(দিনাজপুর২৪.কম) অবিশ্বাস্য। অমানবিক। হাতে কাটা পা নিয়ে মিছিল করছে অমানুষের দল। মুখে আবার জাতীয় শ্লোগান জয়বাংলা। এর আগে এরাই প্রতিপক্ষ একজনের পা ধারালো অস্র দিয়ে কুপিয়ে কেটেছে। এতেও সন্তুষ্ট নয়, মিছিল থেকে একজন বলছে, এভাবেই কেন মাথাটা কেটে আনা হলো না। সত্যিইতো মাথাটা কেটে আনলে সেটা হাতে নিয়ে মিছিল করা যেতো! অন্যরা বাপের বেটা বলে প্রশংসা করত। আফসোস।

সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের কাজ এটা! ভাবতেও গা শিহরে উঠে। শুরু হয় হৃদ কম্পন। মধ্য যুগের বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে এ চিত্র। ব্রাহ্মনবাড়িয়ার নবীনগরের ঘটনা এটি। গতকাল দলবেধে মানুষ নামের এসব প্রাণীর তাণ্ডব দেখেছে দেশবাসী। অন্যদিকে একই জেলার সরাইলেও হয়েছে দুদল গ্রামবাসীর শক্তি প্রদর্শন। দেশীয় অস্র নিয়ে তারা একে অন্যের উপর আক্রমন চালিয়ে উল্লাস করেছে। তাদের থামাতেও পুলিশকে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে হয়েছে। হায় সেলুকাস! কি বিচিত্র এ দেশ। শুধু কি তাই? না আরো আছে। যখন করোনার থাবায় কাবু বিশ্ব। দেড় লাখ ছুঁই ছুঁই লাসের সংখ্যা। দেশে দেশে চলছে লকডাউন। কারফিউ। সেখানে বাংলাদেশে করোনায় দুঃস্থ ও অসহায়দের জন্য বরাদ্দ করা চাল চুরিতে মেতে উঠেছে একদল জনপ্রতিনিধি। গতকালই ভোলার লালমোহনে এক ইউপি সদস্যের বাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আবিষ্কার করেছে চালের খনি। মাটি খুড়ে তা উদ্ধারও করা হয়েছে। শুধু ইউপি সদস্যের বাড়িতে নয়, চৌকিদারের বাড়িতেও এমন খনি পাওয়া গেছে। এসব কাজে জড়িত কোথাও কোথাও চেয়ারম্যানও। ইতিমধ্যে এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুই মেম্বারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়েও চাল আত্মসাতের দায়ে এক ইউপি সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়। ওদিকে গতকালই জামালপুরে ট্রাক ভর্তি ত্রাণের মালামাল লুট করে নিয়েছে জনতা। এসব জনতা যখন চোখের সামনে দেখছেন তাদের জন্য বরাদ্দ করা মালামাল তাদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে তখন তারা ভরসা হারিয়ে ফেলে। দিশাহারা হয়ে পড়ে। এ থেকেই হয়তো তারা নিজেরাই ট্রাক থামিয়ে ত্রাণের মাল নিয়ে যায়। কিন্তু এটাও অন্যায়। মহা অন্যায়। তারা অবশ্য বলেছে, ঘরে খাবার নেই। সরকার ত্রাণ দিচ্ছে শুনছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমরা ত্রাণ পাইনি। করোনা আমাদের পঙ্গু বানিয়ে দিয়েছে। কর্মহীন করে দিয়েছে। গোটা পৃথিবীর মানুষ জানে ভয়ঙ্কর করোনা মরণ ছোবল দিয়েছে। সবাইকে ঘরে ঠেলে দিয়েছে। এর কোন ওষুধ এখনো আবিষ্কার হয়নি। বিজ্ঞানীরা এর ভেকসিন আবিস্কারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। আপাতত এর একমাত্র ওষুধ ঘরে থাকা। যে যতবেশি ঘরে থাকবে সে ততবেশি নিরাপদ। এটা সবাই জানার পরও শক্তির মহড়ায় নামে। প্রকাশ্যে এমনভাবে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে পা কেটে নেয়ার পর উল্লাস করা, কাটা পা হাতে নিয়ে মিছিল করা কি কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব? কিন্তু ওরা তা পেরেছে। ওরা তাহলে কেমন মানুষ? সরাইল ও নবীনগরের দুটি ঘটনাই ঘটেছে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের লড়াই। মরনব্যাধি ভয়ঙ্কর করোনাও এদের রুখতে পারেনি। এই লকডাউনের মধ্যে মৃত্যুকে পাশে রখে এরপর কি দেখতে হয় কে জানে। -সূত্র : ম. জমিন