(দিনাজপুর২৪.কম) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকার মতিঝিল থেকে ৮ কোটি টাকা জব্দের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাবেক এপিএস মিয়া নুরউদ্দিন অপুকে আটক করেছে র‌্যাব। নির্বাচনের আগে ভোটের মাঠে কালো টাকা ছড়িয়ে দেয়ার সময় র‍্যাব মতিঝিল থেকে যে ৮ কোটি টাকা উদ্ধার করেছিল, ওই ঘটনায় অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় শুক্রবার (০৪জানুয়ারি) রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে অপুকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপু ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। নুরুদ্দীন শরীয়তপুর-৩ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

র‌্যাব-১ অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ২৪ ডিসেম্বর থানায় দায়েরকৃত মানি লন্ডারিং মামলায় ৪ নম্বর আসামি অপু। তদন্তে মামলার অভিযোগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা থাকায় সেদিন থেকে র‌্যাব তাকে খুঁজতে থাকে। শুক্রবার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার খবর পাওয়ার পর বিকালে তাকে আটক র‌্যাব। তবে তিনি সুস্থ হওয়া পর্যন্ত র‌্যাবের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকবেন। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বের হবার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বিএনপি–জামায়াত সরকারের সময় মিয়া নুরুদ্দীন অপু সমালোচিত ও বিতর্কিত হাওয়া ভবনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। ওই সময় তিনি বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ছিলেন। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় অপু মালয়েশিয়া চলে যান। এরপর দেশে ফিরে বেশ কিছু দিন জেল খাটেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের মাঠে কালো টাকা ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে গত ২৫ ডিসেম্বর হাওয়া ভবনের সাবেক কর্মচারীসহ ৩ জনকে আটক করে র‍্যাব। তারা হলেন- মতিঝিলের ইউনাইটেড কর্পোরেশনের এমডি আলী হায়দার, গুলশানের আমেনা এন্টারপ্রাইজের জয়নাল ও ইউনাইটেড কর্পোরেশনের অফিস ব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন। তাদের কাছ থেকে নগদ ৮ কোটি টাকা ও ১০ কোটি টাকার চেক জব্দ করা হয়।

পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব জানায়, নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে দুবাই থেকে হুন্ডির মাধ্যমে ১৪০ কোটি কালো টাকা বাংলাদেশে এসেছে। এসব কালো টাকা একটি গোষ্ঠীর পক্ষে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ সেসময় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আটককৃতদের কাছ থেকে পাওয়া নথিপত্র প্রাথমিকভাবে বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে সম্প্রতি তারা ১৪ কোটি কালো টাকা সারাদেশে পাঠিয়েছে। এর আগে তারা আরো ১৪০ কোটি টাকা বিভিন্ন ভাবে ছড়িয়ে দিয়েছে, যার বেশিরভাগই দুবাই থেকে এসেছে। সর্বশেষ শরীপুতপুর-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী মিয়া নুরুউদ্দিন অপুকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে। তাকে টাকা পাঠানোর তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে র‌্যাব। চট্টগ্রামসহ আরও কয়েকটি জেলায় টাকা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন র‍্যাবের মহাপরিচালক। -ডেস্ক