(দিনাজপুর২৪.কম) প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরমুখো মানুষের ‘টিকিট যুদ্ধ’ শুরু হয়েছে তিন দিন আগেই। গত ৭ আগস্ট বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রির এক দিন পর শুরু হয়েছে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি। গতকাল শেষ হয়েছে আগামী ১৮ থেকে ২১ আগস্টের বাসের সকল অগ্রিম টিকিট। এ চার দিনের টিকিট শেষ বলে নোটিস ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে বাস কাউন্টারগুলোতে। গত দুদিন আগে শুরু হওয়া ট্রেনের অগ্রিম টিকিট পেতে গভীর রাত থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে ঘরমুখো মানুষকে। প্রতিটি লাইনের শুরু থাকলেও শেষ কোথায় তার কোনো হদিস নেই। কোথাও তিল পরিমাণ জায়গা নেই দাঁড়ানোর মতো। এ নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ থাকলেও কর্ণপাত করছেন না কর্তৃপক্ষ। গতকাল বৃহস্পতিবার বাস কাউন্টার ও রেল স্টেশনে গিয়ে এ তথ্য জানা যায়। বাস কাউন্টারগুলো থেকে জানানো হয়- ১৮, ১৯, ২০ ও ২১ আগস্টের টিকিট শেষ হয়েছে বলে অনেক বাস কাউন্টারের সামনে নোটিস বোর্ডও ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। কাউন্টার থেকে বলা হচ্ছে, চাকরিজীবীদের অধিকাংশের আগ্রহের কেন্দ্রে ২০ ও ২১ আগস্টের টিকিট আর ছাত্রদের ১৮ ও ১৯ আগস্টের চাহিদা থাকায় এই চার দিনের টিকিট শেষ হয়ে গেছে। গতকাল সকাল ১০টা থেকে কল্যাণপুর ও আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল গাবতলী সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, অধিকাংশ যাত্রীর কাক্সিক্ষত দিনের টিকিট চেয়ে পাচ্ছেন না। যাত্রীদের অভিযোগ, কাক্সিক্ষত রুটে কাক্সিক্ষত দিনের টিকিট মিলছে না। টিকিট থাকার পরও পাওয়া যাচ্ছে না। এসির টিকিট চাইলেও মিলছে না। হানিফ এন্টারপ্রাইজের গাবতলী কাউন্টারে কথা হয় পঞ্চগড় রুটের যাত্রী মাহফুজের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঘণ্টাখানেক লাইনে দাঁড়িয়েও ২০ ও ২১ তারিখের কোনো দিনের টিকিট পেলাম না। কিন্তু পূর্ব পরিচিত, ভিআইপি কিংবা বুকিং দেয়া যাত্রীরা ঠিকই টিকিট নিয়ে যাচ্ছেন। ফোন করে লোক পাঠিয়ে অনেককে টিকিট নিয়ে যেতে দেখা গেলেও আমি টিকিট পাইনি। তাই অন্য রুটের টিকিট কিনতে বাধ্য হলাম। একই রকম অভিযোগ করলেন কল্যাণপুরের শ্যামলী কাউন্টারে দাঁড়িয়ে থাকা আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, ২০ তারিখের টিকিট শেষ। কোনোভাবে টিকিট না পেয়ে ২১ তারিখ রাতের টিকিট কিনতে বাধ্য হলাম। হানিফ এন্টারপ্রাইজের জিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, চাহিদা বেশি থাকায় ১৮, ১৯, ২০ ও ২১ আগস্টের টিকিট শেষ। তা নোটিস বোর্ডের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও রংপুর রুটের এসব দিনের টিকিট দিতে আমরা অপরাগ। অন্য রুটে কিছু টিকিট মিলছে। তবে যাত্রী সংখ্যা বেশি হলে আমরা বাড়তি বাস নামাতে পারি। সেজন্য আরও ২ দিন অপেক্ষা করতে হবে। শ্যামলী কাউন্টারের ম্যানেজার আলমগীর হোসেন জানান, এবার শ্যামলী পরিবহণের টিকিট বিক্রি হচ্ছে কল্যাণপুর, শ্যামলী ও আসাদগেট কাউন্টার থেকে। সব রুটের সবদিনের পর্যাপ্ত টিকিট ছিলো শ্যামলী পরিবহণে। তবে ২০ আগস্টের টিকিট শেষ। এসআর ট্রাভেলসের ম্যানেজার মো. আমিন নবী জানান, কাউন্টারের পাশাপাশি সহজের মাধ্যমে টিকিট অনলাইনে বিক্রি চলছে। আমাদের অধিকাংশ দিনের টিকিট শেষ। যারা বগুড়ার টিকেট পাচ্ছেন না কিংবা ভালো মানের টিকেট চাচ্ছেন তাদের একই রুটের অন্য জেলার টিকেট দেয়া হচ্ছে। একই অবস্থা ডিপজল, শ্যামলী, নাবিল, টিআর ট্রাভেলস, দেশ ট্রাভেলস, ন্যাশনাল ট্রাভেলস, শাহজাদপুর ও পাবনা এক্সপ্রেসে। ট্রেনের অগ্রিম টিকিট পেতে গভীর রাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। চট্টগ্রামের টিকিট পেতে বুধবার রাতে এসে কমলাপুর স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী জিয়া উদ্দিন। সারা রাত নির্ঘুম অবস্থায় কাউন্টারের সামনে বসেই কেটেছে তার। শুধু জিয়া উদ্দিন নয়, তার মতো এমন শত শত টিকিটপ্রত্যাশী সারা রাত অপেক্ষা করেছেন কমলাপুরে। সন্ধ্যার পর থেকে রাত যত বেড়েছে স্টেশনের কাউন্টারগুলোর সামনে মানুষের লাইনও তত দীর্ঘ হয়েছে। সকালে স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, গতকাল দেওয়া হয়েছে আগামী ১৮ আগস্টের টিকিট। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় টিকিট বিক্রি। স্টেশনের ২৬টি কাউন্টারের মধ্যে দুটি কাউন্টার নারীদের জন্য সংরক্ষিত। প্রতিটি কাউন্টারের সামনেই মানুষের দীর্ঘ লাইন। দিন যত বাড়ছে টিকিট প্রত্যাশীদের সারিও তত দীর্ঘ হচ্ছে। শুধু চট্টগ্রামের যাত্রী নয়, এমন গভীর রাত থেকে লাইনে দাঁড়াতে দেখা গেছে রংপুর, সিলেট, গাইবান্ধা ও খুলনাসহ বিভিন্ন রুটের যাত্রীদের। সিলেটের যাত্রী নূর হোসেন। লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন গত বুধবার রাত ২টায়। তিনি টিকিট পেয়েছেন সকাল ১১টায়। তিনি  বলেন, অনেক কষ্টের পর হলেও টিকিট পেয়েছি। ঈদের আনন্দটা বাড়ি গিয়ে প্রিয়জনদের সাথে ভাগাভাগি করতে পারবো বলে সারা রাতের কষ্ট শেষ। চট্টগ্রামের প্রভাতি এক্সপ্রেসের লাইনে দাঁড়ানো ছিলেন সুমাইয়া আক্তার। তিনি সকাল ১১টায়ও টিকিট পাননি। তিনি বলেন, সকাল এসে দাঁড়িয়েছি। জানি না কখন যে টিকিট পাই। এখনো সামনে অনেক মানুষ। এদিকে ট্রেনে অগ্রিম টিকিট বিক্রির সার্বিক বিষয় নিয়ে কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, সকাল ৮টা থেকে ২৬টি কাউন্টারে আগামী ১৮ আগস্টের টিকিট বিক্রি হয়েছে। মানুষ সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করছেন। যাত্রীদের অনেক ভিড়। যদিও আমাদের সম্পদ সীমিত। এরমধ্যেই আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ রেলওয়ের নিজস্ব বাহিনী তৎপর রয়েছেন। প্রতিবারের মতো এবারও ১০ দিন আগে থেকে শুরু হয়েছে ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি। আজ শুক্রবার বিক্রি হবে ১৯ আগস্টের টিকিট। এভাবে আগামী ১১ ও ১২ আগস্ট পর্যায়ক্রমে টিকিট মিলবে ২০ এবং ২১ আগস্টের। এ দিনগুলোতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সকাল ৮টা থেকে টিকিট বিক্রি হবে। জানা গেছে, বরাবরের মতো এবারও মোট টিকিটের ৬৫ শতাংশ দেওয়া হচ্ছে কাউন্টার থেকে। বাকি ৩৫ শতাংশের ২৫ শতাংশ অনলাইন ও মোবাইলে। ৫ শতাংশ ভিআইপি ছাড়াও রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৫ শতাংশ। একজন যাত্রীকে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট দেওয়া হবে এবং বিক্রীত টিকিট ফেরত নেওয়া হবে না। এদিকে সুষ্ঠু ও নিরাপদে ট্রেন চলাচলের সুবিধার্থে ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত রেলওয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্ত্রী। এদিকে পবিত্র ঈদুল আজহার ৫ দিন আগে ১৮ আগস্ট থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তঃনগর ট্রেন সাপ্তাহিক বন্ধের দিনও চলাচল করবে। -ডেস্ক