(দিনাজপুর২৪.কম) বিবিসি বাংলাসহ ২২টি গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যমের ওয়েবসাইট হুবহু নকল করার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত এনামুল হককে ৩ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (২৫ নভেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কমলাপুর রেলওয়ে থানার এসআই মিজানুর রহমান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় আসামিকে ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেট রাজীব হাসানের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চান। আসামিপক্ষে রিমান্ড বাতিল করে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে জামিন আবেদন নাকচ করে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড প্রতিবেদনে বলা হয়-এনামুল হক কোরিয়ায় বসে ২২টি খ্যাতনামা গণমাধ্যমের ওয়েবসাইট নকল করেছিলেন। ধূর্ত এনামুল বাংলাদেশ থেকে মাস্টার কার্ড ব্যবহার করে ডোমেইন কিনতেন। এরপর কোরিয়ায় গিয়ে নকল সাইট তৈরি করতেন। বৃত্তি পেয়ে কোরিয়ায় পিএইচডি গবেষণায় চলে যান। সেখানে বসে এসব নকল সাইট তৈরি করতেন। নকল সাইট তৈরির সঙ্গে বাংলাদেশ, কোরিয়া ও ইতালিতে বিশাল একটি চক্র জড়িত। কেন সে এই ধরনের কাজ করেছে এবং তার সাথে কারা জড়িত তাদের নাম ঠিকানা ও গ্রেপ্তারের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকেদের বলেন, এনামুলের নিখোঁজের বিষয়ে তাদের পরিচিত এক তরুণ ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে তার কাছে অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। বলা হয় এনামুল হকের পরিবারকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। পরে এনামুলের স্ত্রী তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

এনামুলের স্ত্রী নাজমিন সাংবাদিকদের বলেন, ওই নম্বরে ফোন করা হলে তারা এনামুলের বাংলাদেশে ব্যবহৃত নম্বর থেকে নাজমিনকে ফোন দেয়। বলে, এনামুল ভালো আছে, সমস্যা নেই। যা বলা হবে সব গোপন রাখতে হবে। তারাই এনামুলকে গুম করে রেখেছে। তাদের কথামতো কাজ করলে এনামুলকে ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু এনামুলের সঙ্গে নাজমিনের কোনো কথা হয়নি।

নাজমিন বলেন, এরপর কথিত অপহরণকারীরা বৃহস্পতিবার দেড় লাখ টাকা চায়। তখন তিনি বলেন, এত রাতে কীভাবে টাকা জোগাড় হবে, শুক্রবার ব্যাংকও বন্ধ। তারা বলে, ভোর ছয়টার মধ্যে যদি দেন, তাহলে ভোরে ফেরত দেব। ভোরে ফেরত দিতে সুবিধাও হবে। অনেক চেষ্টা করে শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে তারা অপহরণকারীদের দেওয়া নম্বরে এক লাখ টাকা পাঠান। অপহরণকারীরা আধঘণ্টা অপেক্ষা করতে বলে। এরপর থেকেই তাদের ফোনগুলো বন্ধ। -ডেস্ক