মো. নুরুন্নবী বাবু (দিনাজপুর২৪.কম) ৪২ বছরের ভোগান্তির অবসান ঘটতে যাচ্ছে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের। এই মানুষগুলোকে এতদিন বাঁশের সাঁকো, নদী সাতরিয়ে চলাফেরা করতে হয়েছে। আর কিছুদিন পর তারা চলাচল করবে একটি ব্রিজের ওপর। এ যেন বিশাল স্বপ্ন পূরণের সামিল। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ি ইউনিয়নের নয়ারহাট মধুপুর এলাকায় গিয়ে এ দৃশ্য দেখা গেছে। ওই এলাকার তিরনই নদের ওপর সেতু না থাকায় বাঁশের সাকোঁ উপর দিয়ে এভাবেই প্রতিদিন কষ্ট করে চলাচল করছেন প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। তিরনই নদ পাড়ের ডাঙ্গী ও মিন্ত্রিপাড়া এলাকার লোকজন জানান, নদের মিস্ত্রি এলাকার পূর্বপাড়ে গুল বস্তি, আগাপাড়া, হিন্দুপাড়া, মধুপুর, দৌগাড়ি, আখানগর, রুহিয়া সহ প্রায় ৪০ টি গ্রাম আর পশ্চিম পাশে রয়েছে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা হাসপাতাল, স্কুল ও কলেজ, উপজেলা পরিষদ, বড়বাড়ি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন অফিস আদালত। তাই পূর্বপাড়ের শিক্ষার্থী ও কৃষকদের বাঁশের সাকোঁ দিয়ে বিদ্যালয়, কলেজ ও হাটে আসতে হয়। আবার পূর্বপাড়ে লোকজন পশ্চিমপাড়ের লোকজনকে মালামাল কেনাবেচা করতে এ পাড়ে আসতে হয় উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে। এ সাঁকো দিয়ে কোনো রকমে পারাপার সম্ভব হলেও কোনো যানবাহন চলাচল করা সম্ভব নয়। এরফলে এলাকাবাসী তাদের উৎপাদিত খাদ্যশস্য, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন কাঁচামাল বাজারসহ অন্যান্য হাটে নিয়ে আসতে অসুবিধার সম্মুখীন হন। ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে অনেকটা ভীতির মধ্যে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠান। অনেক সময় যাতায়াতকারী পথচারীরা সাঁকো ভেঙে নিচে পড়ে আহত হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য, হাট-বাজার, কৃষি কাজ ও লেখাপড়ার জন্য দু’পাড়ের মানুষকে প্রায় সময়ই নদী পার হতে হয়। কিন্তু দুর্ভাগা মানুষরা সেতুর অভাবে নানা ভোগান্তিতে পড়েন। বাঁশের সাঁকো যেন পারাপারের একমাত্র ভরসা।
এলাকাবাসী জানান, আমরা এ অঞ্চলের অবহেলিত জনগণ। আমরা অনেক দিন ধরে একটি ব্রিজের স্বপ্ন দেখে আসছি কিন্তু আমাদের স্বপ্ন যেন স্বপ্নই ছিল। আজ আমাদের কাক্সিক্ষত স্বপ্নটি বাস্তব রূপ ধারণ করে।।

তারা আরও জানান, বাপ-দাদারা কষ্টে করে গেছে আমরা আরামে যাতায়াত করতে পারবো। আমাদের কষ্ট করে যেতে হবে না আর। আমরা আশা করছি আমাদের কাক্সিক্ষত স্বপ্নটি অতি শিগরই পূরণ হবে।।

কাঁচামাল ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান জানান, তিরনই নদের উপর বড়বাড়ি ইউনিয়ন ছাড়া অন্য পথে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা শহর হাটে যেতে হলে ৯-১০ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরতে হয়। তাই তিনি দোকানের মালামাল নিয়ে পানি ঠেলে বা সাকোঁর উপর দিয়ে নদ পার হন। এতে তাঁর অনেক কষ্ট হয়। তিনি বলেন, ‘এইঠে একখান ব্রিজ হইলে জীবনটা শান্তি পাইবে।’

ডাঙ্গীপাড়া গ্রামের জমির উদ্দিন (৭৪) বলেন, ‘মুই বুঝি আর পুল দেখি যাবা পারিবা নুহু (না)। ভোটের আগত সবায় কহিছিল ক্ষমতায় গেলে প্রথম কাজ হবে এই পুলখান নির্মাণ করা। অবশেষে ব্রিজ হলে হামার (আমাদের) খুব উপকার হবে।’

মিস্ত্রিপাড়া এলাকার এক প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমার স্কুলে শিক্ষার্থীরা বাঁশের সাঁকো দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিতে পারাপার হয়। স্কুলে অনেক শিক্ষার্থী বাঁশের সাঁকো পারাপারের ভয়ে অন্য স্কুলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। আমার স্কুলের শিক্ষার্থীদের বেশি কষ্ট হয় বৃষ্টির দিনে। বৃষ্টিতে বাঁশের সাঁকো ভিজে পিচলা হয়ে যায় ফলে স্লিপ কেটে নিচে পরে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে অনেকবার।’ বালিয়াঙ্গী উপজেলা নিবার্হী প্রকৌশলী মইনুল ইসলাম জানান, এ সপ্তাহেই ব্রিজের কাজ শুরু করা হবে। ৭২ মিটার এই ব্রিজ নির্মানের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা। ৮ মাসের মধ্যে ব্রিজ নির্মানের কাজ শেষ করার কথা বলা হয়েছে ঠিকাদারকে।
ঠাকুরগাঁও- আসনের সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম জানান, এলাকার মানুষের দীর্ঘদের দাবি ছিল তিরনই নদীর উপর একটি ব্রিজ নির্মান হবে। আজ তা বাস্তবায়নের রূপ নিয়েছে। ব্রিজটির নির্মান কাজ শেষ হলে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াতের সুযোগ পাবে।