(দিনাজপুর২৪.কম) পাঁচ বছর আগে নরসিংদীতে নিহত ইলমা বেগম (১১)কে তার বাবার সামনেই মুগুর ও হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট  (সিআইডি)। টাকার বিনিময়ে নৃশংস এই হত্যাকান্ডে অংশ নিয়েছিলো শিশু ইলমার পরিবারের সদস্যরা।
গতকাল দুপরে সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান, সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই শাজাহান গ্রুপের সাথে ৩০ লাখ টাকার চুক্তিতে এ হত্যাকান্ডে ইলমার পরিবার অংশ নেয়। এ ঘটনায় সিআইডি পাঁচজনকে  গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন, ইলমার বাবা আব্দুল মোতালেব, মা মঙ্গলী বেগম, ইলমার ফুফাতো ভাই মাসুম মিয়া, মো. বাতেন ও শাহজাহান গ্রুপের প্রধান মো.শাহজাহান ভূঁইয়া। এর মধ্যে মাসুম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ডিআইজি ইমতিয়াজ  আহমেদ বলেন, নরসিংদীর বাহের চর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শাহজাহান গ্রুপের সাথে সাবেক মেম্বার বাচ্চু   গ্রুপের দ্বন্ধ চলছিল।এরই ধারাবাহিকতায়, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে ইলমাকে হত্যা করার সিদ্ধন্ত নেয়া হয়।

পরে ২০১৫ সালের ২৭শে মার্চ রাতে ইলমার দুলাভাই বাবুল ও ফুফাতো ভাই মাসুমের নেতৃত্বে সাত আটজন মিলে ধান  ক্ষেতে নিয়ে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ঘটনার সময় ইলমার বাবা উপস্থিত ছিলেন। হত্যাকান্ডের সময় ইলমার বাবা বলেন, আগে টাকা দাও পরে কাম সারো। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন সময়ে চার লাখ টাকা পান। এরপর ওই বছরের ২৮শে মার্চ নরসিংদী সদর মডেল থানা পুলিশ ইলমার লাশ উদ্ধার করে। আর এ ঘটনায় ওই বছরের ৩১শে মার্চ ইলমার বাবা বাদী হয়ে বাচ্চু গ্রুপের বিলকিস, খোরশেদ, নাসুসহ আরে অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর থানা পুলিশ আসামিদের ধরতে ব্যর্থ হলে সিআইডি মামলাটি তদন্ত শুরু করে। সিআইডি মামলাটি তদন্ত শুরু করার পর ইলমার বাবা নিয়মিতভাবে আসামি পরিবর্তন করার জন্য সিআইডিতে আবেদন করতে থাকেন। এতে সিআইডির সন্দেহ হলে তার পরিবারের  প্রতি গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করা হয়। পরে মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হলে এ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন হয়। এখন বাবা মাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান সিআইডি’র  তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। -ডেস্ক