dinajpur.dinajpur24মো. নুরুন্নবী বাবু (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার বোয়ালদাড় ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান সুজন খুনের ২৪দিন অতিবাহিত হলেও প্রধান হত্যাকারি বাবা ও ছেলেকে আজও গ্রেপ্তার করতে পারেনি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এনিয়ে যুবলীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। দিন যতই যাচ্ছে, সুজন খুনের ঘটনা ধামাচাপায় পড়ছে। সুজন বৈগ্রাম যুব ক্লাব ও লাইব্রেরীর সভাপতিও ছিলেন।
এদিকে হত্যাকারিদের সাথে স্থানিয় এক সাংবাদিকের নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠায় হত্যাকারিদের গ্রেপ্তারে তথ্য ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। একারণে হত্যাকারিদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত ও তাদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না পুলিশ। বিভিন্ন সুত্রে জানাগেছে, হত্যাকারি রবিউল ইসলাম, তার ভাই রানা ও বাবা শফিকুল ইসলাম উপজেলার নওপাড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতের হাড়িপুকুরে রবিউলের শ্বশুড় বাড়িতে প্রথমে আশ্রয় নেয়। এরপর তারা সকলেই ভারতের ভিতরে পালিয়ে গিয়ে অবস্থান করছে।
উল্লেখ্য, গত ৬ আগস্ট সকাল ৭টার দিকে বৈগামে ‘বৈগ্রাম যুব ক্লাব ও লাইব্রেরীর’ নামে পুকুরটির মালিকানা দাবী ও কচুরিপনা পরিস্কার করা নিয়ে ক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সদস্যদের সঙ্গে একই গ্রামের প্রতিপক্ষ শফিকুল, রবিউল ও এনামুলের মধ্যে বাক-বিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ রবিউল ইসলামের লাঠির আঘাতে খুন হন সুজন। আহত হন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা। এসময় তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার পক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে প্রতিপক্ষ শফিকুলের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা বাড়ি-ঘর গুড়িয়ে দিয়ে আসবাবপত্র ভাংচুর করে। একপর্যায়ে বাড়িটি অগ্নিসংযোগ করে জ্বালিয়ে দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
হাকিমপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমরানুল কবির জানান, নিহত সুজনের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছে। ওই ঘটনায় মামলার এজাহারভূক্ত এ পর্যন্ত মহিলা সহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর গত ১২ আগস্ট মামলাটির অধিকতর তদন্তের জন্য দিনাজপুর ডিবি পুলিশের কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি আমিরুল ইসলাম লিটন জানান, উপজেলা যুবলীগের আয়োজনে বৈগ্রামে ‘বৈগ্রাম যুব ক্লাব ও লাইব্রেরি’ প্রাঙ্গণে গত ১২ আগস্ট বিকেলে সুজন খুনের আসামীদের গ্রেপ্তারে সভা-সমাবেশ করেছে যুবলীগ, আওয়ামী লীগ সহ সকল অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। কিন্তু তারপরেও গত ২৪দিন অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু ডিবি পুলিশ এ হত্যা মামলার প্রধান আসামী রবিউল ও তার বাবা সহ অন্যান্যদের এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। হত্যাকারিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে আমরা আন্দোলনের ডাক দিবো বলে জানান এই নেতা।
একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র ও স্থানিয় যুবলীগের কয়েকজন নেতা জানান, বদিউজ্জামান সুজনের হত্যাকারি শফিকুল ও তার ছেলে রবিউলের সাথে স্থানিয় এক সাংবাদিক এখনো নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। সুজনকে হত্যার আগের রাতেও শফিকুলকে ওই সাংবাদিকের সাথে দেখা গেছে। এ হত্যা নিয়ে পুলিশ, ডিবি এমনকি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কি প্রদক্ষেপ বা কৌশল করছে তার সব কিছুই আসামী শফিকুল ও তার ছেলে রবিউলকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ওই সুত্রের দাবি, একারণে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী হত্যাকারি বা আসামীদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছে না। ফলে গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হচ্ছে পুলিশ। আসামীদের সাথে কথিত ওই সাংবাদিকের এই গোপন যোগাযোগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠায় স্থানিয় যুবলীগ, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং খোদ পুলিশ প্রশাসন বিব্রত বোধ করছে।
দিনাজপুর গোয়েন্দা পুলিশের এস আই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বজলুর রশীদ জানান, গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনের মধ্যে কাজেম আলীকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। কিন্তু কাজেমের কাছ থেকে এব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান তিনি।
এব্যাপারে জানতে চাইলে দিনাজপুর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিরুজ্জামান জানান, চাঞ্চল্যকর সুজন হত্যা মামলার মুল আসামী সহ এ হত্যায় আশ্রয়- প্রশ্রয়দাতাদের গ্রেপ্তারে সম্ভাব্য সব চেষ্টা করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করে আইনে আওতায় আনতে ডিবি পুলিশ তৎপর রয়েছে। এ হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন অনেকের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।