মো. নুরুন্নবী বাবু (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুর জেলার হিলি (হাকিমপুর) সীমান্ত ঘেঁষা  খট্রা মাধবপাড়া ইউনিয়নের খট্রা মাধবপাড়া, বাজার পাড়া ও হরিকষ্টপুরর বটতলীসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে দিবালোকে চলছে ফেন্সিডিল, বিয়ার, হুইস্কি, গাঁজা  ও ইয়াবার রমরমা ব্যবসা। আর এতে সহযোগিতা করছে থানা পুলিশ ও হিলি(হাকিমপুর) ও বিরামপুর উপজেলার ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা।
সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, বিরামপুর, ফুলবাড়ী ও নবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পুরতান ও নতুন খাতকরা প্রতিনিয়ত মাইক্রো-প্রাইভেটকার, মোটর সাইকেল, অটো-বাইক ও রিক্সা-ভ্যান-যোগে  হিলি (হাকিমপুর) সীমান্ত ঘেঁষা  খট্রা মাধবপাড়া ইউনিয়নের খট্রা গ্রামের হাফেজ উদ্দিনের পুত্র মাহবুবর রহমান ওরফে মিল্টন(৪০) একই গ্রামের মৃতু: মফেজ উদ্দিনের পুত্র জাহান আলী (৩৮), বলরামপুর (বাজার পাড়া) গ্রামের মৃতু: আছমত আলীর পুত্র মিলন হোসেন(৩৫) ও একই গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের পুত্র আমিরুল ইসলাম(৪২) বাড়ীতে এবং হরিকৃষ্টপুর গ্রামের আজিদের পুত্র আনিসুর রহমান ওরফে আনিস মেম্বার(৩৬) হরিকৃষ্টপুর বটতলীর দোকানে এসে ফেন্সিডিল, বিয়ার, হুইস্কি, গাঁজা  ও ইয়াবা খাচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে দিবালোকে ফেন্সিডিল, বিয়ার, হুইস্কি, গাঁজা  ও ইয়াবার রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। মিল্টন, জাহান আলী, মিলন, আমিরুল ও আনিস মেম্বারের অন্য কোন বৈধ্য ব্যবসা না থাকলেও এখন অবৈধ মাদক ব্যবসা করে তারা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। এদিকে খট্রা গ্রামের ফেন্সি স¤্রাট মিল্টন তার তালাক প্রাপ্ত সু-দর্শনা শালিকাকে তার মাদক ব্যবসার সহযোগি হিসেবে রেখেছে। এ মাদকের ছোবলে ধ্বংস হচ্ছে এদেশের যুব সমাজ। আর প্রশাসন রয়েছে নীরব দর্শকের ভূমিকায়।
এলাকাবাসী জানান, বেশ কয়েকবার মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পার্বতীপুর, থানা পুলিশ, বিজিবি সদস্যরা মিল্টন ও আমিরুলের বাড়ি থেকে ফেন্সিডিল ,হুইস্কি ও বিয়ারসহ আটক করে লোক দেখানো ২/১টি মামলা দেয়। মামলার তারা অল্প কয়েক দিন পরে জামিনে এসে আবার মাদক ব্যবসায় জড়িযে পড়ে। এছাড়াও মাদক দ্রব্যসহ আটক করে মামলা না দিয়ে অনেক সময় টাকার বিনিময়ে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়ারও অনেক অভিযোগ রয়েছে। প্রকাশ্যে তারা দিনরাত মাদকের ব্যবসা চালিয়ে গেলেও তারা থেকে যাচ্ছে প্রশাসনের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তারা আরো জানান, ফেন্সিডিল ও মাদক ব্যবসায়ী চক্র শক্শিালী ও প্রভারশালী হওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে কিংবা প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। ভুক্তভোগি এলাকাবাসীর প্রশ্ন মিল্টন, জাহান আলী, মিলন, আমিরুল ও আনিস মেম্বারসহ এসব মাদক ব্যবসায়ীদের খুঁটির জোর কোথায়?
এসব মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে মাদকের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা মাদক বিক্রয়ের বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি না হলেও ফেন্সি স¤্রাট মিল্টন বীর দর্পে বলেন, আমি থানা পুলিশ, আবগারী(মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর), বিজিবি ও চেয়ারম্যান-মেম্বারকে ম্যানেজ করেই ব্যবসা করছি। এছাড়াও হিলি(হাকিমপুর) ও বিরামপুর উপজেলার ছাত্রলীগের সব ছেলে পেলে আমার এখানে খেতে আসে এবং সবাই আমার বন্ধু। এমন হিমমত কার আছে যে, আমাকে ধরবে কে?
এছাড়াও খট্রা ইউনিয়নের রায়ভাগ,নন্দিপুর,সাতকুঁড়ি গেট, সাতকুঁড়ি গ্রাম, ঘাসুড়িয়া মাধপাড়াসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্ট পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাদক ব্যবসায়ীদের ইজারা দিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। এই ইজারা প্রথা বন্ধ করা হলেই মাদকের রমরমা কারবার বন্ধ হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম জানান, মিল্টন, জাহান আলী, আমিরুল ও মিলনের মাদক ব্যবসার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি বেশ কয়েক বার তাদেরকে মাদক ব্যবসা না করার জন্য নিষেধ করেছি। কিন্তু, তারা আমার কথায় কর্ণপাত করেনি। আমি আমার এলাকা মাদকমুক্ত রাখতে সচেষ্ট।
এ বিষয়ে হিলি(হামিপুর) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান জানান, মিল্টন, জাহান আলী, মিলন, আমিরুল ও আনিস মেম্বারের নামে কয়েকটি মাদকের মামলা আছে। এলাকাবাসী সহযোগীতা না করলে আমরা কিভাবে এসব বন্ধ করতে পারব না। এলাকাবাসীর দাবী, যুব সমাজকে রক্ষা করতে মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হস্তে ব্যবস্থা নেয়া হলে মাদক ক্রয়-বিক্রয় ও সেবন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।