মো. নুরুন্নবী বাবু (দিনাজপুর২৪.কম) আমরাই করব-মানব পাচার প্রতিরোধ, মানব পাচার প্রতিরোধে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই, নিজ এলাকাকে মানব পাচার মুক্ত রাখব, এসো আমরা সবাই মানব পাচারকে না বলি- ইয়ুথ ফোরামের আয়োজনে মানব পাচার প্রতিরোধ ক্যাম্পেইনে এরকম অসংখ্য বার্তা উঠে আসে ইয়ুথদের লেখনীতে।  বুধবার বিকেলে দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলার খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নে ও গতকাল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা বাজারে মানব পাচার প্রতিরোধ ইয়ুথ ফোরামের আয়োজনে এবং রিলিফ ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় মানব পাচার প্রতিরোধ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠানটির সমন্বয়ে ছিল মানবাধিকার সংস্থা এ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভেলপমেন্ট-এসিডি। নিজ ইউনিয়নকে মানব পাচারমুক্ত রাখা, মানব পাচারের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানানো এবং নিরাপদ অভিবাসনে প্রক্রিয়াসমূহ প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া ছিল ক্যাম্পেইনের অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি মানব পাচারের শিকার ভিকটিমদের চিহ্নত করে সহযোগিতা প্রদানের জন্যও আহবান জানানো হয়। এক্ষেত্রে ইয়ুথরা যথাযথ ভূমিকা রাখবে বলেও ক্যাম্পেইনে বলা  হয়। এছাড়াও নিরাপদ অভিবাসনের প্রক্রিয়া জানতে হলে ইউনিয়ন ডিজিটেল সেন্টার উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা নেয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। মানব পাচারের হাত থেকে নিজেদেরকে সুরক্ষিত রাখা এবং পাচারকারীদের কাছ থেকেও সজাগ দৃষ্টি রাখবার বিষয়সমূহও ক্যাম্পেইনে উঠে আসে। ক্যাম্পেইনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইয়ুথ ফোরামের সদস্য ফাহিম বলেন, ‘সময় এসেছ মানব পাচারকে না বলার। আমাদের এলাকা থেকে একজন মানুষও যেন মানব পাচারের শিকার না হয় সেটি দেখবার দায়িত্বও আমাদের।’ অন্যদিকে দিনাজপুরের ইয়ুথ ফোরামের সদস্য ফারহানা বলেন, ‘অনেকেই শিশুদেরকে লোভ দেখিয়ে বাইরে নিয়ে যেতে চায়। যেহুতু আমাদের এলাকা সীমান্তবর্তী এলাকা- অবশ্যই শিশুদের দিকে খেয়াল রাখতে হবে যেন তারা পাচারকারীদের খপ্পরে না পড়ে যায়।’ ক্যাম্পেইনে অংশ নেন এসিডি’র প্রকল্প সমন্বয়কারী মো: রায়হানুল ইসলাম, ডিস্ট্রিক প্রোগ্রাম ফ্যসিলেটেটর সাকিম উদ্দীন, ফয়সাল মন্ডল প্রমূখ। ক্যাম্পেইনে বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা, কাজের চুক্তিপত্র, প্লেনের টিকিট, প্রশিক্ষণ গ্রহন সম্বলিত প্ল্যা-কার্ডের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়াসমূহ উপস্থাপন করে ইয়ুথ ফোরামের সদস্যরা।   দুই জেলার ক্যাম্পেইনে মানব পাচার প্রতিরোধ ইয়ুথ ফোরামের সদস্য, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশাজীবি প্রায় পাঁচ শতাধিক লোকজন অংশ নেন। পরে স্বাক্ষর প্রদানের মধ্য দিয়ে মানব পাচার প্রতিরোধে সকলে সম্মতি দেয় এবং মানব পাচার প্রতিরোধে কাজ করবার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।