(দিনজপুর২৪.কম) রাত প্রায় ১১টা। হালকা বৃষ্টি ঝরছে। পিচ্ছিল রাস্তা। এরমধ্যেই ফুটপাতে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েক জন। আর রেইনকোট পরনে তিন জন মূল রাস্তায়। তাদের মুখে নরমাল মাস্ক। কারও হাতে গ্লাভস আছে, কারও নেই। তারা পুলিশ সদস্য।

দায়িত্ব পালন করছেন চেকপোস্টের। এই দৃশ্য দেখা গেছে রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকায়। একইভাবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পিকআপে করে টহল দিচ্ছে পুলিশ। দিন-রাত মহাসড়কে, শহরের অলি-গলিতে দাযিত্ব পালন করছে পুলিশ। কোয়ারেন্টিন
নিশ্চিত করতেও ছুটে যাচ্ছে তারা। অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যুর পর লাশ উদ্ধার করে মর্গে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর পর যখন জানাযা, দাফন করাতে কেউ এগিয়ে যেতে চায় না তখনও এগিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

ঝুঁকিপূর্ণভাবে এসব কাজ করতে গিয়ে নিজেরাই আক্রান্ত হচ্ছেন। গত পাঁচ দিনে সারাদেশে ১৭৪ জন পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৩শে এপ্রিল আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ২১৮। তা বেড়ে আজ দাঁড়িয়েছে ৩৯২ জনে।

সূত্রমতে, হাট-বাজার বসার সময় নিয়ন্ত্রন, ত্রাণ বিতরণে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, মানুষের চলাফেরার ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কাছাকাছি যেতে হয় পুলিশ সদস্যদের। এতে কখন কিভাবে কে আক্রান্ত হচ্ছে বুঝা দুষ্কর হয়ে যায়। সবেচেয়ে বেশি পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন ঢাকায়। তারপরেই রয়েছে গাজীপুর, গোপালগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ সদস্যরা আক্রান্ত হয়েছেন। ঢাকাতে দেড় শতাধিক পুলিশ সদস্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে ডিএমপিতে করোনায় আক্রান্ত রয়েছেন প্রায় ৪০ জন পুলিশ সদস্য। আক্রান্তদের মধ্যে কনস্টেবল থেকে শুরু করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে,  দায়িত্ব পালনরত সব পুলিশ সদস্যের জন্য ইতিমধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ সুরক্ষা সামগ্রী সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন তা বিভিন্ন ইউনিটে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার জন্য পুলিশের হাসপাতাল গুলোতে প্রয়াজনীয় সব ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

ডিএমপির শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, ঝড়, বৃষ্টি হলেও পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। কেউ যখন রাস্তায় থাকে না তখনও মানুষের নিরাপত্তার জন্য পুলিশকে রাস্তায় থাকতে হয়। গড়ে একজন পুলিশ সদস্য ১২ ঘন্টা ডিউটি করেন। দায়িত্ব পালন করতে পুলিশ মাঠে রয়েছে বলে জানান তিনি।

এসব বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যের সুচিকিৎসাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যাপ্ত আয়োজন রাখা হয়েছে। রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালসহ পুলিশের অন্যান্য হাসপাতালগুলোতে করোনা সংক্রান্ত চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া বিভাগীয় পর্যায়েও করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।  -সূত্র : ম.জমিন