(দিনাজপুর২৪.কম) না কোন ভাবেই আশার বেলুনটাকে ফুলিয়ে রাখা গেল না।প্রত্যাশার সাথে যোগ হল একরাশ হতাশা। আজকের ম্যাচ থেকেই প্রমাণ হল বাংলাদেশকে আরো পথ চলতে হবে। কেমন লড়াই করল বাংলাদেশ? তার ব্যাখা দিচ্ছেন আমাদের প্রতিবেদক সরাসরি ষ্টেডিয়াম থেকে- রক্ষণে ফাঁক-ফোকর ছিল, মাঝমাঠও খুব একটা গোছালো ছিল না, আর ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতা-সব মিলিয়ে চড়া মাশুল দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচে কিরগিজস্তানের কাছে ৩-১ ব্যবধানে হেরেছে লোডভিক ডি ক্রুইফের দল।
মাঝমাঠে মামুনুল ইসলাম আর জামাল ভূইয়ারা ভালো ফুটবলই খেলেন। কিরগিজস্তানের সীমানায় বেশ কিছু আক্রমণও রচনা করেন তারা। তবে দুই ফরোয়ার্ড জাহিদ হাসান এমিলি ও এনামুল হক সেই আক্রমণগুলো থেকে সাফল্য এনে দিতে পারেননি।
বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে চারটি গোলই হয়েছে প্রথমার্ধে। বাংলাদেশের একমাত্র গোলটি ছিল আত্মঘাতী।
এই হারে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের বাছাইয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ। আগামী ১৬ জুন তাজিকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে মামুনুলের দল।
ম্যাচের শুরু থেকে কিরগিজস্তান ছন্দময় ফুটবল খেললে এলোমেলো হয়ে যায় বাংলাদেশ। শুরুর দিকে মামুনুল-জামালরা মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় রক্ষণে চাপ বাড়তে থাকে। নাসির-ইয়াসিন-ইয়ামিন রক্ষণভাগ আগলে রাখতে পারেননি। ফলে পাসিং ফুটবলের পসরা মেলে অতিথি দলটি নবম মিনিটেই এগিয়ে যায়।
কিরগিজস্তানের প্রথম গোলে অবশ্য তাদের চেয়ে বাংলাদেশের হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাসের ভুলের অবদানই বেশি। বক্সের বাইরে হেমন্ত অযথা প্রতিপক্ষের এক ফুটবলারকে ফাউল করলে ফ্রি-কিক পায় কিরগিজস্তান। তা থেকে কোনাকুনি শটে রাসেল মাহমুদকে পরাস্ত করেন অতিথি দলের ফরোয়ার্ড জেমলিয়ানুহিন আন্তোন।
এগিয়ে যাওয়ার পর বল পায়ে রেখে, গোছালো আক্রমণ করে স্বাগতিকদের চাপে রাখে কিরগিজস্তান। প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত বাংলাদেশ ২১তম মিনিটে সোহেল রানার হাত ধরে আক্রমণে যায়। কিন্তু সোহেলের বাড়ানো বলে হেমন্তের নেওয়া শট প্রতিপক্ষের এক ফুটবলারের গায়ে লাগলে হতাশ হতে হয় স্বাগতিকদের।
২৮তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে কিরগিজস্তান। ডান দিক দিয়ে দ্রুত বক্সে ঢুকে পড়া ভিক্টর মায়ারকে ফাউল করেন ইয়ামিন আহমেদ ‍মুন্না। পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যভেদ করেন অতিথি দলের ফরোয়ার্ড বারনহার্ডট এডগার। বলের লাইনে বাংলাদেশ গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু বল তার হাতে লেগেও জালের ঠিকানা খুঁজে নেয়।
৩৩তম মিনিটে আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান কমায় বাংলাদেশ। ডান প্রান্ত থেকে মামুনুলের কর্নার কিরগিজস্তানের ভ্যালেরি কিচিন হেড করে নিজেদের জালে বল জড়ান। এর একটু পরেই অতিথি দলের একটি আক্রমণ রুখে দেন স্বাগতিক গোলরক্ষক লিটন।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে অসাধারণ এক গোলে স্কোরলাইন ৩-১ করে নেয় অতিথিরা। বক্সের বাইরে থেকে আন্তোনের বুলেট গতির শট ঠেকাতে গোলরক্ষক লিটন ঝাঁপিয়ে পড়লেও তার প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য অনেক গোছানো ফুটবল খেলে বাংলাদেশ। এই অর্ধের শুরুতে অল্পের জন্য গোলবঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। বক্সের বাইরে থেকে অধিনায়ক মামুনুলের ফ্রি-কিক প্রতিপক্ষের বাম পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। একটু পর কিরগিজস্তানের লাক্স ভিতালিজের শট জালের বাইরে লাগে।
ঘরোয়া লিগে ছন্দে থাকা এনামুল হকের ৫৬তম মিনিটের শট বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৭০তম মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে বেশ চাপ তৈরি করে বাংলাদেশ। কিন্তু গোল অধরাই থেকে যায়। বক্সের একটু ওপর থেকে নেওয়া মামুনুলের ফ্রি কিক ভ্যালেরি কাসুবা ফিস্ট করেন। ফিরতি বলে জামাল ভূইয়ার দূর থেকে নেওয়া দুর্বল শট রুখে দিতে কোনো সমস্যাই হয়নি অতিথি দলের গোলরক্ষকের।
এ নিয়ে কিরগিজস্তানের কাছে তিন ম্যাচেই হারল বাংলাদেশ। এর আগে ২০০৭ সালের নেহেরু কাপে ৩-০ ও ২০০৮ সালের এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের বাছাইয়ে ২-১ গোলে কিরগিজস্তানের কাছে হেরেছিল স্বাগতিকরা। –(ডেস্ক)