হাফিজুর রহমান হাবিব (দিনাজপুর২৪.কম) মহামারী করোনা প্রতিরোধে ঘোষিত লকডাউনের দীর্ঘ ৭৫ দিন বন্ধ থাকার পর শর্ত সাপেক্ষে ১৩ জুন (শনিবার) থেকে চালু হচ্ছে দেশের অন্যতম চতুর্দেশী স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা।

বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের আমদানি-রপ্তানিকারকদের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক ও চিঠি আদান-প্রদানের পর সকল প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চার দেশের মাঝে এই বন্দর দিয়ে বাণিজ্য কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেনপুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল আনিছুর রহমান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আনোয়ার সাদাত সম্রাট, পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মো. শরীফ হোসেন, আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী হাসান খান বাবলাসহ কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা।

সভায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্বাস্থ্যবিধিসহ ১১ দফা নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ বেধে দেয়া হয়েছে। নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে- বিদেশি চালকরা বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কোনো অবস্থাতেই গাড়ি থেকে নামতে পারবেন না; প্রয়োজনে পানিসহ শুকনো খাবার ও কাগজ কলম সাথে বহন করবেন; বন্দর কর্তৃপক্ষ পৃথক শৌচাগারের ব্যবস্থা করবেন; কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশে অবস্থান করতে পারবেন না; চালকদের জন্য পৃথক প্রবেশ ও বর্হিগমণের ব্যবস্থা করতে হবে; একটি মনিটরিং কমিটি থাকবে এবং বন্দরের কার্যক্রম সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

দীর্ঘ ৭৫ দিন বন্দরটির আমদানি-রপ্তানীর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘরবন্দীতে কর্মহীন হয়ে পড়ে হাজারো পাথর শ্রমিক। যাদের রুটি-রোজগার চলে পাথরের শ্রমের উপর নির্ভর করে। অর্থনৈতিক সংকটে মানবেতর জীবন পোহাচ্ছিলেন বন্দরটির লোড-আনলোডে নিয়োজিত শ্রমিকরা। বন্দর চালুর ঘোষনায় যেন তাদের মধ্যে ফিরে এসেছে স্বস্তি। তবে স্বাস্থ্যবিধি সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে কঠোর নির্দেশ প্রদান করেছে প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেছেন, ‘বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের স্বাস্থ্য বিধিসহ ১১ দফা নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।