(দিনাজপুর২৪.কম) ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস এবং জাতিসংঘের গৃহীত ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা স্মরণ দিবস পালনের প্রস্তাব করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। একই সঙ্গে ১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দিবস পালনের প্রস্তাবও করেন তিনি। জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতারের প্রস্তাবের পর সংশোধনী আকারে এই প্রস্তাব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

আজ শনিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ বিধিতে উত্থাপিত প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শিরীনের প্রস্তাবের সঙ্গে সমর্থন জানিয়ে সংশোধিত আকারে একটি প্রস্তাব দিচ্ছি, এখানে যদি গৃহীত হয় তাহলে সুন্দর হবে।‌

শিরীন আখতারের প্রস্তাব ছিল, ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সংঘটিত গণহত্যাকে স্মরণ করে ২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস ঘোষণা করা হোক এবং আন্তর্জাতিকভাবে এ দিবসের স্বীকৃতি আদায়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়া হোক।’

এসমসয় তোফায়েল আহমেদ বলেন, “যেহেতু ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা এবং এদেশীয় সহযোগীরা বাংলাদেশের ৩০ লাখ সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে। যা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩-এর অনুযায়ী গণহত্যা। যেহেতু পাকিস্তানি বাহিনী ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ রাত থেকে অপারেশন সার্চ লাইটের নামে নজিরবিহীন গণহত্যার সূচনা করেছে যা পরবর্তীতে অব্যাহত ছিল ৯ মাস। যেহেতু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গণহত্যার বিষয়টি উঠে এসেছে। সেহেতু ২৫ মার্চ ‘জাতীয় গণহত্যা দিবস’ পালনের প্রস্তাব করছি। আশা করি ৩০ লাখ শহীদের রক্তে অর্জিত এই সংসদ সর্বসম্মিতক্রমে গ্রহণ করবে।”

তিনি আরও বলেন, আরেটি প্রস্তাব করছি। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে সংগঠিত গণহত্যায় নিহতদের স্মরণে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা স্মরণ দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ২০১৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। বাংলাদেশসহ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ১৯৩টি দেশ এই প্রস্তাব সর্বসম্মিতক্রমে গ্রহণ করেছে। ফলে ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক গণহত্যা স্মরণ দিবস পালন করার প্রস্তাব করছি। আর ১ ডিসেম্বরকে মুক্তিযোদ্ধা দিবস হিসেবে পালন করতে পারি কিনা এটা বিবেচনার জন্য প্রস্তাব করছি।’

এর আগে, অধিবেশনের শুরুতে সংসদীয় কার্যপ্রণালী-বিধি ১৪৭ তুলে ধরে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, সংসদের অভিমত এই যে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যাকে স্মরণ করে ২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস ঘোষণা করা হোক এবং আন্তর্জাতিকভাবে এ দিবসের স্বীকৃতি আদায়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হোক।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সংসদে এক অনির্ধারিত আলোচনায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মমতার কথা স্মরণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। ওইদিন সংসদে এ বিষয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন সরকারদলীয় সাংসদ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। -ডেস্ক