(দিনাজপুর ২৪.কম)চুরি হয়েছে একটি দোকানের গুটিকয়েক চকোলেট, বিস্কুট আর ছ’টা টুপি। তাতেই মাথায় হাত পড়েছে স্থানীয়দের। ভাবছেন, প্রতিদিন আপনার চারপাশে সোনা-গহনা আর কোটি কোটির কাছে এটি তো কিছুই নয়। হ্যাঁ, আপনার ধারণাটা ভুল নয়, কিন্তু চিন্তা চুরি যাওয়া জিনিসের জন্য নয়, অন্য জায়গায়। তাহলে কি হারিয়ে যাচ্ছে সততা? যেখানে গত ৬৫ বছরে কোনো চুরির ঘটনা ঘটেনি সেখানে আবারও অসৎ মানুষের আবির্ভাব।স্কটল্যান্ডের ছোট্ট দ্বীপ ক্যানা। জনসংখ্যা সর্বমোট ২৬ জন। সেখানে কোন পুলিশ নেই, তাই নেই কোনো পুলিশ স্টেশনও। সেখানে ওসবের দরকারই নেই। কারণ সেখানে নেই কোন অপরাধও। এমনই একটি জায়গায় সবার জন্য রয়েছে একটাই দোকান। ক্যানা কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট ট্রাস্টের অধীনে এই দোকান চালান কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক। এই দোকান খোলে মাঝরাতে। নাবিক ও জেলেরা যাতে একটু চা-কফি খেতে পারেন, কিছু প্রয়োজন হলে কিনতে পারেন, সেজন্যই রাতে খোলা হয় দোকানটি। জিনিস কেনার পর ক্রেতারা টাকা ফেলে দেন ‘সততার বাক্স’-এ। চুরির কথা এখানে কেউ ভাবতেই পারেন না।

শেষবার এই দ্বীপে চুরি হয়েছিল ১৯৬০ সালে। রু চার্চ থেকে চুরি গিয়েছিল একটি কাঠের প্লেট। তা আর কোনদিন খুঁজেও পাওয়া যায়নি। তারপর এই আবার চুরি। ম্যাকবে নামে এক নারী, যিনি দোকানটি চালান, তিনি বলছেন, ‘কোন টাকা চুরি যায়নি, শুধু ২০০ পাউন্ডের জিনিস খোয়া গেছে। কিন্তু আমি এটা ভাবতেই পারছি না, আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যেই এমন কেউ আছেন, যিনি এই চুরিটা করেছেন।’

এবার চুরির পর অনেকে দোকানে সিসি ক্যামেরা লাগানোর পরামর্শ দিলেও, দোকান মালিকের তাতে সম্মতি নেই। ‘আমরা সিসি ক্যামেরা লাগাতে চাই না, কারণ সেটা করলে সততার পরিবেশের বিরোধিতা করা হবে। এ ধরনের ছোট্ট দ্বীপে কেউ বাস করলে, তাকে তার প্রতিবেশীকে, তার চারপাশের মানুষদের বিশ্বাস করতে হবে।’ (ডেস্ক)