(দিনাজপুর২৪.কম) অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৪৬ বছরে ১৩ হাজার ৩৭২ কোটি কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। যা থেকে সরকার ১ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ১৬তম অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
স্বাধীনতার পর কোন সময়ে কত ‘কালো টাকা সাদা’ হয়েছে তার একটি পরিসংখ্যানও মুহিত সংসদের সামনে তুলে ধরেন।
সংসদে অর্থমন্ত্রীর দেয়া তথ্যানুযায়ী, ১৯৭১ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা থেকে ১৯ লাখ টাকা থেকে রাজস্ব আয় হয় ১৯৭৬ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত ৫০ কোটি ৭৬ লাখ টাকার থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ৮১ লাখ টাকা। ১৯৮১ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ৪৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকার থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
এরপর ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত সময়কালে ১৫০ কোটি ৭৯ লাখ টাকার থেকে রাজস্ব আদায় হয় ১৫ কোটি ৮ লাখ টাকা। ১৯৯৭ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ৯৫০ কোটি ৪১ লাখ টাকার থেকে রাজস্ব  এসেছে ১৪১ কোটি ২৪ লাখ টাকা। ২০০১ হতে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ৮২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকার থেকে রাজস্ব এসেছে ১০২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
এ ছাড়া ২০০৭ হতে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ৯ হাজার ৬৮২ কোটি ৯৯ লাখ টাকার থেকে সরকার রাজস্ব পায় ৯১১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১ হাজার ৮০৫ কোটি ১ লাখ টাকার সরকার রাজস্ব পান ২৩০ কোটি ৪১ লাখ টাকা। ২০১৩ থেকে অদ্যবধি ৮৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার থেকে রাজস্ব পাওয়া গেছে ৪৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত করের সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ হারে জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ নিয়ে প্রতিবারই বাজেটের সময় আলোচনা হয়।
বছরের পর বছর এভাবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগের কারণে সৎ করদাতারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন জানিয়ে অর্থনীতির বিশ্লেষকরা একটি স্থায়ী সমাধান খোঁজার তাগিদ দিয়ে এলেও প্রতিবছরই বাজেটে ওই সুযোগ রাখা হচ্ছে।
আসন্ন ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে তিনভাবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এগুলো হলো- রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ, বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিলে বিনিয়োগ এবং স্বেচ্ছায় ঘোষণা দিয়ে নির্দিষ্ট জরিমানার মাধ্যমে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করা।
এমপি এ কে এম রহমতুল্লাহর এক প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান আয়কর আইন অনুযায়ী বাণিজ্যিকভাবে সকল কিন্ডারগার্টেন, কেজি স্কুল বা মাদ্রাসার আয় করযোগ্য। অন্যান্য করযোগ্য প্রতিষ্ঠানের মত এসব প্রতিষ্ঠান থেকেও রাজস্ব আহরণ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া করযোগ্য আয় রয়েছে এমন নতুন কিন্ডারগার্টেন, কেজি স্কুল বা মাদরাসা শনাক্ত করার মাধ্যমে করের আওতায় আনতে নিয়মিত জরিপ চালানো হচ্ছে।
এর  আগে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। -ডেস্ক