব্যাপক মুকুল এসেছে। এরমধ্যে ব্যবসায়ী আলহাজ¦ ফেরাজ উদ্দিন ও আলহাজ¦ ওয়াদুদ রহমানের লিচু বাগানে প্রায় ২ শতাধিক লিচু গাছ থাকায় টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ থেকে আসা মৌ চাষিরা ছোট বড় বিভিন্ন আকৃতির মৌমাছির বক্স বসিয়ে বৈজ্ঞানিক উপায়ে মৌচাষ করে মধু সংগ্রহ করছেন। মৌ চাষি রাশেদুল ইসলাম জানান, বৈজ্ঞানিক উপায়ে উদ্ভাবিত মৌচাষ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন তারা। ওই বাগানে তারা শতাধিক এর বেশি ব্রড ও নিউক্লিয়াস নামের ছোট বড় কাঠের বক্স স্থাপন করেছেন। প্রতিটি বক্সে একটি রানী মৌমাছি, একটি পুরুষ মৌমাছি ও অসংখ্য এপিচ মেইলিফ্রা জাতের কর্মী মৌমাছি রয়েছে। কর্মী মৌমাছিরা মৌ মৌ গন্ধে ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে যায় লিচুর মুকুলে। পরে মুকুল হতে মধু সংগ্রহ করে মৌমাছির দল নিজ নিজ কলোনিতে মৌচাকে এনে জমা করছে। ১০/১৫ দিন অন্তর অন্তর প্রতিটি বক্স হতে চাষিরা ৫/৬ মণ মধু সংগ্রহ করছেন। যে লিচু গাছে মৌমাছির আগমন বেশি হয় সে গাছের মুকুলে পরাগায়ন ভাল হয়। ফলে ওই গাছে বা বাগানে লিচুর যেমন বাম্পার ফলনের সম্ভবনা থাকে, তেমনি মৌ চাষিরা বেশি মধু সংগ্রহ করে বানিজ্যিকভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারে। উপজেলার বিভিন্ন বাগান থেকে মৌ চাষীরা প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ মণ মধু সংগ্রহ করে বাজারজাত করছে। কাঠের তৈরী শত শত বিশেষ বাক্সের মাধ্যমে মৌ চাষ মধু সংগ্রহ করা দৃশ্য দেখে এলাকাবাসীও উদগ্রীব হয়ে ছুটে আসছেন মধু কেনার জন্য লিচু বাগানে। ক্রেতা দেলোয়ার হোসেন জানান, বাজারে খাঁটি মধু পাওয়া যায়না। তাই স্ব-চোখে নির্ভেজাল মধু সংগ্রহ করতে পেরে তারা নিজেকে ধন্য মনে করছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান, চলতি বছর প্রতিটি লিচু বাগানে ভালো মুকুল এসেছে। আর এ কারণে প্রচুর মৌমাছির আগমন দেখা দিয়েছে। লিচু গাছ থেকে মৌমাছি মধু আহরণের ফলে গাছে গাছে বেশি করে পরাগায়ন হয় এবং শতকরা ২০ থেকে৩০ ভাগ লিচুর বেশি ফলন হয়। এতে কৃষক ও মৌ চাষী উভয়ই লাভবান হয়ে থাকেন।