(দিনাজপুর২৪.কম) বগুড়ায় বিষাক্ত মদ পানে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। গত রোববার থেকে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়েছে। শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হতে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতরা বগুড়া সদর উপজেলায় তিনমাথা, কালিতলা, ফুলবাড়ি ও কাটনারপাড়া এলাকা এবং কাহালু, শাজাহানপুর ও সারিয়াকান্দি উপজেলার বাসিন্দা।

মৃতরা হলেন- রমজান আলী (৪০), সুমন রবিদাস (৩০), তার বাবা প্রেমনাথ (৭০) ও চাচা রামনাথ, পলাশ মিয়া (৩৫), সাজু (৫৫), মোজাহার আলী (৭৫), আব্দুল জলিল (৬৫), জুলফিকার রহমান (৫৫), আবুল কালাম (৫০), আব্দুর রহিম (৪২), আলমগীর (৪০), আব্দুর রাজ্জাক (৪২), মেহেদী হাসান (২৫), আব্দুল আহাদ (৩৮) ও লাজু মিয়া (৩২)।

জানা গেছে, শহরের পারুল হোমিও হল, খান হোমিও হল, পুনম হোমিও হল, সাতমাথায় একটি দেশি মদের দোকানসহ কয়েকটি দোকান থেকে অ্যালকোহল কিনে পান করে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, তিনটি হোমিও হলের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে। মদ বিক্রির বিষয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে বগুড়া সদর থানায় গত সোমবার রাতে একটি মামলা হয়েছে। আসামিরা হলেন-খান হোমিও হলের মালিক শাহিনুর রহমান শাহীন, পারুল ও পুনম হোমিও হলের মালিক নুর আলম ও নুর নবী।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বগুড়ায় হোমিও চিকিৎসার আড়ালে মাদক হিসেবে শত শত লিটার রেক্টিফাইড স্পিরিট বিক্রি হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে এই স্পিরিট আবার বগুড়া থেকেই পাঠানো হয় উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়। শুধু বগুড়ায়ই শত কোটি টাকার অবৈধ দেশি মাদকের বাজার রয়েছে।

এদিকে বগুড়া হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. এসএম মিল্লাত হোসেন বলেন, শুধু বগুড়া জেলায় ৪০০ হোমিও চিকিৎসক রয়েছেন। এর মধ্যে ড্রাগ লাইসেন্স রয়েছে ৫০ জনেরও কম চিকিৎসকের। লাইসেন্স ছাড়াই বগুড়ার সাড়ে ৩০০ হোমিও চিকিৎসক নিজস্ব চেম্বারে অবৈধভাবে কিনে স্পিরিট ব্যবহার করছেন বলে স্বীকার করেন তিনি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, প্রাথমিকভাবে অ্যালকোহলকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সেগুলো হলো ইথানল (যাকে ইথাইল অ্যালকোহলও বলা হয়), মিথানল (যাকে মিথাইল অ্যালকোহল, উড অ্যালকোহল, উড ন্যাপথা, উড স্পিরিটও বলা হয়) এবং রেক্টিফাইড স্পিরিট (যাকে মেথিলেটেড স্পিরিটও বলা হয়)।

এ বিষয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের একজন চিকিৎসক বলেন, ‘অ্যালকোহল বা মদ মানবদেহের জন্য অবশ্যই ক্ষতিকর। এরপরও কিছু লোক যে মদ পান করছেন তাতে ভেজাল রয়েছে। যে কারণে আসক্তরা মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছেন। বগুড়ায় প্রকাশ্যে রেক্টিফাইড স্পিরিট বিক্রি বন্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের জোড়ালো কোনো ভূমিকা নেই বললেই চলে।’

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে নববর্ষের দিন পারুল হোমিও হলের সরবরাহ করা বিষাক্ত স্পিরিট পানে ৭১ জনের মৃত্যু হয়। পুলিশ, ডিবি ঘুরে মামলাটি শেষ পর্যন্ত সিআইডির হাতে থাকা অবস্থায় চার্জশিট দেওয়া হলেও আসামিরা অধরা রয়েছেন। এছাড়া ২০০০ সালে বগুড়ায় বিষাক্ত স্পিরিট পানে ২২ জনের মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গেও জড়িত ছিল পারুল হোমিও হল। -সূত্র : আমাদের সময়