মো. নুরুন্নবী বাবু (দিনাজপুর২৪.কম) দামের উর্দ্ধগতি ঠেকাতে এবং বাজার স্বাভাবিক রাখতে বেশি করে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছেন হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়িরা। গত ৫দিনে এই বন্দর দিয়ে প্রায় ১৭’শ মেট্রিকটন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে দেশে। আর একারণে গত দুই দিনের ব্যবধানে কেজিতে দাম কমেছে ১০-১৫ টাকা। আগে এই পেঁয়াজ প্রকার ভেদে বিক্রি হয়েছে ৬২-৬৫ টাকায়। এদিকে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের দাম পাইকারি বাজারে কমলেও দাম খুব একটা কমেনি খুচরা বাজারে। ফলে গতকাল বৃহস্পতিবারও বাংলাহিলি বাজারে এই পেঁয়াজ ৫৮-৬০ টাকায় কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের এই দামের কারসাজির মারপ্যাচে পড়েছেন বলে ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন।
ভারতের হিলি কাষ্টমস এক্সপোর্টার এন্ড ক্লিয়ারিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের সেক্রেটারী অশোক কুমার মন্ডল জানান, সম্প্রতি দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে অতিবৃষ্টি এবং বন্যার কারণে মারাত্মক ব্যাহত হয় পেঁয়াজ উৎপাদন। ফলে সেখানে হু হু করে বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম। একমাস আগে ২৫-৩০ রুপির প্রতি কেজি পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ রুপিতে। এমন পরিস্থিতিতে পেঁয়াজের রপ্তানি নিরুৎসাহিত করতে রপ্তানি মূল্য প্রতিমেট্রিক টন ৪৩০ মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি করে ৭০৫ ডলার করে ভারত সরকার। যা গত মঙ্গলবার থেকে কার্যকর করে। তারপরেও আমরা বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি অব্যাহত রেখেছি।
বন্দরের কাষ্টমস কার্যালয়, পানামা পোর্ট কর্তৃপক্ষ ও আমদানিকারক ব্যবসায়িরা জানান, দেশে উৎপাদনের মোট চাহিদার বেশি ভাগই পেঁয়াজ আমদানি হয় ভারত থেকে। ফলে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের মাধ্যমে বাজার স্বাভাবিক রাখা হয়। একারনে ভারত থেকে বেশি করে পেঁয়াজ আমদানি করছেন এই বন্দরের ব্যবসায়িরা। বন্দরের কাষ্টমসের সহকারি কমিশনার মো. সাইফুর রহমান জানান, গত ২২ আগষ্ট থেকে ২৬ আগষ্ট পর্যন্ত এই বন্দর দিয়ে প্রায় ১৭’শ মেট্রিকটন পেঁয়াজ দেশে আমদানি করা হয়েছে। প্রতিদিনই এ বন্দর দিয়ে দেশে ঢুকছে প্রায় ৪’শ মেট্রিকটন করে পেঁয়াজ। পেঁয়াজ আমদানিতে কোনো শুল্ককর নেই বলে জানান এই কর্মকর্তা।
বন্দরের আমদানিকারক ব্যবসায়ি মো. মোবারক হোসেন ও আজিজুল হক রেন্টু বলেন, ভারত সরকার পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রন করায় সেখানে কেজিতে কমেছে ১০ টাকার উপরে। এর প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। গত ২দিন আগেও যে পেঁয়াজ ৬০-৬২ টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা কমে ৪৮-৫০ টাকায় পাইকারি বিক্রি করা হচ্ছে। বাজার স্বাভাবিক রাখতে আমরা পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রেখেছি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আরও দাম কমবে বলে আশা এই ব্যবসায়িদের।
বাংলাহিলি বাজারের ব্যবসায়ি শহীদ উদ্দীন ও রেজাউল করিম জানান, বাজারে পেঁয়াজের আমদানি বেশি। সেই তুলনায় ক্রেতা কম। একারণে বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে। এখন ৫৩-৫৪ টাকায় পাইকারি দামে কিনে খুচরা ৫৮-৬০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে। আগে এই পেঁয়াজ ৬৫-৭০ টাকায় খুচরা বিক্রি করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাহিলি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, স্থানিয় ক্রেতারা ভারতীয় পেঁয়াজ ৫৮-৬০ টাকা দরে কিনছেন। কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করেন, পেঁয়াজের বাজার ব্যবস্থা তদারকি করা হচ্ছে না। গত মঙ্গলবার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম পাইকারি বাজারে কেজিতে ১০-১৫ টাকা কমে গেছে। কিন্তু খুচরা ব্যবসায়িরা এখনো দাম কমাইনি। একারণে ৫৮-৬০ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে।