(দিনাজপুর২৪.কম) সব রকম বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও দেশের মধ্যেই ৪০ লাথ মানুষকে এক কলমের খোঁচায় রাতারাতি উদ্বাস্তু করে দেওয়া হলো। সোমবার ভারতের আসামে রাষ্ট্রীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন বলে যুগশঙ্খের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এনআরসি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে মমতা বলেন, হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সেনা নামিয়ে, সব যোগাযোগের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে বাঙালি খেদাও, বিহারি খেদাও অভিযান চালানো হচ্ছে। এটা খুবই চিন্তার বিষয়। মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কা, এর ফলে পাঁচ-ছয় পুরুষ ধরে আসামে বসবাসকারী ব্যক্তিদের কেবল ভোটের রাজনীতির জন্য এই হাল করা হলো। তাদের এবার জোর করে উৎখাত করা হবে।

বিয়ষটি নিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার জন্য সময় চেয়েছেন বলেও জানান মমতা বন্দোপাধ্যায়।

তিনি জানান, শিগগিরই তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদদের একটি দলকে আসামে পাঠানো হবে। এমনকি পরিস্থিতি সহায়ক হলে তিনিও আসামে যাবেন।

মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কা, আসাম সরকারের এই এক তরফা সিদ্ধান্তের ফলে চাপ বাড়বে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে। কারণ এই দুই জায়গা আসামের সবচেয়ে কাছের।

আসামের এসব মানুষ পশ্চিমবঙ্গে আসলে তারা আশ্রয় দেবেন কিনা- এমন প্রশ্নে মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেন, তারা আসামে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছেন। কিন্তু অত্যাচারের ভয়ে চলে আসার একটা সম্ভাবনাও রয়েছে। যদি তারা আসে তাহলে আমরা অবশ্যই ভাবব। কিন্তু কেন তাদের তাড়ানো  হবে, সেটাই আমার প্রশ্ন।

সোমবার ভারতের আসামের বহুল আলোচিত জাতীয় নাগরিক পঞ্জীকরণ বা ‘এনআরসি’-এর খসড়া তালিকা প্রকাশ হয়। এতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের নাম বাদ দিয়েছে প্রদেশের সরকার।

এনআরসিতে নাম তালিকাভুক্ত করতে আসামের মোট ৩ কোটি ২৯ লাখ মানুষ আবেদন করেন। গত ৩১ ডিসেম্বর প্রথম দফায় ১ কোটি ৯০ লাখ নাম ঠাঁই পায় এনআরসিতে। সোমবার প্রকাশ হয় দ্বিতীয় দফার তালিকা।

যারা এনআরসি’র তালিকাভুক্ত হতে পারেন নি তাদের অনেকেই মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মণিপুর বা ত্রিপুরার মতো আশেপাশের রাজ্যগুলোতে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।  -ডেস্ক