(দিনাজপুর২৪.কম) ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ শুক্রবার দুপুরে তার নিয়োগ আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। শনিবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি শপথ গ্রহণ করবেন। বঙ্গভবনের মুখপাত্র মো. জয়নাল আবেদীন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,“আগামীকাল (শনিবার) সন্ধ্যা ৭টায় নতুন প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি।” রাষ্ট্রপতি নতুন প্রধান বিচারপতি পদে শুক্রবারই নিয়োগ দিচ্ছেন বলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানানোর ঘণ্টাখানের মধ্যে এই খবর এল।

নানা নাটকীয়তার মধ্যে বিচারপতি এস কে সিনহা গত নভেম্বরে পদত্যাগ করার পর থেকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির পদটি শূন্য। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারক মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা বর্তমানে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগে পাস করা সৈয়দ মাহমুদ হোসেন জীবনের শুরুতে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হন। ২০০১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের শেষ বছরে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান মাহমুদ আলী।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার দুই বছর পর ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মাহমুদ হোসেন আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর তার অবসরে যাওয়ার সময় নির্ধারিত আছে।

মাহমুদ হোসেন এর আগেও আলোচনায় এসেছিলেন। বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠনে ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি সে সার্চ কমিটি গঠন করা হয় তার প্রধান ছিলেন তিনি। ২০১২ সালেও কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদকে প্রধান করে গঠন করা নির্বাচন কমিশন বাছাইয়ের জন্য গঠন করা সার্চ কমিটিরও প্রধান ছিলেন তিনি।

মাহমুদ হোসেন আপিল বিভাগে জ্যেষ্ঠতার ক্রমে দ্বিতীয় নম্বরে থাকলেও তার মেয়াদ আছে আরও প্রায় তিন বছর। অন্য দিকে জ্যেষ্ঠতম ও বিচারক ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিয়া অবসরে যাবেন আগামী ১০ নভেম্বর। ফলে তাকে নিয়োগ দিলে চলতি বছর আবার নতুন কাউকে বেছে নিতে হতো রাষ্ট্রপতিকে।

রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রথমে আপিল বিভাগের যে বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করবেন, তার ব্যাপারে সম্মতি দিয়ে তা আইন মন্ত্রণালয়কে জানান। এর পর মন্ত্রণালয় থেকে ওই বিচারপতির ব্যাপারে ফাইল প্রস্তুত করে তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠান। প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরের পর বিষয়টি রাষ্ট্রপতির কাছে যায়। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর প্রধান বিচারপতি নিয়োগের গেজেট জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। -ডেস্ক