(দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মনিরিয়া স্কুলে হ-য- র-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে। শিক্ষক থেকে শুরু করে সকল স্তরের কর্মচারীদের মাঝে এক প্রকার ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিভিন্ন অনিয়মেই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠভাবে পরিচালনা, আর্থিক ব্যবস্থা তদারকি, লেখাপড়ার মান ও পরিবেশ নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ধারণা থেকে স্কুল পরিচালনা কমিটি বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়। অথচ অধিকাংশ কমিটিই নিজেদের পকেট ভারী করার উৎস হিসাবেই দেখিয়েছে মনিরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়কে। এতে শিক্ষার মান বাড়ার পরিবর্তে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের বোঝা বাড়ছে। অভিভাবক, শুভাকাঙ্খি ও সংশ্লিষ্টরা স্কুলটির বাধা হিসাবে দেখছে লাগাতার সভাপতি ও অদক্ষ প্রধান শিক্ষককে।
স্কুলটির প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৮৯ সালে। জানা গেছে, জনৈক মনির উদ্দিন কর্তৃক মসজিদের নামে ওয়াকফ করা যায়গায় একটি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুরু করার লক্ষ্যে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। শিক্ষকদের সরলতার সুযোগ নিয়ে ভুয়া দাতা প্রতিষ্ঠাতা স্কুলটির আয়-ব্যয় কোনদিনই জন সম্মুখে প্রকাশ করতে দেয় নাই। বর্তমানে স্কুলটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। প্রতিবছর সেশন ফি’র নামে উন্নয়ন ফি নেওয়া হলেও কোন উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। স্কুলে সাইকেল গ্যারেজ, ছাত্রীদের আলাদা কমনরুম, মানসম্মত বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব, লাইব্রেরির আলাদা রুম এবং লাইব্রেরিতে ২ হাজার বই থাকার কথা থাকলেও কোনটিই নাই এই স্কুলে। প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারির সহায়তায় তিন দশকে সবই লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্কুল কমিটির সভাপতি জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে। শুরু থেকে স্কুলটি সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও বর্তমান স্কুলটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গত ২০১৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর স্কুলটির নিয়মিত কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই নিয়মিত কমিটি গঠনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষক তা না করে এডহক কমিটি গঠনের জন্য দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে আবেদন করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অভিভাবক বলেন, স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত কমিটি নির্বাচনে কোন ভোট হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবক, এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টরা স্কুলের নানা অনিয়ম, দূর্নীতির অভিযোগে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক, দিনাজপুর জেলা শিক্ষা অফিসার, উপ-পরিচালক দুদক দিনাজপুর, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডেসহ নানা দপ্তরে অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। এসব বিষয়ের সত্যতা যাচাইয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হাফিজুল ইসলাম প্রামানিক গত ১৪ নভেম্বর সকাল ৯ টায় আকষ্মিক স্কুলে উপস্থিত হন। এ বিষয়ে শিক্ষকশিক্ষিকদের কাছে জানতে চাইলে সবাই অভিযুক্তদের স্বজনপ্রীতি, অনিয়মের কথা চেয়ারম্যানের সামনে তুলে ধরেন। জেলা শিক্ষা অফিসার মো: রফিকুল ইসলাম অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন আমি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: মিরাজুল ইসলাম দুই এক দিনের মধ্যে তদন্ত করবেন বলে জানিয়েছেন।