(দিনাজপুর ২৪.কম) ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ২৬ হাজার ১৪০ কোটি ৮ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ হয়েছে। ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিতরণ করা এ ঋণের পরিমাণ পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রার ২৫ শতাংশ। আগের বছরের একই সময় এ খাতে বিতরণ হয়েছিল ২১ হাজার ৯০৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এ হিসাবে ওই সময়ের তুলনায় ৪ হাজার ২৩৪ কোটি ১৯ লাখ টাকার বেশী ঋণ বিতরণ হয়েছে। অর্থ্যাৎ শতকরা হিসেবে ১৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারী-মার্চ সময়ে এসএমই খাতে বিতরণ করা ঋণের বেশিরভাগই বিতরণ হয়েছে ব্যাংকের মাধ্যমে। এ সময়ে ব্যাংকগুলো ২ লাখ ৬ হাজার ৭২৩ জন উদ্যোক্তাকে ২৫ হাজার ৩১৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বিতরণ করেছে যা বিগত বছরের একই সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত এসএমই ঋণের চেয়ে ৪ হাজার ১০১ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা ১৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি।
জানুয়ারি-মার্চ ত্রৈমাসিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এ বছরে তাদের লক্ষ্যমাত্রার ২৫ দশমিক শুণ্য ৮ শতাংশ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ২২ দশমিক ৬৩ শতাংশ অর্জন করেছে। আলোচ্য সময়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো ১৩৮৬৬ জন উদ্যোক্তাকে এক হাজার ৮৯২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো ১৯৮১ জনকে ১৩৬ কোটি ৫৮ লাখ, বিদেশী ব্যাংক ৯৮৭ জন উদ্যোক্তাকে ২৮৭ কোটি ৯৮ লাখ, বেসরকারী ব্যাংকগুলো ৩৮,৮৮৭ জনকে ১১ হাজার ৫৯২ কোটি ৯১ লাখ, ইসলামী ব্যাংকগুলো ১৫১,০০২ জন উদ্যোক্তাকে ১১ হাজার ৪০৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকার এসএমই ঋণ বিতরণ করেছে।
কেন্দ্রিয় ব্যাংক সূত্র জানায়, জানুয়ারি-মার্চ ত্রৈমাসিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বাৎসরিক লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার ৬২৫ কোটি ৬১ লাখ টাকার বিপরীতে ৪,০৭৭ জন উদ্যোক্তার মাঝে ৮২০ কোটি ৩৫ লাখ টাকার এসএমই ঋণ বিতরণ করেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ২৩ শতাংশ অর্থাৎ ১৩২ কোটি ২৯ লাখ টাকা বেশি বিতরণ করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস্ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক স্বপন কুমার রায় বলেন, কেন্দ্রিয় ব্যাংকের পরামর্শে ব্যাংকগুলো এবার বড় উদ্যোক্তাদের তুলনায় ক্ষুদ্র ও মাঝারী খাতের শিল্প উদ্যোক্তাদের বেশি ঋণ দিয়েছে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঋণ একত্র করে তাদের মোট ঋণ বেড়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্রিয় ব্যাংকের কঠোর তদারকি ও ব্যাংকগুলোর আন্তরিকতার ফলে এসএমই খাতে বিতরণ করা ঋণের গুণগত মানও বেড়েছে। উৎপাদন ও সেবাখাতে ঋনের হার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি জানান, প্রকৃত উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে কেন্দ্রিয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে গিয়ে ঋণের মান ও উদ্যোক্তা যাচাই করছেন। ব্যাংকগুলোর সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে। ক্লাস্টারভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকগুলোকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এসব কারণে বিতরণ বাড়ছে বলে তিনি মনে করছেন।
চলতি বছর এসএমই খাতে এক লাখ ৪ হাজার ৫৮৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ঋণ বিতরণের যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বছরশেষে তা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কেন্দ্রিয় ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ৮০,৩৭০ জন নারী উদ্যোক্তার মাঝে ৮৮৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। বিগত বছরের একই ত্রৈমাসিকের চেয়ে বিবেচ্য ত্রৈমাসিকে ঋণ প্রাপ্ত নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা ৭৫,০৩০ জন বেশী এবং ৫৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বিতরণ বেড়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ ত্রৈমাসিকে সেবা খাতে ৮,৪৫০ জন উদ্যোক্তাকে ২ হাজার ৯৮৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা; ব্যবসা খাতে ১,১৩,৮৪৫ জন উদ্যোক্তাকে ১৬ হাজার ৩৯৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা এবং শিল্প খাতে ৮৮,৫০৫ জন উদ্যোক্তাকে ৬ হাজার ৭৫৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত মোট এসএমই ঋণের ১১ দশমিক ৪৪ শতাংশ সেবা খাতে, ৬২ দশমিক ৭২ শতাংশ ব্যবসা খাতে এবং ২৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ শিল্প খাতে বিতরণ করা হয়েছে।
এসময় কটেজ খাতে ৪৬০ কোটি ৯১ লাখ টাকা, মাইক্রো উদ্যোক্তা খাতে এক হাজার ৯২৬ কোটি ২ লাখ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতে ১০ হাজার ৭১৬ কোটি ৯৬ লাখ এবং মাঝারি খাতে ১৩ হাজার ৩৬ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ঋণপ্রাপ্তদের মধ্যে ৩১,৬৭৪ জন নতুন উদ্যোক্তা রয়েছে। এছাড়া বিগত বছরের একই ত্রৈমাসিকের চেয়ে বিবেচ্য ত্রৈমাসিকে এসএমই ঋণ আদায়ের পরিমাণ ১০ হাজার ৫১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে এসএমই ঋণ আদায়ের হার ৬১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। বিগত বছরের একই ত্রৈমাসিকে এ হার ছিল ৪৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ ছাড়া এসএমই খাতে শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে।(ডেস্ক)