স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরে আগাম আলু বাজারে আসতে শুরু করেছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন বেশি হওয়ায় দামও এবার বেশ কম। এদিকে অন্যান্য বছরের তুলনায় বর্তমান সময়ের মধ্যে হিমাগার থেকে আলু উত্তোলন শেষ হয়ে গেলেও এবারের চিত্র একেবারে ভিন্ন। নতুন আলু বাজারে আসার পর পুরনো আলুর দাম কমে যাওয়ায় হিমাগারগুলোতে লাখ লাখ বস্তা আলু পড়ে আছে। এ অবস্থায় আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছে দিনাজপুরের কৃষক, ব্যবসায়ী, এমনকি হিমাগার মালিকরাও। দিনাজপুরের বাজারে ওঠা নতুন আলুর মধ্যে গেনলা আলু খুচরা বাজারে ৩০ টাকা ও দেশি আলু ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে পুরনো আলু খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রকার ভেদে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। এ ক্ষেত্রে পুরনো আলুতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে অন্তত আট টাকা। দিনাজপুরের ১৩টি হিমাগারে এক লাখ ১১ হাজার ৪২০ মেট্রিক টন আলু মজুদ করে রাখে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। সাধারণত এ সময়ের মধ্যে আলু উত্তোলন করে ফেলা হয়। অথচ এবার এখনো অর্ধেক আলুও উত্তোলন করা হয়নি। বাজারে এখন এসব আলুর চাহিদাও কমে গেছে।
দিনাজপুর জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. তৌহিদুল ইকবাল জানান, গত মৌসুমে জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৩ হাজার হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল আট লাখ ৬০ হাজার টন। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছিল ৪৮ হাজার ৯১৪ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনও বেড়ে হয়েছে ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৬১৭ টন। আর এবার দিনাজপুরে আগাম জাতের আলু চাষ হয়েছে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে। জেলায় সরকারি-বেসরকারি মিলে ১৩টি হিমাগার রয়েছে। এসব হিমাগারে আলু সংরক্ষণ ধারণ ক্ষমতা রয়েছে এক লাখ ১১ হাজার ৪২০ টন। আলু চাষিরা জানায়, গত মৌসুমে তারা কেউ দুই বিঘা, কেউ পাঁচ বিঘা, আবার কেউ ১০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। এর মধ্যে কিছু বিক্রি করে বাকি আলু মজুদ করে এখন লোকসান গুনতে হচ্ছে।
বিরল উপজেলার মাঝাডাঙ্গা গ্রামের ফরিদুল ইসলাম জানান, বাজারে আলুর দাম না থাকায় গত মৌসুমে হিমাগারে রাখা আলু তিনি এখনো তোলেননি। আর তুলবেন কি না তাও ভাবতে পারছেন না। কারণ নতুন আলু বাজারে এসে গেছে। অন্যদিকে বিদেশি আলু ক্ষেত থেকেই ১০ থেকে সাড়ে ১০ টাকা ও দেশি জাতের আলু কিনেছেন ১২ টাকা দরে। সেই আলু পরিবহন ও হিমাগারে রাখা নিয়ে খরচ পড়েছে প্রকার ভেদে ১৪ থেকে ১৬ টাকা। আর বর্তমান বাজারে পুরনো (বিদেশি) আলু পাইকারি বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ছয় টাকায় আর দেশি আলু আট টাকায়। এ ক্ষেত্রে কেজিতে লোকসান গুনতে হচ্ছে আট টাকা। এ অবস্থায় হিমাগার থেকে আর আলু তুলছে না কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। আলু তোলা হচ্ছে এখন শুধুই বীজের জন্য। জেলার বীরগঞ্জ এক হিমাগারের ব্যবস্থাপক জানান, তাঁদের হিমাগারটিতে এক লাখ ১০ হাজার বস্তা আলু ছিল। এখনো ৪৩ হাজার বস্তা আলু সেখানে রয়ে গেছে। অথচ আগাম জাতের আলু বাজারে চলে এসেছে। এ অবস্থায় দ্রুত পুরনো আলু বিক্রি না হলে ২০১৩ সালের মতো ১০০-১৫০ টাকা বস্তা দামে বিক্রি করতে হবে। তিনি আরো বলেন, এ অবস্থায় হিমাগার মালিকদের কপালেও ভাঁজ পড়েছে। কারণ আলুর জন্য আগাম ঋণ দেওয়া আছে। আলু উত্তোলন না হলে এ ঋণ তোলা সম্ভব নয়। আবার দীর্ঘদিন আলু হিমাগারে থাকলে বিদ্যুতের বিল বাড়বে। সবশেষে নতুন আলু বাজার দখল করায় হিমাগারে রাখা পুরাতন আলু নিয়ে বিপাকে সবাই।