স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর২৪.কম)  দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) খামারে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উট পাখিটি ডিম দিতে শুরু করেছে।  হাবিপ্রবির ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্স অনুষদের অডিটরিয়াম-২ এর পার্শ্বে গড়ে তোলা হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পাখি উট পাখি সহ বিভিন্ন প্রজাতির পশু পাখির খামার। সেই খামারে গত ১লা ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রথমবারের মত ডিম দিয়েছে একটি মা উটপাখি। প্রধান গবেষক ও জিনেটিক্স এন্ড এনিমেল ব্রিডিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আব্দুল গফ্ফার মিঞা জানান, ১লা ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মত ডিম দিয়েছে ১টি উটপাখি। ডিমটির ওজন ১ কেজি ১০০ গ্রাম। মরুভূমির জাহাজ খ্যাত উটপাখি বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তাদের বৃদ্ধি হতে কোনো সমস্যাা নেই। ডিম পাড়ার মধ্যে দিয়ে আমরা নতুন সফলতা দেখতে পাচ্ছি। ১টি উটপাখি বছরে ২০-১০০টি ডিম পাড়ে। দেশে আমিষের চাহিদা মেটানোর জন্য বাণিজ্যিকভাবে উটপাখি খামার করার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। ১টি উট পাখির ৭ দিনের বাচ্চার দাম ১৫-২০ হাজার টাকা। উট পাখির মাংস পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। এদের খাদ্য সহজলভ্য। এরা আলফা ও নেপিয়ার ঘাস, ইপিলিপি ও ডুমুর গাছের পাতা, জাত নিমের পাতা, বাধাকপি-ফুলকপি, লালশাক, পালং শাক ও পোল্ট্রি ফিড ও পাথরের গুড়া খেয়ে থাকে। এ কারণে গরুর চেয়ে উটপাখি পালন বেশি লাভজনক হবে। কারণ উটপাখি ৩০-৪০ বছর উৎপাদন ক্ষমতা থাকে। এরা ৮০-১০০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে। আর দৈহিক বৃদ্ধি ও বাচ্চা (ডিম) উৎপাদন গরু-ছাগলের চেয়ে তুলনামুলকভাবে অনেক বেশি। ফলে বাণিজ্যিক ভাবে উটপাখির খামার বাংলাদেশে লাভজনক হবে। অপরদিকে বিকল্প প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়াবে। হাবিপ্রবির জেনিটিক এন্ড এনিমেল ব্রিডিং বিভাগ পিএইচডি ফেলো মো. আহসান হাবিব জানান, ২০১৬ সালে অক্টোবর মাসের দিকে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ২ মাস বয়সের উটপাখির ছানা আনা হয়েছিল হাবিপ্রবিতে। এখন ছোট ১৫টি ও বড় ৪টি মিলে ১৯টি উটপাখি রয়েছে। উট পাখির প্রাপ্ত বয়স্ক হতে প্রায় আড়াই বছর লাগে এবং সেই সময় তারা ডিম পাড়ে। একেকটি ডিম দেড় থেকে ২টি পর্যন্ত হয়। বছরে একেকটি উট পাখি ২০-১০০টি ডিম পারে। প্রাপ্ত বয়স্ক ১টি উট পাখির মাংস ২ মণ ও তার বেশিও হতে পারে।
এ খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা হাবিপ্রবিতে উট পাখি সহ ডিমটি দেখার জন্য প্রতিদিন ভিড় করছে।