(দিনাজপুর ২৪.কম) স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সুনাম ক্ষুণ্ণের অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের মামলায় গ্রেফতার সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার ফরিদপুরের এক নম্বর আমলি আদালতের বিচারক হামিদুল ইসলাম শুনানি শেষে প্রবীর শিকদারের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং তাকে সতকর্তার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন।
 এর আগে সোমবার সোমবার সন্ধ্যায় ফরিদপুরের তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন একই আদালত। ওই দিন পুলিশের পক্ষ থেকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হ। এই আবেদনের ওপর শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।
 মঙ্গলবার বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাহিদ বেপারী প্রবীর শিকদারের রিমান্ডের দাবি জানিয়ে শুনানি করেন আদালতে। অপরদিকে বিবাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলী আশরাফ নান্নু রিমান্ডের বিরোধীতা করে প্রবীর শিকদারের জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রবীর শিকদারকে ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
 মন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার ঘটনায় রোববার রাতে রাজধানীর ইন্দিরা রোডের পত্রিকা কার্যালয় থেকে প্রবীরকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। প্রবীর সিকদার ‘উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ’ ও ‘দৈনিক বাংলা ৭১’ নামের পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। তিনি এর আগে সমকাল ও কালের কণ্ঠে কাজ করেন।
 ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে মন্ত্রীর সুনাম ক্ষুণ্ণের অভিযোগে রোববার সন্ধ্যায় ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানায় মামলাটি (নম্বর-২৮) করেন স্থানীয় আইনজীবী স্বপন কুমার পাল।
 স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা ও জজ কোর্টের এপিপি অ্যাডভোকেট স্বপন কুমার এজাহারে উল্লেখ করেন, প্রবীর সিকদার গত ১০ আগস্ট তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ‘আমার জীবন শংকা তথা মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী থাকবেন’ শীর্ষক একটি স্ট্যাটাস লেখেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি খুব স্পষ্ট করেই বলছি, নিচের ব্যক্তিবর্গ আমার জীবন শংকা তথা মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবেন: ১. এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি, ২. রাজাকার নুলা মুসা ওরফে ড. মুসা বিন শমসের, ৩. ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী বাচ্চু রাজাকার ওরফে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং এই তিন জনের অনুসারী-সহযোগীরা।’
 বাদী এজাহারে আরও বলেন, ‘ওই পোস্টটি পড়ার পর তার দৃঢ় বিশ্বাস হয় প্রবীর সিকদার ইচ্ছাকৃতভাবে গণমানুষের প্রিয় নেতা মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি সম্পর্কে মিথ্যা, অসত্য লিখে সেটি তার ফেসবুক থেকে পোস্ট করে মন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন। লেখাটি জনসম্মুখে প্রকাশের মাধ্যমে উসকানি দিয়ে শান্তিপ্রিয় মানুষের কাছে মন্ত্রীকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য বিদ্বেষ ছড়িয়েছেন। এর ফলে মন্ত্রীর মানহানি ঘটেছে, যা একটি ফৌজদারি অপরাধ। প্রবীর সিকদার লেখাটি পোস্ট করার মাধ্যমে জনপ্রিয় রাজনীতিক ব্যক্তি, জনগণের ভোটে নির্বাচিত এমপি, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী সম্পর্কে ইচ্ছাকৃতভাবে ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার সুগভীর চক্রান্ত করেছেন।’
বাদী অ্যাডভোকেট স্বপন কুমার পাল বলেন, ‘মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি সম্পর্কে লেখাটি পড়ে তিনি সংক্ষুব্ধ হন। তাৎক্ষণিকভাবে লেখাটি তার সহকর্মী সাক্ষী অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা, অ্যাডভোকেট নারায়ন চন্দ্র দাস, অ্যাডভোকেট অসিত কুমার মজুমদার, অ্যাডভোকেট অনিমেষ রায়, অ্যাডভোকেট জাহিদ ব্যাপারী, অ্যাডভোকেট জাহিদ হোসেন জয়, অ্যাডভোকেট প্রদীপ দাস লক্ষণসহ অন্যদেরকে দেখান। তারাও এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এরপর সাক্ষীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তিনি মামলার আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন।’
 সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের ভাই সুবীর সিকদার বলেন, ‘প্রবীর সিকদারের স্বাস্থ্য নিয়ে তার পরিবার উদ্বিগ্ন। তার একটি পা না থাকায় চলাচল, প্রাকৃতিক ক্রিয়াকর্মের বিষয়ে নানা অসুবিধা রয়েছে। তারা চান অবিলম্বে প্রবীরকে মুক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হোক।'(ডেস্ক)