(দিনাজপুর২৪.কম) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্তাদের সঙ্গে বিদায়ী আলোচনাতে কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে তুলে ধরেন তার হঠাৎ করে টাইগারদের কোচের দায়িত্ব ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। একই সময় তিনি জমা দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের রিপোর্টও। সদ্য বিদায়ী এ কোচের সঙ্গে আলোচনা শেষে নাজমুল হাসান পাপন গতকাল রাতে সংবাদ মাধ্যমের সামনে বলেন, ‘তার সঙ্গে আমাদের অনেক কথা হয়েছে। সেখানে সিইও ছিল, ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন ছিল। আমার সঙ্গে ছিল একেবারেই সৌজন্য সাক্ষাৎ। একবার ভেবেছিলাম দেখা হবে না তারপর ভাবলাম এতদিন যখন থেকেছে কথা বলি।

পদত্যাগের কারণ যা বলেছে তা আগে জানতাম না বললে ভুল হবে। আগেই জানতাম অনেকটা। এর মধ্যে নির্দিষ্ট করে যে কয়েকটা কথা বলেছে তার মধ্যে আমাদের বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এগিয়ে যেতে কী কী করণীয় ও কী কী প্রতিবন্ধকতা আছে সেগুলো তুলে ধরেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নিয়ে প্রথম থেকেই একটু অসন্তোষ ছিল। খেলোয়াড়দের মানসিকতা নিয়ে তার কিছু সমস্যা ছিল। যেমন আমি বলি সাকিব যে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে না সেটিও সে মেনে নিতে পারেনি। সে একটু অন্য রকম মানুষ। তার কথা ছিল কেন সাকিব খেলবে না!
হাথুরুসিংহে কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর পরই সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ঝামেলা শুরু হয়। বিসিবির অনুমতি না নিয়ে ও কোচকে না জানিয়ে সিপিএলে যাওয়ার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে ছিলেন হাথুরুসিংহে। ঘটনার ধারাবাহিকতায় সাকিবকে অন্যান্য বিতর্কের কারণে ৬ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এরপর নানা সময়ে দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে তার দ্বন্দ্বের কথা শোনা যায়। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাওয়ার পর থেকেই। সাকিবকে নিয়ে কোচের কোনো আপত্তি ছিল কিনা প্রশ্নে নাজমুল হাসান বলেন, ‘সাকিব যে যাবে না এটা সে মেনে নিতে পারেনি। তার কথা ছিলো দেশের এত বড় একটা সিরিজে সাকিব কেন খেলবে না। পাশাপাশি ওখানে আরো এমন ঘটনা ঘটেছে যাতে তার মনে হয়েছে এ ধরনের দলকে আমার আর দেয়ার কিছু নেই, যা দেয়ার দিয়ে ফেলেছি। তাই আমার চলে যাওয়াই ভালো। সে মনে করেছে যেভাবে চলছে এভাবে চললে সে বাংলাদেশকে আর সামনে নিয়ে যেতে পারবে না।’
ফের হাথুরুসিংহের প্রশংসা করে বিসিবি প্রধান বলেন, ‘আপনারা জানেন সে যখন বাংলাদেশ দলের কোচ হয় তখন তাকে অনেকেই চিনতো না। সে কোনো নামকরা কোচ ছিলো না। অনেকে তার নামই কোনদিন শোনেনি। কিন্তু একটা স্ক্রিনিং প্রসেসের মধ্যে মনে হয়েছে ওই বাংলাদেশের জন্য আদর্শ কোচ। ও যতদিন ছিলো আমরা যা যা চাইছিলাম ও দিতে পারছিলো। আমাদের সঙ্গে একটা মিল ছিলো। তার অবদান আমরা সবসময়ই মনে রাখবো। তাকে আমরা একবারও বলিনি থেকে যেতে। সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় জানালে হয়তো বলতাম।’ -ডেস্ক