(দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় মিজদাহ শহরে ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যার ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা দুই মামলায় তিন মানবপাচারকারীর পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই ঘটনায় তেজগাঁও থানায় দায়ের করা এক মামলায় দুই মানবপাচারকারীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আজ সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম বাকী বিল্লাহ এই রিমান্ড মঞ্জুর এবং কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন, জাহাঙ্গীর হোসেন, বাদশা ফকির ও লিয়াকত আলী ওরফে লেকু শেখ। জাহাঙ্গীর হোসেন ও বাদশা ফকির একই মামলার আসামি। আর লেকু শেখ অপর মামলার আসামি।

জাহাঙ্গীর হোসেন ও বাদশা ফকিরের ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) এস এম গফফারুল আলম।

অন্যদিকে লেকু শেখের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদনন্তকারী ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার মিয়া।

লেকু শেখের পক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু অপর দুই আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

অপরদিকে কারাগারে যাওয়া দুই আসামি হলেন হযরত আলী ও নাজমুল হাসান। তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) লিয়াকত আলী। তবে তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

এ মামলায় গত রোববার সুজন মিয়া নামের এক আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেওয়ায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে পল্টন থানার আরেক মামলায় মাহবুবুর রহমান ও সাহিদুর রহমানকে চার দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গত বুধবার তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

উল্লেখ্য, ২৮ মে লিবিয়ায় মানবপাচারকারীদের হাতে ২৬ বাংলাদেশি নিহত ও ১২ জন আহত হন। ১৫ দিন আগে লিবিয়ার বেনগাজী থেকে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে ত্রিপলিতে নেওয়া হচ্ছিল ৩৮ বাংলাদেশিকে। পথেই তাদের জিম্মি করে সন্ত্রাসীরা।  এর মধ্যে ২৬ জনকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন থানায় ২২টি মামলা দায়ের করা হয়। -ডেস্ক রিপোর্ট