(দিনাজপুর২৪.কম) দু’টি রেল প্রকল্পের নির্মাণ কাজ এবং বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে ভারত থেকে ভেড়ামারায় নবনির্মিত ৫শ’ মেগাওয়াট এইচভিডিসি ব্যাক টু ব্যাক স্টেশন সেকেন্ড ব্লকে’র উদ্বোধন করলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিল্লি থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। সোমবার থেকে ৫শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে এই বিদ্যুৎ আসছে। এর আগে, গতকাল রোববার (৯ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিল্লি থেকে সোমবার বিকেলে ভিডিও কনফারেন্সে ভেড়ামারায় নবনির্মিত ৫শ’ মেগাওয়াট এইচভিডিসি ব্যাক টু ব্যাক স্টেশন সেকেন্ড ব্লক-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর গ্রিড থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার আন্তঃবিদ্যুৎ সংযোগ গ্রিডে এ বিদ্যুৎ সরবরাহ হবে। এছাড়া দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েল গেজ রেললাইন প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশের নির্মাণ কাজ এবং মৌলবীবাজার জেলার কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল সংযোগ পুনর্বাসন প্রকল্পের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করবেন।

নতুন ৫শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মধ্যে ৩শ’ মেগাওয়াট আসবে ভারতের সরকারি খাত ‘ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট’ থেকে। বাকি ২শ’ মেগাওয়াট আসবে ভারতের বেসরকারি খাত ‘পাওয়ার ট্রেডিং করপোরেশন’ থেকে। বর্তমানে ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের পরিমাণ ৬৬০ মেগাওয়াটের মধ্যে ৫০০ মেগাওয়াট পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় যুক্ত হয়েছে। আরও ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে কুমিল্লায় বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।

এদিকে, আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশের কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে এক সুধী সমাবেশ বক্তব্য রাখেন। প্রায় ৫১ কিলোমিটার দীর্ঘ কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল সংযোগ পুনর্বাসন প্রকল্পে ৫৪৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা খরচ হবে। প্রকল্পে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল রুটে রেলওয়ে ব্রিজ, ব্রিজ ও স্টেশন বিল্ডিং, প্লাটফর্ম, রেল লাইন ও অন্যান্য রেল অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কার করা হবে। আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প এবং কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল পুনর্বাসন প্রকল্পের খরচ ভারতের এক বিলিয়ন ডলার লাইন অব ক্রেডিটের অংশ থেকে আসছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়া-শাহবাজপুর অংশের সংস্কার এবং আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলসংযোগ প্রকল্পের কাজে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে অর্থায়ন করবে। ট্রান্স এশিয়া রেলওয়ে নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কুলাউড়া-শাহবাজপুর অংশের সংস্কার প্রকল্প বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেলসংযোগ পুনঃস্থাপিত করবে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫৩ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেললাইন, সেতু ও কালভার্ট একাধিক স্টেশন ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে এবং স্থাপন করা হবে নন-ইন্টারলকড কালার লাইট সিগন্যাল-ব্যবস্থা। ভিডিও কনফারেন্সটি কুলাউড়া জংশন রেলস্টেশন চত্বরে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টের মাধ্যমে জনসাধারণকে দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।

প্রকল্প ব্যয় ৬৭৮ কোটি ৫০ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে ভারতীয় নমনীয় ঋণ (এলওসি) ৫৫৫ কোটি ৯৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। বাংলাদেশ সরকার বাকি ১২২ কোটি ৫২ লাখ ৩ হাজার টাকা সরবরাহ করবে। কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশনটি ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৯৬ সালের ৪ ডিসেম্বর মিটার গেজ লাইন হিসেবে চালু হওয়ার পর বাজেট স্বল্পতার কারণে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব না হওয়ায় গত ২০০২ সালের ৭ জুলাই বন্ধ ঘোষিত হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ভারতের কালিন্দি রেল নির্মাণ। চুক্তির মেয়াদ কাজ শুরুর তারিখ থেকে ২৪ মাস।

প্রসঙ্গত, কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথটির দৈর্ঘ ৫৩ কিলোমিটার। ১৮৮৫ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে অংশ হিসেবে চালু হয়েছিল। এটি ভারতের আসাম রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ২০০২ সালের ৭ জুলাই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার লোকজন দুর্ভোগে পড়ে। পরবর্তীতে এ পথে পুনরায় ট্রেন চালুর দাবিতে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে। এর প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ২৬ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৬৭৮ কোটি ৫০ লাখ ৭৯ হাজার টাকা ব্যয়ে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্প অনুমোদন হয়।

গত ১৬ আগস্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাজ পরিদর্শন করেন। ১০ আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রেলের পুরনো ব্রিজ ও রেললাইন ওঠানোর কাজ শুরু হয়। কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথে ছয়টি স্টেশন রয়েছে। ভারতের ‘কালিন্দি রেল নির্মাণ’ প্রতিষ্ঠান দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পেয়েছে। এছাড়াও প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে ‘বালাজি রেল রোড সিস্টেমস’ নামক ভারতের আরেকটি প্রতিষ্ঠান সংযুক্ত রয়েছে। -ডেস্ক