eid-dinajpur24(দিনাজপুর২৪.কম) বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মঙ্গলবার ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা ঈদ নামাজের পর সামর্থবানেরা পশু কোরবানির মধ্যদিয়ে পালন করছেন ধর্মীয় দ্বিতীয় বৃহত্তম এই উৎসব।

কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে জাতীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির ভেতর মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৫ মিনিটে জামাত শুরু হয়ে ৮টা ১৪ মিনিটে শেষ হয়। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।

ঈদের জামায়াতে অংশ নিয়েছেন লাখো মুসল্লি।  রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এখানে ঐদের জামাত আদায় করেন। তবে বৃষ্টির কারণে অন্যান্যবারের চেয়ে মুসল্লি উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল।

জাতীয় ঈদগাহে নামাজ ঠিকভাবে হলেও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নির্ধারিত খোলায় ময়দানে নামাজ হতে পারেনি বৃষ্টির কারণে। মসজিদগুলোতে ঈদ জামাত সরিয়ে নেওয়া হয়।

ঢাকার বাইরেও কয়েকটি স্থানে ঈদের আনন্দে বৃষ্টির বাগড়া দেওয়ার খবর এসেছে।

ঈদ জামাত শেষেই সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন পশু কোরবানির তোড়জোড়ে। তবে বৃষ্টির কারণে এই নিয়ে সমস্যাায় পড়ার কথাও জানিয়েছেন অনেকে।

গবেষকেদের মতে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বছর আগে হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর আত্মত্যাগের প্রতীকী নিদর্শন হিসেবে কোরবানির প্রচলন হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর প্রাণপ্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে উদ্যত হওয়ার অনন্য ঘটনার স্মরণেই ঈদুল আজহায় পশু কোরবানির রেওয়াজ চালু হয়।

মুসলমানদের বিশ্বাস হজরত ইব্রাহিম (আ.) নিজ পুত্রকে কোরবানি দেওয়ার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আল্লাহপাকের নির্দেশে তিনি জীবদ্দশায় প্রতি বছরই পশু কোরবানির মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার আনুগত্যের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেন।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)ও এ আদর্শ অনুসরণ ও বহাল রাখতে আদিষ্ট হন। তিনিও তাঁর জীবদ্দশায় প্রতিবছরই কোরবানি করেছেন এবং তাঁর উম্মতদের জন্য এ আদর্শ ও প্রথা অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে গেছেন।

এ আদর্শ অনুসরণের লক্ষ্যে গোটা মুসলিম জাহানের পাশাপাশি বাংলাদেশেও ঈদ উদযাপনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে পশু কোরবানি দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় দ্বিতীয় বৃহত্তম এ উৎসব উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ ও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন।

ঈদের দিন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ এবং গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

ধর্মীয় এ উৎসব উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও দেশবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

এ উপলক্ষে গতকাল রোববার থেকে বুধবার পর্যন্ত চার দিনের সরকারি ছুটি চলছে। তাছাড়া শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় দেশবাসী টানা ছ’দিনের ছুটি ভোগ করছেন।

রাজধানী ঢাকার লাখ লাখ বাসিন্দা গ্রামের বাড়িতে আপনজন ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পথের দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে ইতোমধ্যে রাজধানী ছেড়েছেন এবং অনেকে আজও যাচ্ছেন।

পবিত্র এ উৎসব উপলক্ষে দৈনিক পত্রিকাগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও বিনোদনমূলক বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

ঈদের জামাত উপলক্ষে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের  (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোঃ শাহাব উদ্দীন কোরেশী সোমবার জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন।

সাংবাদিকদের তিনি জানান, ঈদের জামাত উপলক্ষে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় থাকছে সিসি ক্যামেরা, আর্চওয়ে, হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর ও ডগ স্কোয়াড।

তিনি জানান, ঈদ পূর্ববর্তী, ঈদের দিন ও ঈদ পরবর্তী সময়ে রাজধানীর আবাসিক এলাকার নিরাপত্তায় নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মী ও ডিএমপির সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায়, তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায়, চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায় এবং পঞ্চম ও শেষ জামাত সকাল পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত স্থানগুলোতে পশু কোরবানির জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সেই সাথে উভয় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোরবানীর পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুই সিটি কর্পোরেশনের ১০ হাজার ৫৪৪ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী বর্জ্য অপসারণে নিয়োজিত থাকবে। ঈদের দিন বেলা দু’টোর পর থেকে পরের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সকল বর্জ্য অপসারিত হবে বলে ঢাকার দুই মেয়র সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

পবিত্র এ দিনটিকে উৎসবের আমেজ দিতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়ক দ্বীপসমূহে জাতীয় ও ঈদ মোবারক খচিত পতাকা দিয়ে সুশোভিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সকল সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা ও ঈদ মোবারক খচিত পতাকা উত্তোলন এবং নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সরকারী ভবনগুলো আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের সকল কারাগার, সরকারি হাসপাতাল, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, শিশুসদন, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, সরকারি আশ্রয় কেন্দ্র, সেফ হোমস, দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্র এবং শিশু ও মাতৃসদনে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। -ডেস্ক