(দিনাজপুর২৪.কম) চলতি বছরের শুরু থেকে ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পনের হাজারেরও বেশি অভিযোগ করেছেন নানা কারণে ভোগান্তির শিকার হওয়া মানুষ। এর মধ্যে সংস্থাটির তরফে মাত্র ৮ শতাংশ অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য আমলে নিয়েছে। এতো অভিযোগের মাঝে গ্রহণের সংখ্যা নগণ্য হওয়ার ব্যাখ্যাও দিয়েছে দুদক।

সংস্থাটি বলছে, দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধ না হওয়ায় সব অভিযোগ আমলে নেয়া হয় না। দুদক জানায়, প্রতিদিনই অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ৮ থেকে ১০ শতাংশ অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা হয়। বাকিগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। দুদক আইনের তফসিল সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় হাজারো অভিযোগ জমা পড়লেও অনুসন্ধান অযোগ্য হয়।

এর আগে গত বছর কমিশনে মোট অভিযোগ আসে ১৭ হাজার ৯শ ৫৩টি, এর মধ্যে ৯৩৭টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করে কমিশন অর্থাৎ ৫ শতাংশ অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা হয়। বাকি ৯৫ শতাংশ অভিযোগই হয় নথিভুক্ত করা হয়েছে নয়তো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কিংবা বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে। একইভাবে ২০১৬ সালে দুদকে মোট অভিযোগ আসে ১২ হাজার ৯শ ৯০টি।

তার মধ্যে ১ হাজার ৭টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করে। আইনি বাধ্যবাধকতা তথা কমিশনের কার্যপরিধি বা অভিযোগসমূহ কমিশন আইনের তফসিলভুক্ত না হওয়ার কারণে গড়ে প্রায় ৯৩ শতাংশ অভিযোগই কমিশন অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করতে পারছে না। যাদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি এই বিপুল সংখ্যক অভিযোগকারীর ধারণা, অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাচ্ছেন না । এক্ষেত্রে দুদকের ব্যাখা, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন দ্বারা সৃষ্ট এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার পক্ষে কমিশন আইনের তফসিল বর্হির্ভূত কোনো অভিযোগের ওপর কোনো প্রকার আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ নেই।

কমিশন যেসব অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করছে না , এগুলো মূলত: কমিশন আইনের তফসিলবহির্ভূত অভিযোগ যেমন-ব্যক্তিগত রেষারেষি, বেসরকারি ব্যক্তিদের ভূমি নিয়ে বিরোধ, ব্যক্তি পর্যায়ের আর্থিক লেন-দেন সংক্রান্ত, পারিবারিক বিরোধ যেমন যৌতুক-নারী নির্যাতন, অতি তুচ্ছ ঘটনা, প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে মানুষকে হয়রানি করার জন্য অভিযোগ ইত্যাদি। কমিশন কোন কোন অপরাধ আমলে নিতে পারে তা বিভিন্ন সময়ে পত্রিকা, টেলিভিশনে বিজ্ঞাপণ আকারে এবং কমিশনের ভেরিফাইড ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমেও প্রচার করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুদক আইনের তফসিল বহির্ভূত অভিযোগের ওপর কোনো প্রকার প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের তেমন সুযোগ কমিশনের নেই। তারপরও কমিশন বিশেষ করে কমিশনের অভিযোগকেন্দ্রের হটলাইনে যারা অভিযোগ করেন, তাদেরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে অভিযোগের বিষয়টি অবহিত করা হয়। তিনি দুদক আইনের তফসিলভুক্ত (কোন কোন অপরাধ) অপরাধের বিষয়ে অভিযোগ দায়েরের জন্য নাগরিকদের কাছে আহ্বান জানান। -ডেস্ক