(দিনাজপুর২৪.কম) ৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিন হানাদার মুক্ত হয় এ জেলা। জেলা ভিত্তিক মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস লিপিবদ্ধ করে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার দাবি উঠেছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ এই কালরাতে পাকসেনারা ঝাঁপিয়ে পড়ে বাংলাদেশী মানুষের উপর। তাদের প্রতিরোধ করতে সারা দেশসহ ঠাকুরগাঁওবাসীও গড়ে তুলেছিল দুর্বার আন্দোলন। প্রায় ৮ মাস যুদ্ধের পর ২৯ নভেম্বর পঞ্চগড় হাতছাড়া হওয়ার পর ঠাকুরগাঁওয়ে ঘাঁটি স্থাপন করে পাকবাহিনী। ৩০ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা ভুল­ী ব্রিজ উড়িয়ে দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পহেলা নভেম্বর কমান্ডার মাহাবুব আলমের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ঠাকুরগাঁওয়ের দিয়ে ঢোকে। ২ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে পিছু হটতে বাধ্য হয় পাকবাহিনী। ৩ ডিসেম্বর বিজয়ের বেশে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধারা। স্বদেশের পতাকা উড়িয়ে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ ধ্বনিতে আনন্দ উল­াস করে এলাকার মুক্তিকামী মানুষ। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি রাজিউর রহমান বলেন- এ ধরনের দিবসগুলো সরকারিভাবে পালন করা প্রয়োজন। তা না হলে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্ম জানতে পারবে না। এছাড়াও স্থানীয় ভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা প্রয়োজন। তা না হলে একসময় ইতিহাস বিকৃত হতে পারে। জেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তি যোদ্ধা মোজাম্মেল হক বলেন, জেলার অরক্ষিত বদ্ধভূমিগুলো সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। এছাড়াও স্থানীয় রাজাকারদের বিচারের আওতায় আনার দাবি করা হচ্ছে।

দিনটি পালন উপলক্ষে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গ্রহণ করেছে দিনব্যাপী কর্মসূচি।
উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি সেতারা বেগম জানান, ঠাকুরগাঁও পাক হানাদার মুক্ত দিবস পালন উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারো দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সহযোগিতা পাওয়া গেছে।

স্থানীয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস লিপিবদ্ধ করার পাশাপাশি স্থানীয় যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা করে বিচারের আওতায় আনার দাবি উঠেছে। এছাড়া গণকবর চিহ্নিতকরণ ও অরক্ষিত গণকরব সংরক্ষণের দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। গণকবর গুলো সংরক্ষণ ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে জেলা প্রশাসন সচেষ্ট আছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল।

মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের দিবসগুলো পালনে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন বলে মনে করেন এলাকাবাসীর।