(দিনাজপুর২৪.কম) একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কিশোরগঞ্জের ৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। দুই সহোদর অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন আহমেদ (৬০) ও সেনাবাহিনীর বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মো. নাসিরউদ্দিন আহমেদ (৬২), ওই এলাকার গাজী আবদুল মান্নান (৮৮) ও হাফিজ উদ্দিনকে (৬০) ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আরেক আসামি আজহারুল ইসলামকে (৬০) আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। বিচারপতি আনোয়ার উল হকের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গতকাল এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দী। দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে শামসুদ্দিন কারাগারে থাকলেও বাকি চারজন পলাতক। পলাতক চারজনকে গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ১১ই এপ্রিল মামলার রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল রায় ঘোষণার আগে কারাগারে আটক শামসুদ্দিন আহমেদকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণা শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে ফেরত পাঠিয়ে দেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবীরা। অন্যদিকে রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়েছেন মর্মে এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। আসামিদের বিরুদ্ধে একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের সাতটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযোগ গঠন করা হয়।
গতকাল ৬২৮ প্যারা সংবলিত ৩৩০ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপ পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনাল। রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় প্রসিকিউশনের আইনজীবী সুলতান মাহমুদ সীমন সাংবাদিকদের বলেন, এ মামলার সাতটি অভিযোগের সবকটি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। ট্রাইব্যুনালের এ রায়ে আমরা সন্তোষ্ট। গতকালের রায়টি শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জন্মদিনে তাকে উৎসর্গ করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আজকের এই দিনে তার আত্মা শান্তি পাবে। একাত্তরের যেসব হত্যার বিচার হয়নি তা থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি। এদিকে দণ্ডপ্রাপ্তদের আইনজীবীরা বলছেন তারা এ রায়ে সংক্ষুব্ধ। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েয়েন আইনজীবীরা। দণ্ডপ্রাপ্ত শামসুদ্দিনের আইনজীবী মাসুদ রানা রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ন্যায়বিচার পাননি। আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের যেসব সাক্ষী হাজির করেছিল তারা ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক, অপ্রত্যক্ষ ও শোনা সাক্ষী। ট্রাইব্যুনাল  এসব আমলে নেননি। এই রায়ে আমরা সংক্ষুব্ধ। আসামি ও তার স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে আপিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পলাতক চার আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আব্দুস শুকুর খান রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জানান, আসামিরা ন্যায়বিচার পাননি। তারা আত্মসমর্পণ করে উচ্চ আদালতে আপিল করলে খালাস পাবেন বলে মনে করেন তিনি।
গত বছরের ১৩ই মে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে একই বছরের ১২ই অক্টোবর পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে রাষ্ট্রপক্ষে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল-মালুম, সুলতান মাহমুদ সীমন ও রেজিয়া সুলতানা চমন। অভিযোগ গঠনের বিপক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিদের আইনজীবী আব্দুস শুকুর খান। গত বছরের ৪ঠা নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) ও সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের মাধ্যমে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। ৪ঠা নভেম্বর থেকে ১লা মার্চ পর্যন্ত পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে ২৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তবে, আসামিপক্ষে কোনো সাফাই সাক্ষী ছিল না। এরপর ১০ ও ১১ই এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন ও রেজিয়া সুলতানা চমন। আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন শামসুদ্দিনের আইনজীবী মাসুদ রানা। অন্যদিকে পলাতক চারজনের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী আব্দুস শুকুর খান যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।-ডেস্ক