(দিনাজপুর২৪.কম) আজ মঙ্গলবার। ২০১৯ সাল। সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের মতো আমরাও আমাদের পাঠকদের জানাই ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’। নতুন বছরটি আনন্দে, শান্তিতে ভরে উঠুক এই প্রত্যাশা। নতুন বছর ২০১৯ সালের প্রথম দিন আজ। মাঝে একদিন আগে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে আওয়ামী লীগ। হ্যাটট্রিক সরকার গঠনে প্রস্তুত দলটি। গেলো বছরগুলোর সকল অপ্রাপ্তি আর গ্লানি কাটিয়ে দেশকে আরও সমৃদ্ধশালী করবে নতুন সরকার। রাজনৈতিক মত-বিভেদ ভুলে সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন উদ্যমে দেশের কল্যাণে কাজ করবে মন্ত্রী পরিষদ। নতুন বছরে নতুন সরকারের কাছে এমনই স্বপ্ন আর প্রত্যাশার অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন দেশের আপামর জনগণ। সংঘাতহীন থাকুক দেশ, শান্তিতে থাকুক প্রতিটি মানুষ, হাসি ফুটুক সবার মুখে, প্রজন্ম এগিয়ে যাক, সম্মানজনক স্থানে থাকুক দেশ এমনটাই চাওয়া যেন সকলের। টানা তৃতীয়বারসহ চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। গেলো বছরও দলটি ক্ষমতায় ছিলো। সরকারের শেষ বছরে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছিলো কুচক্রীমহল। কিন্তু সরকারের দূরদর্শিতায় ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি। গত বছর বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন ছিলো বহুল আলোচিত। এর মধ্যে ছিলো শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন। ছিলো নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনসহ একাধিক ইস্যু। সরকার এগুলো সমাধান করেছে। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ঠাঁই নেই। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ও যুদ্ধ ঘোষণা করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ইতোমধ্যে একের পর এক অভিযানে জঙ্গি নির্মূলে সফল হয়েছে র‌্যাব-পুলিশ। জঙ্গি কর্মকাণ্ড ও নাশকতায় জড়িতরা ধরা পড়েছে। অনেকে এনকাউন্টারে প্রাণ হারিয়েছে। কেউ কেউ কারাগারে। জঙ্গি মদদদাতা ও অর্থের জোগানদাতারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। নতুন করে এ ধরনের কোনো চক্র যাতে মাথাচাড়া দিতে না পারে সেদিকে সোচ্চার রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ ইউনিট। তাদের অভিযানের ধারাবাহিকতায় প্রকাশ পেয়েছে নামিদামি স্কুল-কলেজপড়ুয়া অভিজাত পরিবারের সন্তানরা কীভাবে ভুল পথে পা বাড়ায়। এ থেকে সকল অভিভাবক সচেতন হন। বিশেষ নজর দেয়ায় অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করতে পেরেছেন। বিগত দিনে জঙ্গি দমনে সরকারের সফলতাকে সাধুবাদ জানিয়েছে জনগণ। সুফল পাচ্ছি সবাই। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা থাকলেও বিভিন্ন প্রভাবশালী চক্রের সহায়তায় অবৈধ মাদকের ব্যবহার রোধ হচ্ছে না। যুব ও তরুণ সমাজসহ নতুন প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে হবে। এ জন্য যত বড় প্রভাবশালী মাদক সম্রাটই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনাসহ সরবরাহ ও বিক্রয়কারীদের ধরতে চিরুনি অভিযানের আহ্বান জনসাধারণের। গত কয়েক বছরে আলোচনায় ছিলো অপহরণ, গুম, খুন আর বিচারবহির্ভুত হত্যার আতঙ্ক। নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা। পায়ু পথে বাতাস ঢুকিয়ে শিশু নির্যাতন, স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা। আমাদের নৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে কেউ আর প্রশ্ন না তুলুক। প্রশ্নপত্রফাঁসের বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছিলো সকলকে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে প্রাথমিক সমাপনি পরীক্ষা, এমনকি ভর্তি ও চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নও ফাঁস হয়েছে। গত কয়েক বছরে পরিবহণ সেক্টরের নৈরাজ্যে দিশাহারা ছিলো সাধারণ মানুষ। অনেক আন্দোলনেও এ সেক্টরের নৈরাজ্য বন্ধ হয়নি। পরিবহণচালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে থামছে না সড়ক দুর্ঘটনা। সমাধান হয়নি মহাযন্ত্রণার যানজটের। যে কারণে মানুষের দৈনিক চার কর্মঘণ্টাই নষ্ট হচ্ছে। হকারদের দখলে থাকায় ফুটপাত ব্যবহার করা যাচ্ছে না আজো। সংশ্লিষ্টদের দাবি ফুটপাত হকারদের কাছ থেকে পুলিশ-মাস্তান আর প্রভাবশালীরা যে পরিমাণ চাঁদা তোলে ওই পরিমাণ টাকা ১ বছর জমিয়ে রাখলে সকল হকারের পুনর্বাসন সম্ভব। তাদের দাবি সরকার এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নেবে। হকার সংগঠনের নেতারা বলেছেন, দেশের ওপর চেপে বসা রোহিঙ্গা সমস্যা যেখানে সরকার সমাধান করতে পেরেছেন ফুটপাতমুক্ত ও হকারদের সমস্যা সমাধানে সরকারের সদিচ্ছাই যথেষ্ট। কোচিংবাণিজ্য নয় শিক্ষকের মনোভাব হোক মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে। ডাক্তার যেন হন সেবক। ভূমিদস্যুর খপ্পরে পড়ে কেউ যেন না হারান নিজের জমির মালিকানা। গড়ে উঠুক সৎ প্রশাসন। বাংলাদেশ থাকুক সংঘাতমুক্ত ও নিরাপদ। এমনই প্রত্যাশা দেশবাসীর। তাদের দাবি এমন স্বপ্নের বাস্তবতা ঘটানো সম্ভব, যদি থাকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সততা আর তাদের মিশন থাকে শুধুই জনসেবার।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নববর্ষের শুভেচ্ছা
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইংরেজি নববর্ষ ২০১৯ উপলক্ষে দেশবাসীসহ সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। ‘বিগত বছরের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা পেছনে ফেলে নতুন বছরে অমিত সম্ভাবনার পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাক’- এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে গতকাল সোমবার এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, নববর্ষ সকলের মাঝে জাগায় প্রাণের নতুন স্পন্দন, নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনা। সবার জীবনে নতুন বছর অনাবিল আনন্দ ও কল্যাণ বয়ে আনবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। একই দিন পৃথক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারা রক্ষা এবং জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে ২০১৮ সাল জাতির ইতিহাসে একটি গৌরবোজ্জ্বল বছর। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গত বছর ছিল বাংলাদেশের জন্য সাফল্যময়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ একটানা ১০ বছর সরকারে থাকার কারণে তৃণমূলের জনগণ আজ উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্ম পাবে সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১০ বছরে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, কূটনৈতিক সাফল্য, সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ প্রতিটি খাতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, সরকার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে পৃথিবীর ৫৭তম দেশ হিসেবে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির অভিজাত দেশের কাতারে যুক্ত হয়েছে। আমাদের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭.৮৬ শতাংশ, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। দেশে দারিদ্র্যের হার হ্রাস পেয়ে বর্তমানে ২১.৮% এবং চরম দারিদ্র্যের হার ১১.৩%-এ দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় এক হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলার জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যের বই পাচ্ছে। শিক্ষার হার ৭৩ শতাংশ। দেশের ৯০ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে এবং আশা করছি, স্বল্প সময়ের মধ্যেই তা শতভাগে উন্নীত হবে। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায়। মানুষের গড় আয়ু বেড়ে ৭২ বছর হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন বাস্তবতা। শেখ হাসিনা বলেন, সংবিধান ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার মাধ্যমে এসব অর্জন সম্ভব হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের আগেই উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন শেখ হাসিনা। -ডেস্ক