(দিনাজপুর২৪.কম) বাংলাদেশে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) ঠেকাতে করোনা আক্রান্ত দেশগুলো থেকে ফিরলে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যারা দেশে ফিরছেন তাদের এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। তাদের স্পষ্ট করে কিছু জানানোও হয়নি। ফলে করোনাভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ছে তাদের মাধ্যমে।

আপনি কি হোম-কোয়ারেন্টিনে থাকছেন? টেলিফোনে এই প্রশ্নে তিনি যেন আকাশ থেকে পড়লেন। কথায় কথায় বেরুলো হোম-কোয়ারেন্টিন কী তা নিয়ে পরিষ্কার কোনো ধারণাই তার নেই। আর দশটা মানুষের মতই চলাফেরা করছেন, বাইরে যাচ্ছেন। সপ্তাহখানেক আগে ওমরাহ করে দেশে ফিরেছেন ঢাকার পাশের একটি জেলার এক বাসিন্দা।

হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা তিনি বলেন, “ওইভাবে আসলে কোথাও আমাকে ডিরেকশন দেয়া হয়নি।” কিভাবে, কোথায় থাকতে হবে, না থাকলে কী হবে সে বিষয়ে তাকে তেমন কিছু জানানো হয়নি বলেই তিনি এ নিয়ে ভাবছেন না।

মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ থেকে দুই সপ্তাহ আগে ফিরেছেন এক প্রবাসী শ্রমিক। তার সাথে যখন কথা হচ্ছিল তখন স্থানীয় একটি বাজারে ছিলেন তিনি। তিনি জানান, সপ্তাহ খানেক ধরে বাড়ি নির্মাণের কাজ করছেন তিনি। ইট, বালুর মতো নির্মাণ সামগ্রী তিনি মিস্ত্রির সাথে গিয়ে নিজেই কিনেছেন। হোম-কোয়ারেন্টিন সম্পর্কে তার যে কোনো ধারণা রয়েছে, বোঝা গেল না।

৬ মার্চ প্রতিবেশী একটি দেশ থেকে বন্ধুদের সাথে স্থলপথে দেশে ফিরেছেন এক শিক্ষার্থী। হোম কোয়ারেন্টিনের নির্দেশনা মেনে চলছেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে মাত্র এ বিষয়ে জেনেছেন তিনি। ফলে দেশের বাইরে থেকে ফিরলেও সে নির্দেশনা মেনে চলতে পারেননি।

তিনি বলেন, “এখন টিভিতে দেখি যে বাইরে থেকে আসলে ১৪ দিন ঘরে থাকতে হবে। এর আগে জানতাম না।”

যে তিনজন বিদেশ ফেরত মানুষের সাথে বিবিসির কথা হয়েছে, তাদের কেউই বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে থাকছেন না। তাদের দুজনের হোম-কোয়ারেন্টিন সম্পর্কে কার্যত কোনো ধারণা নেই। তাদের অনুরোধে এবং তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে নাম দেওয়া হলোনা।

বাংলাদেশে সরকারিভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, বিদেশ থেকে ফেরা মানুষদের ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এই নির্দেশ না মানলে জেল-জরিমানার কথাও বলা হয়েছে।

রবিবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে হোম কোয়ারেন্টিনের নির্দেশনা যে অনেক ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না সে বিষয়টি তুলে ধরেন জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

তিনি বলেন, অনেকেই যেহেতু হোম কোয়ারেন্টাইন সঠিকভাবে মেনে চলছেন না তাই বিদেশ থেকে কেউ আসলে তাকে আগে হজ ক্যাম্পে নেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত পাঁচজনের মধ্যে চার জনই বিদেশ থেকে আসা। এমন অবস্থায়, চীনের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত দেশ ইটালি থেকে গত দুই দিনেই বাংলাদেশে ফিরেছে সাড়ে তিনশর বেশি মানুষ। এদের মধ্যে ১৪২ জনকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

বাড়িতে তাদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব হচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে আইইডিসিআর এর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নেয়া হচ্ছে।

“এবার হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হচ্ছে প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে। যাতে তারা জানতে পারেন যে কে কোথায় গেল যাতে করে ফলোআপ করা যায়।”

এখন থেকে যাদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে তারা বাড়িতে থাকলেও সরকারি নজরদারিতে থাকবেন বলে তিনি বলেন।

বাংলাদেশে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২৩১৪ জন মানুষকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কতজন বাস্তবে কোয়ারেন্টাইনে থাকছেন তা নিয়ে সন্দেহের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সূত্র : বিবিসি বাংলা। -ডেস্ক